স্যাম বোদুয়ানো
স্যাম বোদুয়ানো

একটি বলের জন্য ১০০ কিলোমিটারের ‘রানআপ’

বোলার রানআপ নিচ্ছেন। ব্যাটসম্যানও প্রস্তুত। কিন্তু অপেক্ষা করুন—এই রানআপ শেষ হতে একটু সময় লাগবে। কতক্ষণ? ১০ মিনিট? ২০ মিনিট? না, পুরো ১৪ ঘণ্টা। কারণ, বোলারের রানআপের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটার! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমনটাই করেছেন ইংল্যান্ডের গিল্ডফোর্ডের ক্লাব ক্রিকেটার স্যাম বোদুয়ানো।

২২ বছর বয়সী স্যাম লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে দৌড় শুরু করে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছেন একটি ক্রিকেট মাঠে। এরপর বল ছোড়েন তিনি। গত শনিবার রাত ১২টায় লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে শুরু হয় স্যামের এই অদ্ভুত রানআপ। হাতে ক্রিকেট বল, পরনে পুরো ক্রিকেট পোশাক। দেখে মনে হতে পারে, বল হাতে নিয়ে এখনই দৌড়ে এসে বোলিং করবেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁর সামনে তখনো প্রায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তা। গন্তব্য ছিল ওকিংয়ের ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব।

রাত পেরিয়ে ভোর হলো, ভোর পেরিয়ে সকাল। স্যাম তখনো ছুটছেন। পথে লন্ডন ব্রিজে দাঁড়িয়ে ১০ কিলোমিটার দৌড়ানোর খবর দিয়ে ভিডিও করেন। ভোর ৫টা ১১ মিনিটেও দৌড়াতে দৌড়াতেই ভিডিও বানিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষ যখন ঘুমিয়ে, স্যাম তখন ক্রিকেট মাঠে পৌঁছানোর জন্য নিজের শরীরের সঙ্গে লড়াই করছেন।    

প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর রোববার বেলা ২টার দিকে ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাবে পৌঁছান তিনি। শেষ হয় ১০০ কিলোমিটারের দৌড়। তবে স্যামের চ্যালেঞ্জ তখনো শেষ হয়নি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, দৌড় শেষ করার পর বিশ্রাম নেওয়া যাবে না। সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচে বোলিং করতে হবে। ফলে ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে মাঠে পৌঁছানোর পরই স্যামের সামনে নতুন পরীক্ষা ছিল বল হাতে নেওয়া।

১০০ কিলোমিটার দৌড়ে এসে বল ছোঁড়েন স্যাম

চ্যালেঞ্জটির নিয়মও ছিল বেশ কড়া। পুরো দৌড়ের সময় হাতে রাখতে হবে ক্রিকেট বল এবং পরনে থাকতে হবে সম্পূর্ণ ক্রিকেট পোশাক। অর্থাৎ ক্লান্তিতে হাঁসফাঁস করলেও জার্সি খুলে একটু আরাম করার সুযোগ ছিল না।

এমন অদ্ভুত চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পেছনে অবশ্য একটি ভিডিওর ভূমিকা আছে। স্যাম দেখেছিলেন, আগের রেকর্ডধারী ২৪ কিলোমিটার দৌড়ে এসে বোলিং করেছিলেন। সেটি দেখেই তাঁর মাথায় আসে ২৪ কিলোমিটার যদি সম্ভব হয়, তাহলে ১০০ কিলোমিটার কেন নয়?

এমন ভাবনা থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। এরপর একসময় সত্যিই লর্ডস থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ক্রিকেট মাঠের উদ্দেশে ছুটে যান স্যাম। আর এই পুরো আয়োজনের সবচেয়ে মজার অংশটি অপেক্ষা করছিল শেষেই। ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে এসে স্যামের প্রথম বলের সামনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর বাবা।

তবে পুরো চ্যালেঞ্জের উদ্দেশ্য শুধু রেকর্ড গড়া ছিল না। এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে স্যাম রুথ স্ট্রস ফাউন্ডেশনের জন্য ৬ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন স্যাম। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রসের প্রয়াত স্ত্রী রুথ স্ট্রসের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা ক্যানসারে প্রিয়জনকে হারানো কিংবা টার্মিনাল ক্যানসারের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়।