
পাকিস্তানকে আবারও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, বাংলাদেশের পর পাকিস্তানও না খেললে বিশ্বকাপের মান নেমে যাবে।
লতিফ বলেছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপে না খেললে তাদের পরিবর্তে উগান্ডাকে নেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আর আহমেদাবাদের ১ লাখ ৩২ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে খেলবে ভারত-উগান্ডা।
বাংলাদেশ নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে খেলবে না জানানোর পর আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী (১৪) হওয়ায় স্কটিশদের বাছাই করার কথা জানিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে না নেওয়ায় আইসিসির দ্বিমুখী নীতির বিরোধিতা করে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে—এমন একটি আলোচনা চলছে। গতকাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানান, বিদেশ সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ অবশ্য আরও কয়েক দিন আগে থেকেই তাঁর দেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বলে আসছেন। শনিবার ‘কট বিহাইন্ড’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘যদি পাকিস্তান না যায়, তবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। এটি আর বিশ্বকাপ হিসেবে টিকে থাকবে না। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার মতো ম্যাচ হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের মান নষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে।’
পাশাপাশি এক্স পোস্টেও তিনি এ বিষয়ে লিখেছেন। এই মুহূর্তে পাকিস্তানও সরে গেলে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী হিসেবে ২১ নম্বরে থাকা উগান্ডার খেলার প্রসঙ্গ টেনে লতিফ লিখেছেন, ‘যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে তাদের পরিবর্তে উগান্ডা খেলবে এবং ভারত বনাম উগান্ডার ম্যাচটি আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যার ধারণক্ষমতা ১,৩২,০০০।’ পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে তখন ভারতের গ্রুপে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া ও উগান্ডা।
সূচি অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে থাকা ভারত-পাকিস্তান আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় মুখোমুখি হওয়ার কথা। গত বছর ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে না যাওয়ার পর আইসিসি টুর্নামেন্ট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়, সেটির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় রাখা হয়েছে।
ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এর আগে ২০ ডিসেম্বর দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র সেনা’র বিক্ষোভ ও হাইকমিশনারকে দেওয়া হুমকি এবং কাছাকাছি সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে খোদ ভারতীয় নাগরিকদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনাগুলো দেশটিতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাহীনতাকে বাড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তবে সেই হুমকিগুলো ‘বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য নয়’ বলে বিসিবির দাবি নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি।