হায়দরাবাদকে আটকে দেওয়ার মূল কাজটা করেছেন চেন্নাই বোলাররা
হায়দরাবাদকে আটকে দেওয়ার মূল কাজটা করেছেন চেন্নাই বোলাররা

হায়দরাবাদকে ছিটকে দিয়ে সবার আগে প্লে-অফে চেন্নাই

মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই আগের মৌসুম শেষ করেছিল ৮ দলের মধ্যে সপ্তম হয়ে। আইপিএলে নিজেদের ইতিহাসে সেই প্রথমবার শেষ চারের আগেই থামতে হয়েছিল তাদের। এবার স্থগিত হয়ে যাওয়ার আগে শেষ ম্যাচে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ২১৮ রান করেও হেরেছিল তারা। আইপিএলের পরের অংশ শুরু হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেই মুম্বাইয়ের বিপক্ষেই আগে ব্যাটিং করে প্রথম ম্যাচে চেন্নাই পরিণত হলো ৭ রানে ৩ উইকেট। সেখান থেকেও সে ম্যাচটা জিতল চেন্নাই, এরপর ছুটতে শুরু করল। এরপর টানা চার জয়ে এবারের মৌসুমে সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করল চেন্নাই।

হায়দরাবাদের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে টেবিলের শীর্ষে থাকা চেন্নাইয়ের সমীকরণ ছিল এমন—জিতলেই নিশ্চিত প্লে-অফ। অন্যদিকে হারলে প্লে-অফ খেলার টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আশাটুকুও শেষ হয়ে যাবে হায়দরাবাদের। শারজার ধীরগতির, নিচু বাউন্সের উইকেটে হায়দরাবাদকে ১৩৪ রানে আটকে দিয়ে মূল কাজটা করে রাখলেন চেন্নাই বোলাররা। এরপর রুতুরাজ গায়কোয়াড়, ফাফ ডু প্লেসি দেখালেন, এমন উইকেটেও কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়। শেষ দিকে হায়দরাবাদ একটু লড়াই করলেও যথেষ্ট হয়নি সেটা।

রানতাড়ায় ওপেনিংয়ে ৭৫ রান তোলেন গায়কোয়াড় ও ডু প্লেসি। ১১তম ওভারে গিয়ে জেসন হোল্ডারের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে গায়কোয়াড় করেন ৪ চার ও ২ ছয়ে ৩৮ বলে ৪৫ রান। মঈন আলীর সঙ্গে ডু প্লেসির জুটির সময় চেন্নাইয়ের জয় মনে হচ্ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। ১৫তম ওভারে রশীদ খান এসে ফেরালেন মঈনকে। পরের ওভারে নিজের স্পেলের শেষ ওভার করতে এসে হোল্ডার করলেন জোড়া আঘাত—৩ বলের ব্যবধানে সুরেশ রায়না ও ডু প্লেসিকে ফিরিয়ে।

ওপেনিং জুটিতেই চেন্নাই তোলে ৭৫ রান

ভুবনেশ্বর কুমার ও সিদ্ধার্থ কৌলের আঁটসাঁট ২ ওভারে রোমাঞ্চ বাড়ল আরেকটু। তবে আম্বাতি রাইডু ও ধোনির ব্যাটিং সে রোমাঞ্চে জল ঢেলেছে। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতে কৌলকে ছয় মেরে চেন্নাইয়ের জয় নিশ্চিত করেছেন ধোনি। চেন্নাই অধিনায়ক অপরাজিত ছিলেন ১১ বলে ১৪ রান করে, রাইডুর রান ছিল ১৩ বলে ১৭।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। জশ হ্যাজলউডকে সামনে এসে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন আগের ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ জেসন রয়, ৭ বলে ২ রান করে। এর আগের ওভারে দীপক চাহারকে দুই ছয় মেরেছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। রয়ের উইকেটের পর অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ঋদ্ধিমানের পুনর্গঠনের চেষ্টা অবশ্য খুব একটা এগোয়নি। সপ্তম ওভারে আউট হয়েছেন উইলিয়ামসন, এর আগে পাওয়ার প্লেতে হায়দরাবাদ তুলেছে ৪১ রান। ডোয়াইন ব্রাভোর ফুল লেংথের বলে বোকা বনে এলবিডব্লু হন হায়দরাবাদ অধিনায়ক।

ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করেছেন ধোনি

ব্রাভো পরের উইকেটটা এসেছে শর্ট লেংথের বলে। সামনে এসে জোরের ওপর খেলতে গিয়ে খাড়া ওপরের দিকে ক্যাচ তুলেছেন প্রিয়াম গার্গ, ১০ বলে ৭ রান করেই। ঋদ্ধিমান নবম ওভারে ব্যক্তিগত ২৯ রানের সময় একবার ক্যাচ তুলেও বেঁচেছিলেন শার্দুল ঠাকুর নো বল করায়। দ্বিতীয় জীবনে অবশ্য আর ১৬ রান করতে পেরেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্র জাদেজার বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে তাঁর ইনিংস, ৪৪ রান করতে খেলেছেন ৪৬ বল।

মাঝে অভিষেক শর্মা ও আবদুল সামাদের ২৪ বলে ৩৫ রানের জুটিতে হায়দরাবাদের রানের গতি বেড়েছিল একটু। দুজনই করেছেন ১৮ করে রান, শর্মা খেলেছেন ১৩ বল, সামাদ ১৪ বল। অবশ্য জশ হ্যাজলউডের করা ১৭তম ওভারেই ক্যাচ দেন দুজন। এরপর রশীদ খানের ১৩ বলে ১৭ রানের ইনিংসে শেষ ২ ওভারে ১৯ রান তোলে হায়দরাবাদ, তবে ১৩৪-এর ওপর যাওয়া হয়নি তাদের। ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদকে আটকে দেওয়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন হ্যাজলউড। ২ উইকেট নিতে মাত্র ১৭ রান খরচ করেছেন ডোয়াইন ব্রাভো। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর ও রবীন্দ্র জাদেজা।