
গত ডিসেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগটা যেখানে শেষ করেছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগটা ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন আবু হায়দার।
সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে সর্বশেষবার ব্যাটিং করতে নেমে খেলেছিলেন ১৪১ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। রনি নামেই বেশি পরিচিত এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে ময়মনসিংহের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ১০১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর।
চার মাস পর আজ সেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই আবারও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে নামলেন আবু হায়দার। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে মধ্যাঞ্চলের প্রথম ইনিংসে হায়দার ব্যাটিং করতে নেমেছেন ১২৫ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর। আর সেখান থেকেই আশিকুর রহমান শিবলিকে নিয়ে দলকে উদ্ধার করেছেন হায়দার। আর কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রথম দিনটা মধ্যাঞ্চল শেষ করেছে ২৭২ রান তুলে। হায়দার অপরাজিত আছেন ৯০ রানে, ৭৫ রানে ছয়ে নামা আশিকুর।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে তৃতীয় সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকা আবু হায়দার ১১০ বলের ইনিংসে মেরেছেন ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা। তুলনায় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান আশিকুর অনেক দেখেশুনে খেলেছেন, ১৫১ বলে মেরেছেন ৮টি চার ও ১টি ছক্কা।
জিসান আলমের ইনিংসের তুলনায় অবশ্য অনেক দ্রুতগতিরই ছিলেন আশিকুর। ৮০ বলে ১৪ রান করেছেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ব্যাটসম্যান। জিসান প্রথম রানটি করেছেন ৫২তম বলে। মধ্যাঞ্চলের ওপেনার সাদমান ইসলামও ফিফটি পেয়েছেন, ১১৪ বলে করেছেন ৫৬ রান।
সাদমানকে ফিরিয়েই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন জাতীয় দলের অফ স্পিনার নাঈম হাসান। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার ইবাদত হোসেন ও তোফায়েল আহমেদ।
পাশের একাডেমি মাঠে প্রথম ইনিংসে ৩১৪ রানে অলআউট হয়ে গেছে দক্ষিণাঞ্চল। উত্তরাঞ্চল দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ১৬ রান তুলে। দক্ষিণের ৩০০ ছাড়ানো ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৩ রান অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের। এ ছাড়া বলার মতো রান পেয়েছেন ওপেনার ইফতেখার হোসেন (৪৯), রিজান হোসেন (৪৭), মঈন খান (৩৬), ফজলে রাব্বি (৩৪) ও এনামুল হক (৩১)। ১২৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর মিঠুন ও রিজান ১০৬ রানের জুটি গড়েন।
বাংলাদেশ টেস্ট দলের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মিডিয়াম পেসার আবদুল্লাহ আল মামুন নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট।