
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক ম্যাচ, সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি! সেটাও মাত্র ৫৯ বলে। এখানেই শেষ নয়, যিনি সেঞ্চুরি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিন!
অবিশ্বাস্য এই কীর্তি গড়েছেন রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। গতকাল নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এই বিস্ময় বালিকা। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে কম বয়সী নারী ক্রিকেটার এখন উতাগুশিমানিন্দে।
৬৫ বলে অপরাজিত ১১১ রানের এই দুর্দান্ত ইনিংসে বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে উতাগুশিমানিন্দে রুয়ান্ডাকে এনে দিয়েছেন ১২২ রানের বিশাল জয়ও। সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৫৯ বল!
এর আগে নারীদের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন উগান্ডার প্রসকোভিয়া আলাকো। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে যখন তিনি সেঞ্চুরি করেন, তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২৩৩ দিন।
শুধু তা–ই নয়, নারী টি-টুয়েন্টিতে অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও এখন উতাগুশিমানিন্দের দখলে। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কারেন রোলটনের ৯৬ রানের রেকর্ডটি প্রায় দুই দশক পর ভেঙে দিলেন এই আফ্রিকান কিশোরী। ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন, যাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ২৮০ দিন। অর্থাৎ নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এখন কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান উতাগুশিমানিন্দে।
উতাগুশিমানিন্দের এই উঠে আসার গল্পটাও দারুণ। লর্ডসের বিখ্যাত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ফাউন্ডেশনের একটি স্কুল প্রোগ্রামের হাত ধরে তাঁর হাতে ক্রিকেটের খড়ি। রূপকথার মতো এই অভিষেক শেষে বিবিসি স্পোর্টসকে ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে বলেছেন, ‘এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। ১৫ বছর বয়সে অভিষেকেই এমন কিছু পাব ভাবিনি। এই অর্জন আমার কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের ফল।’
রুয়ান্ডার কোচ লিওনার্ড নাম্বুরোও বেশ উচ্ছ্বসিত। তাঁর কথা, ‘এই পারফরম্যান্স তার কঠোর পরিশ্রম আর নিবেদনের প্রমাণ। বছরের পর বছর ত্যাগ আর একাগ্রতার ফল এটা। রুয়ান্ডায় উন্নয়নমূলক ক্রিকেট কীভাবে এগোচ্ছে, সেটারও বড় উদাহরণ।’