
ভারতের জার্সিতে টেস্টে তাঁর চেয়ে বেশি রান আছে চারজনের। চার কিংবদন্তি—শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, সুনীল গাভাস্কার ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। এর মধ্যে লক্ষ্মণ ছাড়া বাকি তিনজনই টেস্টে ১০ হাজার রানের সংগ্রাহক, ১৩ ব্যাটসম্যানের তালিকায় উজ্জ্বল এই তিন নাম। বীরেন্দর শেবাগের আক্ষেপ, এ তালিকায় তাঁর নামও থাকতে পারত, যদি না তাঁকে ভারতের টেস্ট দল থেকে বছরখানেকের জন্য বাদ দেওয়া না হতো।
ভারতের জার্সিতে টেস্টে প্রথম ত্রিশতক হাঁকানোর কীর্তি গড়া শেবাগের দীর্ঘ সংস্করণের এ ক্রিকেটে রেকর্ড আহামরি না হলেও একেবারে খারাপও নয়। ১০৪ ম্যাচে ৮ হাজার ৫৮৬ রান, গড় ৫০ ছুঁই ছুঁই (৪৯.৩৪), শতক ২৩টি। কিন্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দর্শকমন রাঙানো শেবাগেরই আফসোস ১০ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছাতে না পারার।
অত সময় দলের বাইরে না থাকলে টেস্টে আমার রান ১০ হাজারের বেশি হতোবীরেন্দর শেবাগের আফসোস
২০০৭ সালের জানুয়ারি। গ্রেগ চ্যাপেল তখন ভারতের কোচ। রাহুল দ্রাবিড় অধিনায়ক, শেবাগই সহ-অধিনায়ক। কিন্তু ফর্ম ভালো যাচ্ছিল না শেবাগের, বাদ পড়লেন। আবার ফিরতে ফিরতে ১১ মাস চলে গেছে!
‘হঠাৎই বুঝলাম আমি টেস্ট দলের অংশ ছিলাম না। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। অত সময় দলের বাইরে না থাকলে টেস্টে আমার রান ১০ হাজারের বেশি হতো’—ভারতের টিভি চ্যানেল স্পোর্টস ১৮-এর অনুষ্ঠান ‘হোম অব হিরোজ’-এ শেবাগের দীর্ঘশ্বাস।
সে সময়ে শেবাগের দলে ফেরাতেও অবশ্য একটা বড় নাটকীয়তা ছিল। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে কেপটাউনে নিজের ৫২তম টেস্ট খেললেন শেবাগ। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই দল থেকে বাদ পড়লেন। শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি দলেই সুযোগ হয়েছে সে সময়।
রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন, কিন্তু সেখানেও রানখরা শেবাগের পিছু ছাড়েনি। দিল্লির হয়ে ৫ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৬৬ রান। পরে একবার শেবাগ জানিয়েছিলেন, সে সময় অবসরের ভাবনাও তাঁর মাথায় এসেছিল, কিন্তু শচীন টেন্ডুলকার তাঁকে তেমন কিছু না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরেই আবার দলে ডাক পান শেবাগ। অথচ সেই বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির ২৪ জনের প্রাথমিক দলেও শেবাগ ছিলেন না! কিন্তু কাঁধের চোটের কারণে গৌতম গম্ভীর তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে গেলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চোখ আবার শেবাগের ওপরই পড়ে।
দলে ফেরার পর অবশ্য শেবাগের ব্যাটে রানও ফিরেছে। ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা ৩১৯ রানের ইনিংসটি এসেছে, নিজেদের তৃতীয় ত্রিশতকের সম্ভাবনা জাগানো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯৩ রানের ইনিংসও ছিল। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা দুই সেঞ্চুরির (কলকাতায় ১৬৫ ও নাগপুরে ১০৯) পর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও ওঠেন শেবাগ।