
প্রথম ৯ ওভারে রান ছিল ৩৫, উইকেট পড়েনি একটিও। সুযোগও সেভাবে তৈরি হয়নি। পরের ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ৭০। কিন্তু ততক্ষণে নেই ৬ উইকেট। ম্যাচটা যে ততক্ষণে ঘুরে গেছে, তা না বললেও চলে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এর মাঝে যা হলো, সেটা একজনের হাত ধরেই—নাহিদ রানা। গতিই তাঁর আসল অস্ত্র। ঘরোয়া ক্রিকেটের পথ পাড়ি দিয়ে টেস্ট দলেও তিনি নিয়মিত মুখ। ওয়ানডে আর টি–টুয়েন্টিতেও পা রেখেছেন আগেই, কিন্তু থিতু হতে পারেননি।
সেই নাহিদ আজ সাদা বলের ক্রিকেটেও নিজের জাত চেনালেন। আগের ৫ ওয়ানডেতে তাঁর উইকেট ছিল ৫টি, সর্বোচ্চ ২ উইকেট পেয়েছিলেন অভিষেক ওয়ানডেতে। আর আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই নিলেন ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট, সেটিও আবার নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রতি ওভারে একটি করে নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এখন নাহিদ রানার।
গতিটা নাহিদের সহজাত, ফাস্ট বোলারসুলভ আক্রমণাত্মক দেখা যায় তাঁকে সব সময়ই। আজ সেই সঙ্গে তাঁর বোলিংয়ে যোগ হয়েছে বুদ্ধিমত্তা আর বৈচিত্র্যের প্রয়োগ।
সালমান আগার আউটটার কথাই ধরুন, স্কয়ার লেগে আগে থেকেই হেলমেট পরে দাঁড়িয়েছিল তানজিদ হাসান। তাঁর হাতে বলটা নিতে যেমন বোলিং করতে হতো, নাহিদ দেন সে রকমই ডেলিভারি। গা বরাবর লাফিয়ে উঠা বলে সালমান ফ্লিকটা করতে পারলেও বল গেছে তানজিদের হাতে।
এটি ছিল নাহিদের ৫ উইকেটের শেষটি। ৭ ওভারের স্পেলে বলতে গেলে একা হাতেই তিনি ধসিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং। শুরুর ৯ ওভারে নতুন বলের দুই বোলার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান মিলে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি।
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বল তুলে দেন নাহিদের হাতে। ওভারের শেষ বলে শর্ট লেন্থের বল পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাহিবজাদা ফারহান আউট হলে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। ১২তম ওভারে নাহিদের দ্বিতীয় শিকার শামিল হোসেন। অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান অবশ্য আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন। নাহিদের শর্ট লেন্থের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি।
আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্য প্রান্তে। নাহিদ থিতু হতে দিলেন না তাও। ১৪তম ওভারে শর্ট বলে মাজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ঠিকঠাক করতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন সাইফ হাসানের হাতে।
প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে ফেরানোর পর বাংলাদেশের হাতে চলে আসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। নাহিদ অবশ্য নিজের পরের দুই ওভারেও ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাকে। তাতে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় কেবলই সময়ের ব্যাপার।
নাহিদ উইকেট পেতে পারতেন তাঁর করা শেষ ওভারটাতেও (৭ম)। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া পাননি, রিভিউও নেয়নি বাংলাদেশ। টিভি রিপ্লেতে যদিও দেখা গেছে, রিভিউ নিলে আরেকটি উইকেটও যোগ হতো নাহিদের নামের পাশে।
নাহিদ পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চমকে দিয়েছেন বাউন্সারে, কখনো তাঁরা বিধ্বস্ত হয়েছেন শুধু তাঁর গতিতে, কখনো আবার পা দিয়েছেন নাহিদের পাতা ফাঁদে। তাতে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার তো ধসে গেছেই, নাহিদ দিলেন একটা বার্তাও। সাদা বলের ক্রিকেটেও এখন থেকে নিয়মিতই তাঁর কথা ভাবতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।