
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজে দারুণ ছন্দে দক্ষিণ আফ্রিকা। পার্লে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭৩ রান হেসেখেলে ৯ উইকেট ও ১৩ বল হাতে রেখে টপকে গিয়েছিল এইডেন মার্করামের দল। গতকাল সেঞ্চুরিয়নে দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিংয়ের শক্তিটা আরও ভালোভাবে দেখাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেটে ২২১ রানের সংগ্রহও প্রোটিয়াদের দারুণ ব্যাটিংয়ের সামনে বড় মনে হয়নি। কুইন্টন ডি ককের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ১৫ বল হাতে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ৭ উইকেটে। সিরিজ জয় নিশ্চিত করে আগামীকাল জোহানেসবার্গে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
স্বাগতিকদের রান তাড়া সহজ হয়েছে ডি কক ও রিকেলটনের দারুণ দুটি ইনিংসের কল্যাণে। ১০ ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৯ বলে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন ডি কক। ১৭ রানে ‘জীবন’ পাওয়া রায়ান রিকেলটনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ বলে অপরাজিত ৭৭। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ বলে দুজনের ১৬২ রানের জুটিটি গড়ে দিয়েছে প্রোটিয়াদের জয়ের ভিত।
ডি কক প্রায় তিন বছরের মধ্যে ঘরের মাঠে দেশের হয়ে প্রথম টি-টুয়েন্টি খেলতে নেমেছিলেন, সেটাও ছিল আবার তাঁর ক্যারিয়ারে শততম আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ইনিংস। ২১ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া ডি কক তাঁর এই ইনিংসে ডট দেন মাত্র ৮টি ডেলিভারি।
নিজের প্রথম বাউন্ডারিতেই ফাফ ডু প্লেসির পর দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতে ১২ হাজার রানের মাইলফলকের দেখা পান ডি কক। ইনিংসের চতুর্থ ছক্কায় সেই ডু প্লেসিকে টপকেই দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতে হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৪৩০ ম্যাচে ৪১৬ ইনিংসে ডি ককের রান এখন ১২১১৩।
মজার বিষয়, ডি কক তাঁর দুটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরিই পেয়েছেন সেঞ্চুরিয়নে। দুটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দুবারই ২২০+ রান তাড়া করতে হলো। প্রায় তিন বছরের ব্যবধানে দুটি সেঞ্চুরিই পেলেন ৪৩ বলে!
২০২৩ সালে একই ভেন্যুতে (সুপার স্পোর্ট পার্ক) অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৮ রান তাড়া করে জয়ের পথে ৪৪ বলে ১০০ রান করেন ডি কক। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে সেটা সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এবং গতকাল রাতেরটি এ তালিকায় দ্বিতীয়। সেঞ্চুরি করায় দুটি ম্যাচই নিশ্চয়ই মনে রাখবেন ডি কক?
তবে গতকাল রাতের ম্যাচটি আলাদা এক কারণেও তাঁর জন্য স্মরণীয়। সেঞ্চুরিটা নিজের ব্যাট দিয়ে পাননি। সতীর্থ দেভাল্দ ব্রেভিসের ব্যাট নিয়ে নেমে পড়েছিলেন। ম্যাচ শেষে ডি কক এ নিয়ে বলেন, ‘আমি একটা ভুল করেছি। বাসায় কিছু ব্যাট রেখে এসেছি।’ ব্যাটিং নিয়ে বলেছেন, ‘প্রোটিয়া জার্সিতে আবারও সেঞ্চুরিয়নে ব্যাট করতে পারাটা ভালো লাগার বিষয়। এই মাঠে আমরা এর আগেও এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি—এটা অনেক রানের মাঠ।’
এত ভালো পুঁজি নিয়েও হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাবতে পারে, জয়ের জন্য আসলে কত রান লাগে? তাদের ইনিংসে কারও সেঞ্চুরি নেই, তবে দারুণ দুটি ফিফটি আছে। ৪২ বলে ৭৫ করেন শিমরন হেটমায়ার। ২৪ বলে ৫৭ রানে শেষ পর্যন্ত ছিলেন শেরফান রাদারফোর্ড। ব্রান্ডন কিংয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ৩০ বলে ৪৯।
হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ বলেন, ‘ব্যাটিং ভালোই হয়েছে। কিন্তু সেঞ্চুরিয়নের কন্ডিশন বোলিংয়ের জন্য খুব কঠিন।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২২১/৪ (হেটমায়ার ৭৫, রাদারফোর্ড ৫৭*, কিং ৪৯, রোমারিও ১৭*; মহারাজ ২/২২, রাবাদা ১/৩৫, ইয়ানসেন ১/৩৯)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭.৩ ওভারে ২২৫/৩ (ডি কক ১১৫, রিকেলটন ৭৭*, মার্করাম ১৫; আকিল ২/৪১, ফোর্ড ১/৩৪)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: কুইন্টন ডি কক।
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০–তে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।