পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান
পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান

ফারহানকে সবাই চেনেন, সাদাকাত আর সাংবাদিকপুত্র শামিলকে চেনেন কতটা

সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত ও শামিল হোসেন। তিনটা নামের প্রথমটি যে আপনি চেনেন, সেটা ধরে নেওয়াই যায়। অন্তত সদ্য শেষ হওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর তাঁকে না চেনার কোনো কারণ নেই।

ফারহান এই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। ফারহানকে তো চিনলেন, বাকি দুজন? এঁদের চেনাটাও দরকার। কারণ, আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ফারহানের সঙ্গে ওয়ানডে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানেরও। তিনজনই আবার খেলবেন টপ অর্ডারে!

এঁদের মধ্যে মাজ সাদাকাত কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশে খেলে গেছেন। বাঁহাতি এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলেছেন।

গত বছরের নভেম্বরে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। টি-টুয়েন্টি সংস্করণের এই টুর্নামেন্টে ১৭৭.৯৩ স্ট্রাইক রেটে ২৫৮ রান করেন এই ওপেনার। সঙ্গে বল হাতে নেন ৭ উইকেট।

পাকিস্তান ওপেনার মাজ সাদাকত

সর্বশেষ ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান এ দলের হয়ে খেলেছেন সাদাকাত। ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অনেক দিন ধরেই আছেন পাকিস্তান জাতীয় দলের পাইপলাইনে।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তিনি যে খুব একটা বেশি খেলেছেন, তা বলা যাবে না। ২৮ ম্যাচের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৩ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৬ ফিফটি করেছেন সাদাকাত। ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি চালিয়ে খেলেন, সেটার স্পষ্ট প্রমাণ আছে সাদাকাতের স্ট্রাইক রেটে—১০১.৮৮।

শামিল হোসেনের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ার তো আরও ছোট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মাত্র ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এই ১৩ ম্যাচেই তাঁর সেঞ্চুরি ২টি, ফিফটি ৩টি। তিনিও ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান ‘এ’ দলে ছিলেন। কায়েদে আজম ট্রফির সর্বশেষ আসরে ইসলামাবাদের হয়ে খেলেছেন শামিল, ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

শামিল হোসেন

শামিল অন্য কারণেও আলোচনাতে আছেন। তাঁর বাবা পাকিস্তানের একজন নামকরা সাংবাদিক ও ইউটিউবার। উইকিপিডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুসারে, শামিলের বাবা সৈয়দ তালাত হোসেন একজন সাবেক ক্রিকেটার। ২০০১ সালে ইসলামাবাদ ক্রিকেট দলের হয়ে তিনি একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন। শামিল আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পারেন তিন নম্বরে—গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি এমনটাই জানিয়েছেন।

ফারহানের গল্পটা সবারই কমবেশি জানা। এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনিই শুধু জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন। তাঁর ৩৮৩ রানই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। এত দিনে পরিচিতি পেলেও ফারহানের অভিষেক হয় ২০১৮ সালে।

পাকিস্তানের হয়ে প্রথম ছয় বছরে ৯টি টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৮৬ রান করেছিলেন এই ওপেনার। তাঁর ক্যারিয়ার পুনর্জীবিত হয়েছে ২০২৪ সালের ন্যাশনাল টি-টুয়েন্টি কাপ দিয়ে। সেই টুর্নামেন্টে তাঁর ছক্কা ছিল ৭ ম্যাচে ৪০টি।

দারুণ ছন্দে আছেন ফারহান

জানিয়ে রাখতেই হচ্ছে, ওই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা ছিল ১৩টি। ৭ ম্যাচ খেলে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে করেছিলেন ৬০৫ রান। সেঞ্চুরি করেছেন ৩টি, ফিফটি ২টি। সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল ৭২ বলে অপরাজিত ১৬২। টুর্নামেন্টে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৯.৬৫, আর গড়টা তো অবিশ্বাস্য—১২১। এমন অবিশ্বাস্য কিছু করেই তিনি টি-টুয়েন্টি নিয়মিত হন।

টি-টুয়েন্টির পারফরম্যান্সই কি তাঁকে ওয়ানডে দলে এনেছে? সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর নেই।

কারণ, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ফারহানের অভিজ্ঞতা অনেক। ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ম্যাচ খেলেছেন ৭২টি—রান ২৯২৬। ২০টি ফিফটির সঙ্গে সেঞ্চুরি আছে ৮টি। তবে তিনি ২০২৪ সালের পর আর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ম্যাচ খেলেননি।

সর্বশেষ ৩টি আন্তর্জাতিক ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটি করা ফারহান ওয়ানডে অভিষেকে কেমন করেন সেটাই দেখার!