একটা সময় ছিল, যখন ব্যাট হাতে নামলেই যেন রান নিজে থেকে এসে জড়ো হতো জো রুটের চারপাশে। এখন সেই সময়টা যেন একটু দূরে সরে গেছে। তবে দূরে মানেই হারিয়ে যাওয়া নয়। রুট নিজেই সেটাই মনে করিয়ে দিলেন।
ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে খুব একটা স্বস্তিতে নেই। এই গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে মাত্র দুটি ফিফটি তাঁর। গড় নেমে এসেছে ২৯.৪৪ এ, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর তাঁর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। আরও চিন্তার বিষয়, সর্বশেষ ৭ টেস্টে ৯ বার এলবিডব্লু হয়েছেন, এর মধ্যে এই গ্রীষ্মেই ৭ বার।
তবে রুট এ নিয়ে চিন্তিত নন। বরং অভিজ্ঞতার কারণে আত্মবিশ্বাসী। লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শেষে তিনি বলেছেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এই খেলাটা খেলছি। সব সময়ই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করেছি। এবারও আলাদা কিছু দেখছি না। ১৪ হাজার রান তো আর এমনি এমনি করিনি। প্রায় ১৫ বছর এই পর্যায়ে খেলারও নিশ্চয়ই কারণ আছে।’
রুটের মতে, এই মৌসুমে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনই ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। বল বেশি নড়ছে, সিদ্ধান্তগুলোও সব সময় পক্ষে আসছে না। তিনি বললেন, ‘একটি নির্দিষ্ট উপায়ে আউট হওয়া অবশ্যই হতাশাজনক। তবে এর মধ্যে অন্তত চারটি সিদ্ধান্ত ছিল আম্পায়ার্স কল, যা যেকোনো দিকেই যেতে পারত। তা ছাড়া এখন বলও আগের চেয়ে বেশি নড়ছে।’
এই কঠিন সময়টাকে তিনি দেখছেন শেখার সুযোগ হিসেবে, ‘বাস্তবতা বুঝতে হবে। কোথায় আছি, সেটা জানতে হবে। একই সঙ্গে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সেটাও ভাবতে হবে। আমি নিশ্চিত, এই সময়টা পেরিয়ে যাব। খুব বেশি চিন্তিত নই।’
টেস্টে শচীন টেন্ডুলকারের ১৫৯২১ রানের রেকর্ড ছোঁয়ার লক্ষ্য এখন রুটের সামনে। এই মুহূর্তে তাঁর রান ১৬৮ টেস্টে ১৪২০৮। সর্বশেষ ১২ মাসে খেলা ১০ টেস্টে তাঁর গড় মাত্র ৩৬.৯৪, যার কারণে তাঁর ক্যারিয়ার গড়ও কমে হয়েছে ৫০.৩৮। সামনের পথটা যে কত কঠিন, তা নিজের বর্তমান ফর্ম দিয়েই যেন বুঝতে পারছেন রুট। তাঁর কথায়, ‘এই খেলায় কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। সবকিছুর জন্য পরিশ্রম করতে হয়। আমি সেটাই করে যাব।’
রুট জানেন, চ্যালেঞ্জ কখনো সহজ হবে না, ‘প্রতিনিয়তই পরীক্ষা হবে। নতুন কিছু শিখতে হবে, নিজেকে বদলাতে হবে। আমি কখনো এসব এড়িয়ে যাইনি, সামনেও যাব না।’
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিং কঠিন হওয়ার পেছনে বলেরও ভূমিকা দেখছেন রুট। তাঁর ধারণা, ডিউক বলের গঠনে কিছু পরিবর্তন এসেছে, ‘বলগুলো কিছুটা আলাদা। মনে হচ্ছে উপরের প্রলেপ বা পলিশে কিছু বদল এসেছে। বল যাতে আকার না হারায় তা নিয়ে হয়তো তারা চিন্তিত ছিল। এখন দেখছি, পিচে বেশি দাগ ফেলছে।’
ব্যক্তিগত ব্যাটিং ফর্ম যেমনই হোক, অধিনায়ক হিসেবে রুটের দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুটা হয়েছে দারুণ। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলির পর লর্ডসেও বড় জয় দিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ২০২৪ সালের পর এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়।
কিন্তু আনন্দের সেই হাওয়ায় যাতে কোনো কালবৈশাখীর ছায়া না পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর এই অধিনায়কের। সাম্প্রতিককালে নাইটক্লাব কাণ্ডে বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনাম হয়েছে ইংল্যান্ড দল। তবে এই টেস্টের আগেও ডার্বিতে এক নাইটক্লাবের বাইরে ঘটনার জেরে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন ব্রাইডন কার্স।
সিরিজ জয়ের আনন্দের মধ্যেও তাই সতীর্থদের একটা বার্তা দিয়ে রাখলেন রুট, ‘এ নিয়ে যেন আর কথা না হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ম্যাচ জেতা কঠিন, সিরিজ জেতা আরও কঠিন। উদ্যাপন করো, আনন্দ করো, কিন্তু সেটা হোক পরিমিত আর পরিণতভাবে।’