পেস, স্পিন—দুটোতেই ভালো। দুই ধরনের বোলারদেরই পিটুনি দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এমন ক্রিকেটার কতজন আছেন? নাম বলে দেওয়া বা একটা সংখ্যা বলার সুযোগ নেই। যেকোনো দিন যে কেউই সেটা করতে পারেন। তবে ধারাবাহিকভাবে কাজটা করছেন কারা?
ক্রিকেটবিষয়ক পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দলের এমন ১০ ব্যাটসম্যান (ন্যূনতম ৫০ বল) আছেন, যাঁরা পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই ১৫০–এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন।
১০ জনের এ তালিকার মধ্যে ৪ জনই ভারতের। এতে খুব বেশি বিস্ময়ের কিছু নেই। ভারত এ সংস্করণের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এবারও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দলটি খাতা–কলমে সেরা দল।
গত বিশ্বকাপের পর দলটি টি-টুয়েন্টিতে ২৫০ বা এর চেয়ে বেশি রান তুলেছে তিনবার। একই কীর্তি জিম্বাবুয়েও করেছে, তবে তারা খেলেছে সেশেলস, গাম্বিয়া ও বতসোয়ানার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই সময়ে পূর্ণ সদস্যের দলের ভেতর টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ২৫০–এর বেশি রান হয়েছে মাত্র আরও ২ বার।
ভারতীয় দলের এই চারজন কারা? তালিকায় আছেন ওপেনার অভিষেক শর্মা, যা প্রত্যাশিতই। তবে বাকি তিনজনের নাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে। যেমন অলরাউন্ডার শিবম দুবে। তাঁর জায়গা ভারতের একাদশে নিশ্চিত নয়। সূর্যকুমার যাদব দীর্ঘদিন অফ ফর্মে ছিলেন। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজে ছন্দে ফিরেছেন। এরপরও তাঁর স্ট্রাইক রেট এতটা ভালো ছিল। বাকি নামটা সবচেয়ে অবাক করা। কারণ যশস্বী জয়সওয়াল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেই নেই।
২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সঞ্জু স্যামসন স্পিনের বিপক্ষে করেছেন ৩০৫ রান। তাঁর গড় ৫০.৮৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১৭২.৩১। পেসের বিরুদ্ধে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও তাঁর গড় ২১.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৬.১৫, যা খুব খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হয় না।
তবু স্যামসনের বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া অনিশ্চিত। এর প্রধান কারণ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ঈশান কিষান। পেসের বিরুদ্ধে তাঁর স্ট্রাইক রেট ২১৫.৬৮, স্পিনে ২৫০। তিনি এ তালিকায় নেই; কারণ, ন্যূনতম ৫০ বল খেলেননি বলে।
তালিকায় আছেন ইংল্যান্ডের ওপেনার ফিল সল্ট ও বেন ডাকেট, অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড, দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিমরন হেটমায়ায়ারও আছেন। দেখা যাক ভারত বিশ্বকাপে পিটুনির এই ধারা ধরে রাখতে পারে কি না!