
একসময় অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়াটাই ছিল যেকোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং। স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিংদের দলের ব্যাটিং লাইনআপ আর গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি ও শেন ওয়ার্নদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বড় আতঙ্কের নাম। অ্যালান ডোনাল্ড নিজেও যার বড় সাক্ষী। তবে এখনকার অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সেই পুরোনো দাপট দেখছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক পেসার।
সামনেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ। ডোনাল্ডের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় এখন ‘পরিবর্তনের পালা’ চলছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা দলটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং এখন আগের মতো শক্তিশালী নয়।
স্পোর্টসবুমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড অস্ট্রেলিয়া দল নিয়ে বলেন, ‘২০০০-এর শুরুর দিকে তারা ছিল আতঙ্ক। তাদের বিপক্ষে খেলা সত্যিই কঠিন ছিল। দলটি নিজের শক্তিতেই টিকে থাকত।’ অস্ট্রেলিয়ার শক্তিমত্তার কারণ তুলে ধরে ডোনাল্ড যোগ করেন, ‘ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রা, গিলেস্পি, লি—আহা, কী অসাধারণ! এরপর তাদের ব্যাটিং লাইনআপও ছিল দেখার মতো। স্টিভ ওয়াহ রিকি পন্টিংয়ের হাতে যে দলটা তুলে দিয়েছিলেন, সেটি ছিল দুর্দান্ত। আর সেখানে শেন ওয়ার্নকেও ভুলে গেলে চলবে না। কিন্তু এখন সব বদলে গেছে।’
বর্তমান অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দুর্বলতা বোঝাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজের উদাহরণ দিয়েছেন ডোনাল্ড। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। বাংলাদেশ এরপর ৪২৬ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ায়।
ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করে স্বাগতিকেরা। তবে সেই জয়েও অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা ঢাকা পড়ছে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের সাবেক বোলিং কোচ, ‘অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ হঠাৎ করেই হতাশ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের কাছে তারা একেবারে নাস্তানাবুদ হয়েছে। তবে একজন বাংলাদেশি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে ভালো লেগেছে, নিজেদের মনোযোগ দিয়ে খেললে তারা কতটা ভালো খেলতে পারে। কিন্তু দেখুন, আমার মনে হয় এই সমস্যা অনেক দিন ধরেই চলছে। তাদের ব্যাটিং লাইনআপ সংগ্রাম করছে।’
ডোনাল্ডের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দুর্বলতা শুধু রানসংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যাটসম্যানরা উইকেটে যথেষ্ট সময় কাটাতে না পারায় বোলারদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে, ‘ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে সমস্যা আছে। এরই মধ্যে বোলার বনাম ব্যাটসম্যান আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাটসম্যানেরা বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সুযোগই দিতে পারছে না। এই মুহূর্তে এটি তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। পারফরম্যান্সের দিক থেকে তারা সত্যিই সমস্যায় আছে।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বোলিং আক্রমণকে খাটো করে দেখছেন না ডোনাল্ড। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডকে এখনো বিশ্বের সেরা পেসারদের অন্যতম মনে করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে এই বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়াকে সুবিধা দিতে পারে বলেও মনে করেন ৭২ টেস্ট খেলা ডোনাল্ড, ‘তারা বলতেই থাকবে, তারা অস্ট্রেলিয়ান, ঘুরে দাঁড়াবে—এমন কিছু। আমি সিরিজটির অপেক্ষায় আছি। তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় আছে, বিশেষ করে বোলিং আক্রমণের মান। স্টার্ক, হ্যাজলউড ও কামিন্স—এই তিনজনই বিশ্বের সেরা বোলারদের মধ্যে পড়ে। তাই আমি টেস্ট সিরিজটির অপেক্ষায় আছি। তবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ আছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অস্ট্রেলিয়া তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে ৯ অক্টোবর ডারবানে।