
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত যে দুবার শিরোপা জিতেছে, দুটিই ছিল দেশের বাইরে। একবার দক্ষিণ আফ্রিকায়, আরেকবার বার্বাডোজে। এবার সূর্যকুমার যাদবরা খেলছেন ঘরের মাঠে, জিততে পারলে যা বিশেষ কিছুই হবে দলটির জন্য। তবে আগামীকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নামার আগে কিছুটা দুশ্চিন্তায়ই আছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
এবারের আসরে ফিল্ডিং দুর্বলতায় ভুগছে ভারত, বিশেষ করে ক্যাচিংয়ে। গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটে খেলা ৭ ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১৩টি ক্যাচ মিস করেছেন ভারতের ফিল্ডাররা, যা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ২০ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান বলছে, সুপার এইটে খেলা আট দলের মধ্যে ভারতের ক্যাচিং এফিসিয়েন্সি (ক্যাচে সফল) সবচেয়ে বাজে (৭১.১%)। মাথাব্যথা হয়ে ওঠা এই ক্যাচিং–দুর্বলতা নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন দলটির বোলিং কোচ মরনে মরকেল।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ক্যাচ ধরতে না পারায় মরকেল তা–ই বলেছেন, যা সবাই বলে থাকেন, ‘কেউই ইচ্ছা করে ক্যাচ মিস করে না। এমন নয় যে আমরা এটার অনুশীলন করি না। আমি বলতে চাচ্ছি, আমাদের ফিল্ডিংয়ের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এখানে বিশ্বকাপে আসার আগে এটি ছিল আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য। তাই ছেলেরা ফিল্ডিং নিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলন করছে।’
সেমিফাইনাল শুরুর আগপর্যন্ত বিশ্বকাপে সব কটি দল মিলিয়ে মোট ৪৬২টি ক্যাচ ধরেছে, আর মিস করেছে ১০২টি। গড় হিসাব করলে প্রতি দলের ক্যাচ মিস ৫–এর সামান্য বেশি। কিন্তু ভারতের একার ক্যাচ মিসই গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যাচ মিসের পেছনে ফিল্ডিং দুর্বলতার চেয়ে মানসিক চাপই বড় কারণ কি না প্রশ্নে অবশ্য জবাব নেই তাঁর, ‘মাঝেমধ্যে এটা মানসিকতার বিষয় কি না, আমি সে উত্তর দিতে পারব না।’
টুর্নামেন্টের শেষ দিকে প্রতিটি ক্যাচিং আর ফিল্ডিংই ম্যাচে বড় প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে। এ পর্যায়ে ফিল্ডিংয়ে উন্নতির জন্য খেলোয়াড়দের বিশেষ জায়গাগুলোয় গিয়ে বাড়তি দায়িত্ব পালন করা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করার দায়ভার নিতে হবে বলে মনে করেন মরকেল, ‘নির্দিষ্ট বিষয়গুলোয় সত্যিই গুরুত্ব দেওয়া এবং সঠিক স্থানে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের ফিল্ডিংয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় এটি করা কঠিন হয়ে পড়ে; কারণ, আমাদের ওভার-রেটের (সময়ের) বিপরীতে কাজ করতে হয়। তাই এটি এমন এক দায়িত্ব, যা খেলোয়াড়দের মাঠেই নিতে হবে। নিজেকে মাঠের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় নিয়ে যেতে হবে এবং একটু বাড়তি খাটতে হবে। আমরা যদি সঠিক খেলোয়াড়দের ওই পজিশনগুলোতে রাখতে পারি, তবে আশা করা যায় আমরা ক্যাচগুলো নিতে পারব।’
মুম্বাইয়ে ভারত–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল শুরু হবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।