রাজনৈতিক কারণে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। যে কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেটার বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অন্য দেশের কোনো ক্রিকেটার ভারতের ভিসার আবেদন করলে বাড়তি নজরদারি আর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
আসছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এরই মধ্যে এমন ভিসা–জটিলতায় পড়েছেন ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র দলে থাকা কোনো কোনো পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। এবার এই জটিলতা কাটাতে মাঠে নেমেছে খোদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের স্কোয়াডে থাকা ৪২ জন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের ভারতের ভিসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে তারা।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভারতীয় ভিসা না পাওয়ার বিষয়টি এবার আলোচনায় আসে গত সপ্তাহে। যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার আলী খান দাবি করেন, তাঁকে ভিসা দেয়নি ভারত। তাঁর দাবি, তিনিসহ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটারের ভিসা ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্য তিন ক্রিকেটার হলেন যুক্তরাষ্ট্রের উইকেটরক্ষক–ব্যাটার শায়ান জাহাঙ্গীর, পেসার এহসান আদিল ও লেগ স্পিনার মোহাম্মদ মহসিন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসি তাঁদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়ার ব্যাপারটি দেখছে।
এরপর আবার খবর আসে ইংল্যান্ড দলের দুই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্পিনার আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদ এবং পেসার সাকিব মাহমুদের ভিসা আবেদন ভারত মঞ্জুর করেনি। তিনজনই অবশ্য পরে ভিসা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুধু এই তিনজনই নন, পিটিআই জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডস দলের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সদস্যরাও ভিসা পেয়েছেন। কানাডা দলের স্টাফ শাহ সেলিম জাফরের ভিসাও হয়েছে। এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ও কানাডা দলে থাকা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ভিসার প্রক্রিয়া চলছে। এই দলগুলোর জন্য ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায় বলে মনে করা হচ্ছে।
ভিসা ইস্যুর শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। সমন্বয়প্রক্রিয়ার পুরো সময়জুড়েই বিভিন্ন দেশের ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে আইসিসি। লক্ষ্য একটাই—বাকি থাকা আবেদনগুলো যেন দ্রুত ও নির্বিঘ্নে নিষ্পত্তি হয়। আইসিসি আশ্বাস পেয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ঝুলে থাকা ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই লজিস্টিকস দিক থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে সব দল—এমনটাই বিশ্বাস আইসিসির।