যশপ্রীত বুমরা
যশপ্রীত বুমরা

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ

‘চেরাগে ঘষা দিলেই বুমরা বেরিয়ে আসবে’

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সঞ্জু স্যামসন বললেন, ‘সব কৃতিত্ব যশপ্রীত বুমরার।’

কিছুক্ষণ আগে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত। ৮৯ রান করা স্যামসন ম্যাচসেরা হলেও তাঁর নিজের বিচারে এ পুরস্কার বুমরার প্রাপ্য, ‘এটা আসলে তার প্রাপ্য। ডেথ ওভারে সে ওভাবে বোলিং না করলে আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। তাই সব কৃতিত্ব বোলারদের।’

৪৯৯ রানের একটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচ, যেখানে বাউন্ডারির সংখ্যা ৭৩, আর এর মধ্যে ছক্কাই ৩৪টি। এমন ম্যাচে দুই দলের বোলারদের ওপর দিয়ে কী গেছে, সেটা এমনিতেই স্পষ্ট। ইংল্যান্ডের কোনো বোলারই যেমন ওভারপ্রতি গড়ে ১০–এর নিচে রান দেননি। ভারতের বোলারদের মধ্যে শুধু হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরা গড়ে ১০–এর নিচে রান দিয়েছেন। তবে দুই দলের সব বোলার মিলিয়ে গতকাল রাতের সেমিফাইনালে বুমরাই সেরা—৪ ওভারে ৩৩ রানে ১ উইকেট। ইকোনমি রেট ৮.২৫।

অন্য বোলাররা মার খেলেও বুমরাকে মারা খুব কঠিন হয়ে উঠেছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জন্য

ইংল্যান্ডের ইনিংসে পাওয়ারপ্লেতে নিজের প্রথম ওভারে ৭ রানে ১ উইকেট নেন বুমরা। এরপর ইনিংসের ১১তম ওভারে দেন ১২ রান। বুমরাকে এরপর দেওয়া হয়েছিল সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব। ডেথ ওভারে আটকে রাখতে হবে ইংল্যান্ডকে। ১৬তম ওভারে ৮ এবং ১৮তম ওভারে ৬ রান দিয়ে সেই কাজটা ভালোভাবেই সারেন বুমরা। ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা জ্যাকব বেথেল বুমরার ১৩টি বল খেলে মাত্র ১৭ রান নিতে পারেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি তাই বুমরার দারুণ প্রশংসা করেছেন। অবশ্য এমন পারফরম্যান্স বুমরার জন্য নতুন নয়। ইংল্যান্ড যখন ১৮ বলে ৪৫ রানের দূরত্বে, বুমরা তখন ১৮তম ওভারটি ইয়র্কার ও লো ফুল টসের মিশেলে যেভাবে করেছেন, সেটা ডেথ ওভারের বোলারদের জন্য শিক্ষণীয়।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শোতে ডু প্লেসি তাই বলেন, ‘ভারত বুঝতে পারে না, বুমরাকে দলে পেয়ে তারা কতটা সৌভাগ্যবান। সংস্করণ যেটাই হোক, সে বারবার প্রমাণ করেছে, হাতে বল তুলে দিলেই সে ম্যাচ জেতাতে পারে। এই সুপারপাওয়ারকে দলে পাওয়া যেকোনো অধিনায়কের স্বপ্ন। যেন একটি জিনি—চেরাগে ঘষা দিলেই বুমরা বেরিয়ে আসবে।’

ফাফ ডু প্লেসি

হ্যারি ব্রুকের উইকেটটি নেওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের অষ্টম বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেটের দেখা পান বুমরা। তাঁর প্রশংসায় ডু প্লেসি আরও বলেন, ‘তার বোলিং অ্যাকশন এতটাই আলাদা যে কবজি থেকে ঠিক কত দ্রুত বলটা বের হয়, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। এটি যেমন দক্ষতা, তেমনি তার রহস্যময় অ্যাকশনও এতে বড় ভূমিকা রাখে। এই ভিন্নতার কারণেই তাকে মোকাবিলা করা কঠিন।’