রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দারুণ শুরু করেছে নোয়াখালী। প্রথম ২ ওভার থেকে দলটি তুলেছে ২৫ রান।
রংপুর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রথম ওভার থেকে এসেছে ১৪ রান। এরপর ডানহাতি স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ওভার থেকে এসেছে ১১।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ৩ ওভারে ৩০/১।
ম্যাচে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর প্রথম বলেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। শাহাদাত ৮ বলে ৩ চারে ১৪ রান করেছেন।
নতুন ব্যাটসম্যান হাবিবুর রহমান, সঙ্গে আছেন সৌম্য সরকার।
ব্যাট হাতে দারুণ শুরু পেয়েছে নোয়াখালী। দলীয় ২৫ রানে শাহাদত হোসেন আউট হলেও রানের গতি থামেনি তাদের। সৌম্য ও হাবিবুরের ব্যাটে দলটি পাওয়ার প্লেতে তুলেছে ৬৬ রান।
২৯ রানে ব্যাটিং করছেন হাবিবুর। ২৩ রানে সৌম্য।
নোয়াখালী ৮ ওভারে: ৬৯/২
১৬ বলে ৩০ রান করে ফিরলেন হাবিবুর। পাকিস্তান স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের বলে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
২ রান আর ২ উইকেট।
নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে নোয়াখালীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন রংপুর স্পিনার খুশদিল। ওভারের প্রথম বলে ৩১ রান করা সৌম্যকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেছেন নবীকে। পুরো ওভারে দিয়েছেন ২ রান।
১১ ওভার শেষে নোয়াখালীর রান ৪ উইকেটে ৮৬।
ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে করা নাহিদ রানা শর্ট বলটি থেকে কোনোভাবে বাঁচতে চাইলেন হায়দার আলী। শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি পারেননি। বল গ্লাভসে লেগে গেছে উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ৪ বলে ১ রান করেছেন হায়দার।
হ্যাটট্রিক হলো না মোস্তাফিজের। টানা দুই বলে জাকের ও মেহেদীকে আউট করার পর হাসান মাহমুদও সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে মোস্তাফিজ নিজেই ক্যাচটা নিতে পারেননি।
আজ ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। রংপুরের আরেক পেসার নাহিদ রানা ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট।
একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএল দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। আজ নোয়াখালীর বিপক্ষে ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল, চতুর্থ বল মেহেদী রানা ও পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকের দিনে রংপুরের আসল নায়কে মোস্তাফিজ, নাহিদ রান ও খুশদিল শাহ। মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। নাহিদ পেস দিয়ে আজ রীতিমতো ভয় ধরিয়েছেন। ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার খুশদিল শাহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।
মৃত্যুঞ্জয়ের আগে খুশদিল ও মোস্তাফিজের সামনেও হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল। তবে তারা কাজে লাগাতে পারেননি।
১৪৮ রানে গুটিয়ে নোয়াখালী শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল। প্রথম ৬ ওভারে দলটি তুলেছিল ৬৬ রান। তবে ৩০ রান করা হাবিবুর, ৩১ রান করা সৌম্য ফিরলে ওই অর্থে কেউ ইতিবাচক ব্যাটিং করতে পারেননি।
নোয়াখালী: ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ (জাকের ৩৮, সৌম্য ৩১; মোস্তাফিজ ৩/১৮, খুশদিল ২/২৭)
হাসানের দুর্দান্ত বলে লিটন বোল্ড হওয়ার পর ম্যালানকে বোল্ড করেছেন স্পিনার নবী। দলীয় ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়েছে রংপুর।
২৩ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাকিস্তান অলরাউন্ডার ইফতিখার ও হৃদয় অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের জুটি গড়েছেন। হৃদয় একটা সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে মাহিদুল সেটি নিতে পারেননি। ২০ বলে ৩২ রানে ব্যাটিং করছেন ইফতিখার, ১১ বলে ১১ রানে হৃদয়।
৪ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ৪১ রান। মাহমুদউল্লাহ ও হৃদয়কে হারিয়ে চাপে পড়েছে রংপুর। উইকেটে আছেন খুশদিল ও নুরুল হাসান।
২৮ বলে ২৯ রান করে ফিরেছেন হৃদয়। টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটির পর থেকে ব্যাট হাতে বাজে সময় চলছে হৃদয়ের।
শেষ ওভারে রংপুরের লাগত ১৫ রান। এরপর যা হলো...
প্রথম বল: হাসান মাহমুদের বলে আউট হলেন ২৪ রান করা খুশদিল
দ্বিতীয় বল: এই বল থেকে এসেছে এক রান।
তৃতীয় বল: আবার উইকেট। ৩ রান করে ফিরলেন হ্যাটট্রিক করা অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয়। ৩ বলে লাগবে ১৪ রান।
চতুর্থ বল: মোস্তাফিজ মারলেন বাউন্ডারি। শেষ ২ বলে রংপুরের দরকার ১০ রান।
পঞ্চম বল: ডট বল। নোয়াখালীর প্রথম জয় নিশ্চিত হয় এতেই।
ষষ্ঠ বল: হাসানের বলে বোল্ড হন মোস্তাফিজ।
বিপিএলে আজ প্রথম জয় পেল নোয়াখালী। ৭ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট এখন ২। রংপুরের ৬ ম্যাচে এটি দ্বিতীয় জয়। তারা এখন টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে।
অথচ এই ম্যাচেও রংপুরকে জয়ের আশাই দেখিয়েছিলেন বোলাররা। নোয়াখালীর ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করেছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। দৃশ্যপটে ছিলেন অন্য বোলাররাও।
নাহিদ রানা ভয় ধরিয়ে গেছেন তাঁর গতি দিয়ে। মোস্তাফিজুর রহমান আর খুশদিল শাহও পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন হ্যাটট্রিকের সামনে।
স্পিডমিটারে দেড় শ পেরিয়ে যাওয়া গতিতে নাহিদ রানা আতঙ্কই হয়ে উঠেছিলেন নোয়াখালীর জন্য, ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট পান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানও বরাবরের মতো কার্যকরীই ছিলেন, তিনি ৪ ওভার করে মাত্র ১৮ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। ২ উইকেট পাওয়া খুশদিল শাহ ৪ ওভারে দেন ২৭ রান। মাঝের এমন বোলিং আর শেষ ওভারে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর হ্যাটট্রিকের পর ১৯.৫ ওভারেই ১৪৮ রানের বেশি করতে পারেনি নোয়াখালী।
এমন বোলিংয়ের পরও রংপুর ম্যাচটা জিততে পারেনি। নোয়াখালীর ৯ রানের জয়ে কৃতিত্বটা হাসান মাহমুদেরই বেশি—৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪ উইকেট। রংপুরের ব্যাটসম্যানদের অনেকেই ভালো শুরু পেলেও ইনিংসটা আর বড় করতে পারেননি। ৩১ বলে ৩৭ রান করা ইফতেখার আহমেদই দলটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ (জাকের ৩৮, সৌম্য ৩১; মোস্তাফিজ ৩/১৮, খুশদিল ২/২৭)। রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৩৯/৯ (ইফতিখার ৩৭, হৃদয় ২৯; হাসান ৪/২৬, জহির ২/২৫)। ফল: নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৯ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ।