বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ঢাকার ক্লাবগুলোর সংবাদ সম্মেলন।
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ঢাকার ক্লাবগুলোর সংবাদ সম্মেলন।

প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিসিবির ডাকে সাড়া দেবে তো ক্লাবগুলো

বেশির ভাগ ক্লাব এখনো আগের অবস্থানে অনড়। ‘অবৈধ’ বোর্ডের অধীন লিগ খেলবে না তারা। ওদিকে এত দিন কোনো উদ্যোগ না নিলেও বিসিবি এখন চাইছে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করতে। গত বৃহস্পতিবার লিগের ১২টি ক্লাবকে চিঠি দিয়ে ৮ এপ্রিল বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছে সিসিডিএম।

কিন্তু বোর্ডের লিগ শুরুর আশা পূরণ করতে পারে যারা, সেই ক্লাবগুলোর অবস্থান বদল না হলে প্রিমিয়ার লিগের ভাগ্য আসলে অনিশ্চিতই থেকে যাবে, আর্থিক সংকটে পড়বেন ক্রিকেটাররা।

গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে ‘অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আসছে ঢাকার বিভিন্ন লিগের ৪৮টি ক্লাব। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আছে আটটি। লিগের ১২ ক্লাবের বাকি ৪টি লিগ হলে খেলতে রাজি আছে। এই ক্লাবগুলো হলো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

গত ডিসেম্বরে প্রথম বিভাগে ২০টির মধ্যে ১২টি ও জানুয়ারিতে দ্বিতীয় বিভাগে ২৪টির মধ্যে ১২টি ক্লাব নিয়ে লিগ হয়েছে। তবে মাঠে গড়ায়নি মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ। অচলাবস্থা কাটিয়ে ছেলেদের প্রিমিয়ার লিগ মাঠে নামানো নিয়েও এত দিন দৃশ্যমান কোনো চেষ্টা ছিল না বিসিবির। সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি ও সিসিডিএমকে পাঠানো চিঠিতে এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। এরপরই ক্লাবগুলোকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিল বিসিবি।

এ ব্যাপারে সিসিডিএম প্রধান আদনান রহমান কাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ শেষ করেছি। এখন সূচি অনুযায়ী প্রিমিয়ার লিগ হওয়ার কথা। তাই ক্লাবগুলোকে বৈঠকের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আশাবাদী, ক্লাবগুলো আমাদের সঙ্গে বসবে ও কথা বলবে।’ ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

২০২৫ বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে জিতে পরে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম

তবে বিদ্রোহী ক্লাবগুলোর নেতৃত্বে থাকা ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সিসিডিএমের সভায় তাঁরা যাবেন না। বিসিবির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াও, ‘এই বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রশ্নই নেই। আমরা তাদের অধীন খেলব না।’ অভিজ্ঞ এই সংগঠক বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়েও যেন একটা আভাস দিতে চাইলেন, ‘যখন তাদের ভালো সময় ছিল, তখনই যাইনি। আর এখন তো তাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে!’

ঢাকা লিগের আরেক ঐতিহ্যবাহী দল আবাহনীর অবস্থানও বোর্ড–বিরোধী পক্ষেই। তবে ক্লাবটির ক্রিকেট সেক্রেটারি জি এস হাসান তামিমের কথায় আগের কঠোর অবস্থানটা নেই। কাল মুঠোফোনে তিনি বলেছেন, ‘বিসিবির কাছ থেকে আমরা মিটিংয়ের চিঠি পেয়েছি। দুই–এক দিনের মধ্যে হয়তো আমরা বসে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

লিগ খেলতে রাজি থাকা চার ক্লাবের একটি গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে আরও অনেকের সঙ্গে তিনিও পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে ক্লাবটির প্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেছেন, ‘আমরা খেলতে চাই। অনেক ক্রিকেটার আছে, যারা প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই সংসার খরচ চালায়। লিগ না হলে কীভাবে হবে? আমাদের কমিটিতে তামিম ইকবাল আছেন, তিনি বোর্ডের বিরুদ্ধে হলেও খেলার পক্ষে আছেন।’

লিগের বেশির ভাগ ক্লাবই যেখানে মাঠবিমুখ হয়ে আছে, সেখানে তিন–চারটি ক্লাবের খেলতে রাজি থাকায় আসলে কিছু যায়–আসে না। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দেশের সবচেয়ে বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে চলমান সংকট তাই সহজে কাটছে না বলেই মনে হচ্ছে।