জয় দিয়ে সুপার এইট শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
জয় দিয়ে সুপার এইট শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

হেটমায়ার ঝড়ের পর বড় জয়ে সুপার এইট শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের

তাশিঙ্গা মুসেকিওয়ার রাতের ঘুমটা আজ ঠিকঠাক হওয়ার সম্ভাবনা কম। লোপ্পা দুটি ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর কারই বা ঘুম হয়!

মুসেকিওয়ার ছাড়া দুটি ক্যাচই ছিল আবার শিমরন হেটমায়ারের। এই সুযোগে হেটমায়াররা ‘নাইটমেয়ার’ উপহার দিয়েছেন মুসেকিওয়ার জিম্বাবুয়েকে। এমন দুঃস্বপ্ন মুসেকিওয়াদের ভুলতে বহুদিনই লেগে যাওয়ার কথা।

মুসেকিওয়া যখন প্রথম ক্যাচটি ছাড়লেন ৪ বলে ৯ রান ছিল হেটমায়ারের। প্রতিদানটা ১৯ বলে ফিফটি করেই দিয়েছেন হেটমায়ার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ২২ বলে ফিফটি করার নিজের রেকর্ডটিকে ছাড়িয়ে গেছেন তাতে। ১৯ ছক্কা মেরে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাশে বসেছে নেদারল্যান্ডস।

পুরো ২০ ওভার খেলে তারা ৬ উইকেটে ২৫৪ রানে থেমে যাওয়ায় একটা রেকর্ডও গড়া যায়নি অল্পের জন্য—টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬০ রানের রেকর্ডটা রয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার দখলেই। কিন্তু এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ, দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্যও তাই।
এত সব রেকর্ড দেখে মনটা নিশ্চয়ই ম্যাচের পর আরও খারাপ হবে মুসেকিওয়ার। অন্য কেউ বললে তিনি হয়তো ভাববেন, সব দোষ বুঝি তাঁর। তা দিলে একটু বুঝি অন্যায়ই হবে। তিনি যে হেটমায়ারের ক্যাচ ছেড়েছেন, তাঁকে ৭ চার আর সমান ছক্কার ইনিংসে ৩৪ বলে ৮৫ রানে থামানো গেছে। কিন্তু তবু তো ঝড় থামেনি।্

শিমরন হেটমায়ার আর রোভম্যান পাওয়েলের জুটিতেই বড় সংগ্রহ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

হেটমায়ার যে ঝড়ের হওয়া বইয়ে দিয়েছেন শুরুতে, বাকি ব্যাটসম্যানরাও সে পথ ধরে হাঁটায় লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে জিম্বাবুয়েকে। সবচেয়ে জোরালো ধাক্কাটা দিয়ে গেছে হেটমায়ারের সঙ্গে রোভম্যান পাওয়েলের ৫২ বলে ১২২ রানের জুটি। হেটমায়ারের কথাটা তো এতক্ষণ জানলেনই, পাওয়েলের ইনিংসের কথাটা একবার ভাবুন। ১৬ বলে একসময় তাঁর রান ছিল ১৪। সেখান থেকে কি না তিনি ফিফটি করেন মাত্র ২৯ বলে!

পাওয়েলও অবশ্য পরে আর বেশি দূর যেতে পারেননি। ৩৫ বলে ৫৯ রান করেই থেমেছেন। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ঝড়ের গতি বেড়েছে আরও। শুধু সংখ্যাগুলোই একবার পড়ুন—শেরফান রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩১, রোমারিও শেফার্ড ১০ বলে ২১ আর জেসন হোল্ডার ৪ বলে ১৩ রান। কারও স্ট্রাইক রেটই দুই শর কম নয়।

এত বড় রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের করার ছিল সামান্যই। তাঁরা যে চেষ্টা করেনি তা নয়। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রান ছিল ৪৭, কিন্তু ততক্ষণে হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। এমন বিপর্যয়ের শুরুর পর ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়েও ব্যাটিংয়ে নেমে গিয়েছিলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা, তিনি থেমেছেন ২০ বলে ২৭ রানে।

যা একটু ঝড়, তা ছিল আসলে ব্র্যাড ইভান্সের ব্যাটে। ২১ বলের ইনিংসে তিনি মেরেছেন ৫ ছক্কা, করেছেন ৪৩ রান। কিন্তু তিনি ব্যাটিংয়ে নামার অনেক আগেই ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। হারের ব্যবধান দেখলেও তা টের পাওয়ার কথা—১৪৭ রানে অলআউট হওয়া জিম্বাবুয়ে ম্যাচটা হেরেছে ১০৭ রানে!