৭৩ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন আজান ও ফজল
৭৩ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন আজান ও ফজল

আজানের ব্যাটে বাংলাদেশকে জবাব দিচ্ছে পাকিস্তান

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৭৯/১। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩। (দ্বিতীয় দিন শেষে)

ইনিংসের সপ্তম ওভার, নাহিদ রানার প্রথম। প্রথম বলেই বাউন্সারের বিষ। ১৪০.৯ কিমি বেগের বলটা গিয়ে আঘাত করল পাকিস্তানের ওপেনার আজান আওয়াইসের হেলমেটে। কনকাশন টেস্ট ছিল অনিবার্য। পরীক্ষায় দেখা গেল তিনি বিপদমুক্ত, তবে ইনিংসের শুরুর দিকেই পাকিস্তানকে একটা ঝাঁকুনি তো দেওয়া গেল!

২২তম ওভারের শেষ বল। মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডব্লু করে দিলেন পাকিস্তানের আরেক ওপেনার ইমাম–উল–হককে। ভেঙে গেল উইকেটে ১০৬ রানে জমে যাওয়া উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশ শিবিরে সাময়িক স্বস্তি।

কিন্তু দ্বিতীয় দিন শেষে মিরপুর টেস্ট আসলে কতটা স্বস্তি দিতে পারছে বাংলাদেশকে?

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান যেভাবে দিন শেষ করল, প্রশ্নটা সে কারণেই। দিনের প্রথম ভাগের পুরোটা যদিও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিরই ছিল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের লক্ষ্য পূরণ করে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান। কিন্তু এরপর প্রায় দুই সেশন ব্যাট করে পাকিস্তান শুধু ইমাম–উল–হকের উইকেট হারিয়েই আজ দিন শেষ করে ফেলে ১৭৯ রানে, যে ব্যাটিংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা আজান।

১৩৩ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত ৮৫ রানে

শুরুতে নাহিদের বাউন্সারে কেঁপে উঠলেও দিনের শেষটা পাকিস্তানের করে দিয়েছেন এই আজানই। ইমাম–উল–হক ফিরে যাওয়ার পর আবদুল্লাহ ফজলের (৩৭*) সঙ্গে ৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি, নিজে দিন শেষে অপরাজিত ৮৫ রানে। তবে ইনিংসের ৪৩তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে সাদমান ইসলাম যদি স্লিপে ফজলের দেওয়া কঠিন ক্যাচটা হাতে রাখতে পারতেন, ২৩৪ রানে এগিয়ে থাকা দিনের শেষটা বাংলাদেশের জন্য হতে পারত আরেকটু অন্য রকম।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অতৃপ্তি বলতে মুশফিকুর রহিমের জন্মদিনটা সেঞ্চুরির রঙে না রাঙানো। নইলে প্রথম ইনিংসে চার শ রান করার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। লোয়ার অর্ডার থেকে কিছু রান পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, তাসকিন আহমেদের ১৯ বলে ২৮ রান অপূর্ণতা রাখেনি সেখানেও।

তবে পূর্ণতার আবার শেষ নেই। বাংলাদেশের ভালো ব্যাটিংটাই যেমন আরও ভালো হতে পারত মুশফিকের ২৯তম ফিফটিটা সেঞ্চুরিতে অনূদিত হলে এবং থিতু হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান লিটন দাস নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারলে।

ক্যাচ দিয়ে বাঁচলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন

শাহিন আফ্রিদির এক ওভারে টানা তিন বাউন্ডারি মারা লিটনের ব্যাট সে রকম বার্তাই দিচ্ছিল, সহায় হচ্ছিল ভাগ্যও। ৯৫তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান টিভি আম্পায়ার ‘নটআউট’ বলায়। আজান এক হাতে দারুণ ‘ক্যাচ’ নিলেও বলটা আসলে মাটি ছুঁয়ে ফেলেছিল।

কিন্তু পড়ে পাওয়া জীবনের দাম দিলেন না লিটন। ৯৭তম ওভারে সেই আব্বাসেরই শিকার হন অফ স্টাম্পের বাইরের বাউন্সারে টেনে খেলতে গিয়ে। দুর্বল শট সহজ ক্যাচ হয়ে যায় মিড অনে। তার আগে ৬৭ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে পঞ্চম উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে তিনি গড়েছেন ৬২ রানের জুটি।

৫ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস

আজ সকালের দিকে অবশ্য উইকেটে ব্যাটিং করাটা খুব সহজ ছিল না। অসম বাউন্সের সামনে অস্বস্তিতে ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। পরিণতি, ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করে ২৪ ওভারের প্রথম সেশনেই ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারানো।

লিটনের পর এ সময়ে আউট হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম। ১০১তম ওভারের তৃতীয় বলে আব্বাসকে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে পরের বলেই গালিতে ক্যাচ দেন ১২ বলে ১০ রান করা মিরাজ।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাসকে আলাদা করে দিচ্ছে টেস্টে তাঁর ষষ্ঠ পঞ্চম উইকেট শিকার। ৩ উইকেট নিয়ে এরপরই আফ্রিদি। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই ইনসুইং ডেলিভারিতে আফ্রিদি বোল্ড করেন টানা তিন টেস্টে ফিফটি করা মুশফিককে। তার আগে দিনের চতুর্থ ওভারে এই আফ্রিদির বলেই এক রান নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক। ৭১ রানের ইনিংসে যথারীতি ধৈর্যশীল মুশফিক খেলেছেন ১৭৯ বল, বাউন্ডারি মেরেছেন ৮টি।

প্রথম দিনের সঙ্গে ২৩ রান যোগ করতে পেরেছেন মুশফিক

দলের ৩৮০ রানে অষ্টম উইকেট হিসেবে মুশফিকের বিদায়ের পরও বাংলাদেশের রান ৪১৩ হয়েছে তাসকিনের ছোটখাটো ওই ঝড়ের সৌজন্যে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে আরও দুই পেসার ইবাদত হোসেন আর নাহিদকে নিয়ে যোগ করেন ৩৩ রান।

এর মধ্যে শুধু নাহিদের সঙ্গে শেষ উইকেটেই হয়েছে ২৯ রানের জুটি। ১৯ বলে ২৮ রানের ইনিংসে তিন বাউন্ডারি আর আব্বাসকে সাইট স্ক্রিনে আছড়ে ফেলা ছক্কায় চার শ পার—বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ‘ফিনিশিং টাচ’টা হয়েছে তাসকিনের হাতেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৭৯/১(আওয়াইস ৮৫*, ফজল ৩৭*; মিরাজ ১/৩৭)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ ( নাজমুল ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাসকিন ২৮, তাইজুল ১৭, সাদমান ১৩ ; আব্বাস ৫/৯২, আফ্রিদি ৩/১১৩, হাসান ১/৭৫, নোমান ১/৮০)।