৮০ মাইলের লেগ স্পিনারে বিধ্বস্ত ভারত

অ্যান্ডারসনের সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ভারতের টপঅর্ডার। ছবি: এএফপি
অ্যান্ডারসনের সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ভারতের টপঅর্ডার। ছবি: এএফপি
>লর্ডস টেস্টে কাল আউট সুইংয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। ইংলিশ এই পেসার ৫ উইকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অনন্য এক মাইলফলকের সামনে

আগের দিন ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। দ্বিতীয় দিনেও তিনবার হানা দিয়েছে বৃষ্টি। উইকেট তাই এমনিতেই একটু সিক্ত ছিল। তাতে সুইংয়ের উসকানি ছড়িয়েছে মাথার ওপর মেঘাচ্ছন্ন কালো আকাশ আর ডিউক বল। সুইং বোলিংয়ের জন্য একেবারে আদর্শ কন্ডিশন। এমন পরিস্থিতিতে বলটা একজন জাত সুইং বোলারের হাতে তুলে দেওয়া হলে কী ঘটতে পারে? উত্তরটা খুঁজতে ভারত স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাচ্ছে। অ্যান্ডারসনের এই আউট সুইঙ্গারের প্রদর্শনীতেই ভারত প্রথম ইনিংসে লর্ডসে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোরে (১০৭) অলআউট!

আর এই বোলিং দেখার পর ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান ও ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া টুইট করেছেন, ‘অ্যান্ডারসন তো ঘণ্টায় ৮০ মাইল গতিতে লেগ স্পিন করছে!’

আকাশ চোপড়া এতটুকু বাড়িয়ে বলেননি। আউট সুইংয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন এই ইংলিশ পেসার। সেটিও যেততেন আউট সুইং নয়, ইয়া বড় বড় সব বাঁক। ৩৬ বছর পাড়ি দিয়েও অ্যান্ডারসন কাল বুঝিয়ে দিয়েছেন, ডেভিড বেকহামের অনুকরণে কেন তাঁকে নিয়ে বলা হয় ‘বেন্ড ইট লাইক অ্যান্ডারসন’। প্রায় সারাক্ষণই পাঁচ স্লিপ ও এক গালি নিয়ে বল করে গেছেন। গ্যালারি থেকে তাঁকে তাতিয়েছেন ইংরেজ সমর্থকেরা। আর তাতিয়ে ওঠা অ্যান্ডারসনে পুড়ে ছারখার ভারতের ব্যাটসম্যানরা।

অ্যান্ডারসনের লেট সুইং যতটুকু সামলানোর তা শুধু বিরাট কোহলিই সামলেছেন। সাপের ফণার মতো বাঁক নিয়ে উঠে আসা ডেলিভারিগুলো দেরিতে খেলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। দাঁড়িয়েছেন ক্রিজের খানিকটা বাইরে, যেন তুলনামূলক কম সুইংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু টপঅর্ডারে বাকিরা—মুরালি বিজয়, লোকেশ রাহুল, অজিঙ্কা রাহানেরা অ্যান্ডারসনের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি।

অ্যান্ডারসনের বেশির ভাগ ডেলিভারি মাঝস্টাম্প বরাবর পিচ করে শাঁ শাঁ করে বেরিয়ে গেছে অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে। এতেই বোকা বনেছেন মুরালি বিজয়। বলের সিম ফাইন লেগ বরাবর রেখে ফুল লেংথ ডেলিভারি ছেড়েছিলেন অ্যান্ডারসন। বিজয় কবজির মোচড়ে ‘ফ্লিক’ করার লোভ সামলাতে পারেননি। কিন্তু ওটা ছিল ফাঁদ। বলটা তাঁর ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হেনেছে স্টাম্পে। রাহুল অবশ্য নিরন্তর আউটসুইঙ্গারে ধৈর্যহারা হয়েই ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। রাহানেও তাঁর ব্যাটের কানা বাঁচাতে পারেননি অ্যান্ডারসনের সুইং থেকে।

ভারতের টেল-এন্ডারে কুলদীপ যাদব আর ইশান্ত শর্মাকেও তুলে নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ২৬তমবারের মতো এক ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নেন অ্যান্ডারসন। লর্ডসের ২২ গজে এদিন কী পরিমাণ সুইং করেছে, তা একটা পরিসংখ্যানে বুঝিয়ে দেওয়া যায়—বিশ্বের অন্যান্য মাঠে যেখানে গড় সুইং ০.৯৩ ডিগ্রি, ইংল্যান্ডে সেখানে এমনিতেই ১.১৭ ডিগ্রি—অর্থাৎ বেশি সুইং হয়। কিন্তু কাল মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে অ্যান্ডারসন-ওকসরা গড়ে সুইং করিয়েছেন ১.৭১ ডিগ্রি। অ্যান্ডারসনই যে এই সুইং প্রদর্শনীর নাটের গুরু, তা বলাই বাহুল্য।

অ্যান্ডারসন নিজেও দাঁড়িয়ে দারুণ এক মাইলফলকের সামনে। লর্ডসে ২৩ টেস্টে এ পর্যন্ত তাঁর উইকেটসংখ্যা ৯৯। আর মাত্র ১ উইকেট পেলেই টেস্ট ইতিহাসের প্রথম পেসার হিসেবে কোনো মাঠে ১০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক গড়বেন অ্যান্ডারসন। সেটি যে এই লর্ডস টেস্টেই ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে হচ্ছে, তা এখনই আন্দাজ করা যায়।

ভারতের ইনিংস রিপোর্ট পড়ুন এখানে