এভাবে বোল্ড হওয়ার পরও বেঁচে যান বেনেট
এভাবে বোল্ড হওয়ার পরও বেঁচে যান বেনেট

তোয়ালে যেভাবে বাঁচিয়ে দিল বোল্ড হওয়া ব্যাটসম্যানকে

ক্রিকেট মাঠে কতভাবেই না বেঁচে যান ব্যাটসম্যান! তবে এবার যা ঘটল, তা একটু অন্য রকম। স্টাম্প ভেঙে দিয়েও ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠাতে পারলেন না বোলার। আর এর পেছনে দায়ী একটি তোয়ালে! কাল আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ম্যাচে এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে।

আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়েছিলেন ব্রায়ান বেনেট। কিন্তু সাজঘরে ফেরার বদলে তিনি পেয়েছেন নতুন জীবন। কারণ, বল করার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল!

কী ঘটেছিল?

ঘটনাটি জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অষ্টম ওভারের। বল করছিলেন ওমরজাই। তাঁর বল সরাসরি আঘাত হানে বেনেটের স্টাম্পে। বোলার-ফিল্ডারদের উদ্‌যাপনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু বেনেট দাবি করেন, বল খেলার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল। আর এতে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। নন–স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও বিষয়টি আম্পায়ারের নজরে আনেন।

আম্পায়ার এহসান রাজা লেগ আম্পায়ার ফারুক খানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই আসে সিদ্ধান্ত—ডেড বল!

অর্থাৎ, বোল্ড হয়েও আউট হলেন না বেনেট।

আইনে কী বলা আছে?

আইসিসির ছেলেদের ওয়ানডে খেলার প্লেয়িং কন্ডিশনের ২০.৪.২.৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান বল খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কিংবা বল খেলার সময় কোনো শব্দ, নড়াচড়া বা অন্য কোনো কারণে বিভ্রান্ত হলে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করতে পারেন। সেই বিভ্রান্তির উৎস মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরেও হতে পারে।

বেনেটের ক্ষেত্রে ওমরজাইয়ের রানআপের সময় তোয়ালে পড়ে যাওয়াকে ব্যাটসম্যানের মনোযোগে ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বোল্ড হওয়ার পরও তাঁকে ফিরে যেতে হয়নি সাজঘরে।

তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে ছিল ভিন্নমত। একজনের মতে, বেনেটের উচিত ছিল বল খেলার আগেই সরে যাওয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বোঝাপড়া অনুযায়ী, ব্রায়ান বেনেটের স্ট্রোক খেলার আগে সরে যাওয়া উচিত ছিল। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি শট খেলেছেন, বোল্ড হয়েছেন, এরপর বিষয়টি তুলেছেন।’

বেনেট শেষ পর্যন্ত আউট হন ৩১ রান করে, এই ছবিতে তাঁর সঙ্গী সিকান্দার রাজা

অন্য ধারাভাষ্যকার অবশ্য সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে তোয়ালে পড়ে গেলে ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট যুক্তিসংগত। শেষ কয়েক সেকেন্ডে তোয়ালে পড়ে যাওয়াটা ব্যাটসম্যানের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। বেনেট বিষয়টি আম্পায়ারকে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয়, বাস্তববুদ্ধির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।’

এভাবে বেঁচে গিয়েও বেনেট কাল ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৩১ রানে ম্যাচের ১৩তম ওভারে আউট হন। তাঁর দল জিম্বাবুয়েও হারে ১৫৮ রানে।