ডিউক বল
ডিউক বল

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা: বল–সংকটে পড়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কাটা এবার ভালোভাবেই লেগেছে ক্রিকেটে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে দলগুলো বাড়ি ফেরার পথে বাধার মুখে পড়েছিল এই যুদ্ধের কারণে। বিমান চলাচল সীমিত হওয়ায় সপ্তাহখানেক ভারতে আটকে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার যুদ্ধের উত্তেজনা টের পাচ্ছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডও।

আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে ডিউক বলের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছে না তারা। বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা এ নিয়ে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ডিউক বল মূলত তৈরি করে ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

বলের চামড়াগুলো ইংল্যান্ডে তৈরি হলেও সেলাইয়ের জন্য তা আসে উপমহাদেশে। সব কাজ শেষে বক্সে করে তা আবার ফেরত পাঠানো হয় ইংল্যান্ডে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ধরে তা করা হয়। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ডিউক বলের ইংল্যান্ডে পৌঁছানো বাধার মুখে পড়েছে।

বল নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে কথা বলেছেন ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেডের মালিক দিলীপ জাজোদিয়াও। ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এই অভিশপ্ত গালফ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমরা এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছি।’

উপমহাদেশের বিভিন্ন কারখানায় পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সীমিত কার্গো সক্ষমতা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বলের চালান পাঠাতে দেরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। ক্লাবগুলোকে চাহিদার তুলনায় কেবল অর্ধেক বল সরবারহ করে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।

কারখানাগুলো পর্যাপ্ত বল থাকলেও জট তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো তা নিচ্ছে না বলে দাবি ব্রিটিশ ক্রিকেট বলসের। এ ছাড়া এই সময়ে পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে গেছে বলে দাবি তাদের। এত দিন ১২০টি ক্রিকেট বলের বক্স পরিবহনের জন্য প্রতি কেজিতে ৬০০ টাকার মতো খরচ হতো। কিন্তু এখন তা প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে ডিউক বল ইংল্যান্ডে পৌঁছাতে পরিবহনের বিকল্প পথও খুঁজতে শুরু করেছে ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস। পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ভিন্ন পথে বল পাঠানোর বিষয়ে ভাবছে তারা। এতে খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সমাধান খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জাজোদিয়া। প্রয়োজনে বিশেষ কার্গো ফ্লাইট ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

জাজোদিয়া বলেছেন, ‘সম্প্রতি শুনেছি, পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে, এটা একটি বিকল্প পথ হতে পারে। মানুষ উপায় বের করবেই। খরচ হয়তো অনেক বেশি হবে, কিন্তু কোনো না কোনো উপায় বের করতে হবে।’

আগামী ৩ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ১৮ দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে এই টুর্নামেন্টের আগে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন দলগুলোকে বল সরবারহ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের জন্য।