বিসিএলের প্রথম রাউন্ডে তিন দিনের মধ্যেই জিতে গেছে উত্তরাঞ্চল। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে আজ দক্ষিণাঞ্চলকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে আকবর আলীর দল। ১৬১ রানের ছোট লক্ষ্য তারা পেরিয়ে যায় ৯.৪ ওভারেই। এর মধ্যে ৩৫ বলে ৪ ছক্কায় সাব্বির হোসেনই করেন ৫৪ রান।
উত্তরাঞ্চল দিন শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান নিয়ে। আরও ৪৭ রান যোগ করে তারা অলআউট হয় ৪২৬ রানে। ১৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করা প্রিতম কুমার ফিরেছেন আর মাত্র ৪ রান করেই। ১১২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা দক্ষিণ অলআউট ১৭২ রানে।
সামিউন বাসীর (৫৩) ও মঈন খান (৪২) সপ্তম উইকেটে ৯৮ রান যোগ না করলে এই রানও হতো না। ৫ উইকেট নিয়ে পেসার রবিউল হক উত্তরের সেরা বোলার। দক্ষিণকে ৫৯/৪ বানিয়ে ফেলা রবিউল পরে আবু জায়েদকে ফিরিয়ে পেয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ৫ উইকেট। ম্যাচসেরাও হয়েছে ২৬ বছর বয়সী এই পেসার।
আশা জাগিয়েও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১তম সেঞ্চুরিটা পাননি মুশফিকুর রহিম। তবে ১৬১ রানের জুটিতে তাঁর সঙ্গী অমিত হাসান পেয়ে গেছেন ক্যারিয়ারের ১১তম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি। ৮৩ রানে আউট হয়েছেন মুশফিক, অমিত ফিরেছেন ১৬২ রানে। ফিফটি পেয়েছেন ইয়াসির আলীও, করেছেন অপরাজিত ৭৯।
ম্যাচে পূর্বাঞ্চল আছে সুবিধাজনক স্থানে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৪৬৩ রানে অলআউট হয়ে ১৫৬ রানে লিড পেয়ে তারা তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাস নিয়ে। প্রতিপক্ষ মধ্যাঞ্চল দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রান তুলতেই হারিয়েছে ৭ উইকেট। মুশফিকদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে আরও ৭৪ রান করতে হবে দলটিকে।
পূর্বাঞ্চলের তিন পেসার খালেদ আহমেদ (৩/২৩), ইবাদত হোসেন (১/১১) ও তোফায়েল আহমেদ (১/২২) মিলেই ধসিয়ে দিয়েছেন মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংস। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদও পেয়েছেন ২ উইকেট।
এর আগে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা পূর্বাঞ্চল ২৮৯ রানে হারায় মুশফিককে। জিসান আলমের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেন মুশফিক। অমিত সেঞ্চুরি পেয়ে যান এর আগেই। মুশফিকের বিদায়ের পর ইয়াসিরকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১০৭ রানে জুটি গড়ে ফেরেন সর্বশেষ জাতীয় লিগে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ২১৩ রানের ইনিংস খেলা অমিত। এবার ২৬৫ বলের ইনিংসে ১৮টি চার মেরেছেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। মধ্যাঞ্চলের বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ১৫২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।