
‘বেন স্টোকস’—এই নামটা চিরকাল মনে রাখবে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট। গত বছর ইংল্যান্ড প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে, যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই অলরাউন্ডারের। এরপর অ্যাশেজে হেডিংলি টেস্টে তো রূপকথা লিখে জেতালেন দলকে। শেষ উইকেটে জ্যাক লিচকে নিয়ে ৭৬ রান যোগ করেন স্টোকস, যেখানে লিচের অবদান মাত্র ১। স্টোকস দলকে জিতিয়ে অপরাজিত ছিলেন ১৩৫ রানে।
শুধু ইংল্যান্ডের নয়, টেস্ট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ইনিংসের মর্যাদা পেয়ে গেছে স্টোকসের ওই ১৩৫ রান। সেদিন ইতিহাস তো মাঠে বসেই গড়েছেন স্টোকস। হেডিংলির সেই ‘অলৌকিক’ ইনিংসটাকে এবার দর্শকের চোখ নিয়েও দেখে নিলেন ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার। এবং তা দেখে মুগ্ধই হলেন স্টোকস।
করোনাভাইরাস বন্ধ করে দিয়েছে ক্রিকেট। খেলাধুলার আকালের এই দিনে সময় কাটাতে তাই নানা ফন্দিফিকির করতে হচ্ছে খেলাধুলা সম্প্রচার করা টেলিভিশন চ্যানেল ও ওয়েবসাইটগুলোকে। যুক্তরাজ্যের স্কাই স্পোর্টসকেও নামতে হয়েছে স্মৃতিচারণায়। গতকাল চ্যানেলটি বিশেষ এক আয়োজন করে বেন স্টোকসের সেই চিরায়ত ইনিংস নিয়ে।
ইংল্যান্ডের মহাকাব্যিক সেই রান তাড়ার ভিডিওটি স্টোকস, সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট, ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো ও আরেক অলরাউন্ডার ক্রিস ওকসকে নিয়ে দেখে স্কাই স্পোর্টস। স্টোকস-রুটরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন অনুষ্ঠানে।
নিজের ইনিংস দেখে নিজেই বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন স্টোকস। এতটাই যে শুরুতে মুখে কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না তিনি। একটু ধাতস্থ হওয়ার পর জানিয়ে দিলেন কালই প্রথম পুরো ইনিংসটির ভিডিও দেখলেন, ‘এই প্রথম ইনিংসের প্রতিটি বল দেখলাম। এটা সব সময়ই অসাধারণ এক স্মৃতি হয়ে থাকবে। জীবনের অন্যতম সেরা দিন।’
শুধুই ওই ইনিংসের কারণেই নয়, স্টোকস বললেন তিনি দিনটিকে মনে রাখবেন ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে আবহের জন্যও, ‘শুধু মাঠের স্মৃতিই নয়, একটি দল হিসেবেই আমাদের সেদিনের সব স্মৃতি মনে থাকবে। ড্রেসিংরুমটা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই খুব পবিত্র একটি জায়গা। আর সেই সন্ধ্যায় দিনের খেলা শেষে সেখানে রোমাঞ্চকর এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেদিন কী হয়েছিল সেই স্মৃতিটা আমাদের সবারই মনে থাকবে।’
বিখ্যাত সেই রান তাড়ার শেষ মুহূর্তে বিশাল এক ছক্কা মেরেছিলেন স্টোকস। সেই অংশটি যখন দেখানো হচ্ছিল উত্তেজনায় যেন কাঁপছিলেন স্টোকস, সাধারণ দর্শকের মতোই মুখে বলছিলেন, ‘যা, যা, যা’।
মহাকাব্যিক সেই ইনিংস খেলার পথে ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছিলেন স্টোকস। অস্ট্রেলিয়ার হাতে ডিআরএস থাকলে নাথান লায়নের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যেতে পারতেন। তবে স্টোকস মনে করেন তিনি আউট হতেন না, ‘লেগ সাইড দিয় বেরিয়ে যেত। বলটা তো স্পিনই করেনি! ’
তাঁর অধিনায়ক রুট অবশ্য স্টোকসকে ভাগ্যবানই ভাবছেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেইন এর আগে যে রিভিউ নষ্ট করেছেন সেটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে মনে করেন রুট, ‘আমাকে যদি বলতে বলেন বলব এটি (পেইনের রিভিউ) সর্বকালের সেরা সিদ্ধান্ত! যে ভুলটা করেছেন তাতে তো মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার অবস্থা হওয়ার কথা।’