তাইজুল ইসলামের বলে খোঁচা মেরেছিলেন হাবিবুর রহমান। স্লিপে দাঁড়ানো তাওহিদ হৃদয় আর উইকটকিপার এনামুল হকের মাঝ দিয়ে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। হৃদয় আরেকটু তৎপর থাকলে ক্যাচটাও ধরতে পারতেন হয়তো। কিন্তু বলটা শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি পেরিয়ে যাওয়ায় আজ মিরপুরে মোহামেডানের বিপক্ষে ১৫ বলেই ফিফটি পূর্ণ হয় হাবিবুরের।
এর ফলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটিতে পারভেজ হোসেনের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হাবিবুর। ফিফটি পূর্ণ হওয়া ওই চারের শটটাই তাঁর ইনিংসে সবচেয়ে নড়বড়ে শট বলা যায়। এর আগে মোহামেডানের বোলারদের ওপর রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন হাবিবুর। নাহিদ রানার এক ওভারেই নিয়েছেন ২৬ রান!
গত কয়েক মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলোড়ন তুলেছেন নাহিদ রানা। আজই প্রথম তিনি খেলতে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। কিন্তু প্রথম ওভারেই ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই যেতে হয়েছে তাঁকে।
নাহিদের প্রথম বলটাই এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারেন হাবিবুর, সেটি হয় চার। পরের বলে ইনসাইড আউট করে কাভারের ওপর দিয়েই মারেন ছক্কা। তৃতীয় বলে বিরতি দিয়ে আবার পরপর দুই বলে হাবিবুর ছক্কা মারেন লং অফ আর স্কয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে। শেষ বলেও মুশফিকুর রহিমের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মেরে লং অন দিয়ে চার পান হাবিবুর। নাহিদের এক ওভারেই আসে ২৬ রান।
সেটি অবশ্য পঞ্চম ওভারের ঘটনা। হাবিবুর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের শুরু করেন এর আগেই। আজই এই মৌসুমে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ খেলতে নামা জাতীয় দলের আরেক তারকা পেসার তাসকিন আহমেদের ওভারেও দুই ছক্কা ও দুই চারে ২৫ রান নেন হাবিবুর।
প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমেই আবাহনীর হয়ে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন পারভেজ। এর আগে ৬ বছর এই রেকর্ড ছিল ফরহাদ রেজার কাছে। ২০১৯ সালে ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৮ বলে ফিফটি এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে।
রেকর্ড গড়ে অবশ্য খুব বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি হাবিবুর। ২৭ বলের ইনিংসে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৯ রান করে তিনি আউট হয়েছেন তাইবুর রহমানের বলে এলবিডব্লু হয়ে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও হাবিবুরের। কক্সবাজারে বিসিএল ওয়ানডেতে উত্তরাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি, সেটিই এখন পর্যন্ত লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।