২৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার শেষ সফরের পর পাল্টে গেছে কত কিছু। অজস্র পালাবদলের মধ্য দিয়ে গেছে ক্রিকেট, এই পৃথিবী। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া—দুই দলের খেলোয়াড়দের কাছেই যেন এ এক নতুন অভিজ্ঞতা।
পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট লড়াইয়ের ইতিহাস ৬৬ বছরের পুরোনো। এই দ্বৈরথ জন্ম দিয়েছে দারুণ সব ঘটনার। পাকিস্তানের মাটিতে এই দুই দলের প্রথম টেস্ট সাক্ষী হয়ে আছে অনন্য এক ইতিহাসের, যেটি টেস্টে ধ্রুপদি গাথার অংশ। ১৯৫৬ সালে দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত টেস্টে এক দিনে মাত্র ৯৫ রান উঠেছিল স্কোরবোর্ডে। পড়েছিল ১২ উইকেট। টেস্টের রেকর্ড বইয়ে এখনো এটি গোটা দিন খেলা হওয়ার পর সবচেয়ে কম রানের রেকর্ড।
১৯৫৬ সালের অক্টোবরে একটি টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল পা রাখে পাকিস্তানে। সেই টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল করাচিতে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন ইয়ান জনসন, পাকিস্তানের আবদুল হাফিজ কারদার। অস্ট্রেলিয়ার সেই দলে ছিলেন নিল হার্ভে, কিথ মিলার ও রিচি বেনোর মতো কিংবদন্তিরা। পাকিস্তান দলেও কিংবদন্তি কম ছিলেন না। কারদার তো ছিলেনই, ফজল মাহমুদ, খান মোহাম্মদ, হানিফ মোহাম্মদ, ইমতিয়াজ আহমেদরা ছিলেন সে দলে।
করাচিতে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। বিমানের সূচি জটিলতা দেরির কারণ। টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে করাচিতে পৌঁছায় তারা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিয়েছিলেন জনসন। কিন্তু করাচির ম্যাটিং উইকেটে অস্ট্রেলিয়া পড়ে যায় দুই পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ফজল মাহমুদ ও খান মোহাম্মদের তোপের মুখে। ভ্রমণক্লান্তি বলুন কিংবা ম্যাটিং উইকেটে অনভ্যস্ততা—যে কারণেই হোক, অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনই গুটিয়ে যায় মাত্র ৮০ রানে। ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ ফাস্ট বোলার ফজল মাহমুদ ৩৪ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন খান মোহাম্মদ। শেষ বিকেলে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানও ছিল অস্বস্তিতে। ১৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কোনোমতে দিন শেষ করেন হানিফ মোহাম্মদ-আলিমুদ্দিন-গুল মোহাম্মদ-ইমতিয়াজ আহমেদরা।
টেস্টের একটি নির্দিষ্ট দিনে স্কোরবোর্ডে মোট ৯৫ রান, ১২ উইকেট। পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার করাচি টেস্টের প্রথম দিন এর মধ্য দিয়ে স্থান করে নেয় ইতিহাসে। এখনো পর্যন্ত টেস্টের এক দিনে এটি সবচেয়ে কম রান ওঠার রেকর্ড।
সে ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছিল সহজেই। দ্বিতীয় দিন তাঁরা নিজেদের সংগ্রহকে নিয়ে যায় ১৯৯-তে। ওয়াজির মোহাম্মদ ৬৭ ও কারদার করেন ৬৯। জনসন ৫০ রানে নেন ৪ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে অলআউট হয় ১৮৭ রানে। রিচি বেনোর ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫৬। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসেও আগুন ঝরান ফজল মাহমুদ। তিনি এবার নেন ৮০ রানে ৭ উইকেট, খান মোহাম্মদ ৬৯ রানে নেন ৩ উইকেট।
ম্যাচটি ৯ উইকেটে জিতেছিল পাকিস্তান। হানিফ মোহাম্মদ দ্রুত ফেরার পর আলিমুদ্দিন ও গুল মোহাম্মদের একটি জুটিই যথেষ্ট ছিল পাকিস্তানের জয়ে।