নতুন আশা নিয়ে শুরু হচ্ছে আরও একটি নতুন বছর। ২০২৬ সালে খেলার মাঠে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন দেশের দ্রুততম মানব অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান।
২০২৬ সালে আমার লক্ষ্য খুব পরিষ্কার। আমি চাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিতে। হোক সেটা একটি পদক বা বা একটি নতুন রেকর্ড। খারাপ লাগছে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস পিছিয়ে যাওয়ায়। এই জানুয়ারিতেই গেমস হওয়ার কথা ছিল। গেমসে বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে আমার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু গেমসটা হচ্ছে না।
তবে নতুন বছরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা আছে। তাতে আমি আমার সবটুকু দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্যও, যারা আমার প্রতি বিশ্বাস রাখেন, তাঁদের জন্য।
আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্যের বাইরে সবচেয়ে বড় আশা—বাংলাদেশে অ্যাথলেটিকস সত্যিকারের মর্যাদাপূর্ণ ও জনপ্রিয় একটি খেলায় পরিণত হোক। আমি চাই খেলাটিকে ছোট ছোট বাচ্চারাও অনুসরণ করবে, উপভোগ করবে। স্বপ্ন দেখবে অ্যাথলেট হওয়ার। খেলাধুলা মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। খেলাধুলা শৃঙ্খলা শেখায়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। নতুন স্বপ্ন দেখায়।
কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অ্যাথলেটদের নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে এখনো সেই সহায়তা প্রত্যাশিত অবস্থায় নেই। এই জায়গায় অবশ্যই পরিবর্তন দরকার। তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত যেন প্রতিভা নষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। নতুন বছরে এটা আমার বড় প্রত্যাশা।
শুধু অ্যাথলেটিকস নয়, বাংলাদেশের সব খেলা নিয়েই আমি স্বপ্ন দেখি। নতুন বছর খেলাধুলায় আমাদের বেশি বেশি ট্রফি আসুক। আরও নতুন রেকর্ড হোক আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে। আমি বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করার প্রতিভা আছে আমাদের। সঠিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে এবং সবার আন্তরিক সমর্থন পেলে আমাদের অ্যাথলেটরা মনোযোগ পারফরম্যান্সে দিতে পারবে। সাফল্য এনে দেশকে গর্বিত করতে পারবে। এই স্বপ্ন আমাদের পুরো জাতির।
২০২৫ সাল ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন বছরগুলোর একটি। ব্যক্তিগতভাবে এবং একজন অ্যাথলেট হিসেবেও। অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসাটা শুধু শারীরিক যুদ্ধই ছিল না, ছিল আবেগের এক লড়াইও। ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছি প্রতিদিন। ফলাফলের পেছনে দৌড়ানোর বদলে লক্ষ্য ছিল আগে সুস্থ হওয়া। নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা, যাতে ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারি।
বিদায়ী বছরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমি যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলাম, ততটা পারিনি। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আমার কাছে বিশাল গর্বের বিষয়। তবে জাতীয় সামার চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরে আবারও দেশের দ্রুততম মানব হতে পেরেছি। এটা ছিল আমার জন্য অসাধারণ এক মুহূর্ত। আমার পরিশ্রম ও ত্যাগ সার্থক হয়েছে।
যাত্রার প্রতিটি ধাপে, বিশেষ করে কঠিন সময়গুলোতে যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, নতুন বছরের শুরুতে সবাইকে অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, বার্তা, উৎসাহ আর আস্থাই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আশা করি নতুন বছরে অ্যাথলেটিকসসহ দেশের অন্য সব খেলায়ই আলো ছড়াবে।