
জশ হ্যাজলউডের জন্য উপলক্ষটা ছিল বেশ বড়। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের উপলক্ষটা তো বড়ই। সেই উপলক্ষও তিনি রাঙিয়েছেন ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে। অথচ এমন উপলক্ষও মন খুলে উদ্যাপন করতে পারছেন না হ্যাজলউড।
করবেন কী করে, ডারউইন টেস্টে যে তখন খুব ভালো অবস্থায় নেই তাঁর দল। দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নেই স্বীকৃত ৪ ব্যাটসম্যান। হ্যাজলউডের কণ্ঠেও ব্যক্তিগত তৃপ্তি ছাপিয়ে দলের ঘুরে দাঁড়ানোটার সুরটাই বড়, ‘হ্যাঁ, ব্যক্তিগত সাফল্য পাওয়াটা অবশ্যই আনন্দের। তবে এই মুহূর্তে দলের পরিস্থিতি ও ম্যাচের প্রেক্ষাপটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সত্যি বলতে, মাঠে পেসারদের জন্য কাজটা বেশ কঠিন ছিল। শুরুর ৮ থেকে ১০ ওভারের সুযোগ বোলারদের কাজে লাগাতে হয়। এরপর বল পুরোনো ও নরম হয়ে গেলে বোলিং করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’
প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় পরীক্ষা নিয়েছে তারা। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান করেছে বাংলাদেশ। এই লম্বা সময় বোলিংয়ের ধকলে একপর্যায়ে নাকি উইকেট পাওয়ার জন্য শুধু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুলের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা।
হ্যাজলউডের মুখেই তা শুনুন, ‘মূল লক্ষ্য ছিল চাপ তৈরি করা, যা আমরা কিছু জায়গায় আরও ভালোভাবে করতে পারতাম। প্রতিপক্ষের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ের কথা বাদ দিলেও প্রথম ভাগে রান তোলার গতি একটু বেশিই ছিল। টানা কিছু মেডেন ওভার দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব।’
চাপে রাখার কাজটা করতে না পারার আফসোসও দিন শেষে করেছেন হ্যাজলউড। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া ১৬১ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। হ্যাজউলড মনে করেন, ব্যাটিংয়ের জন্য এখনো ভালো উইকেটে যা তাঁরা করতে পারেননি, তা করেই সফল হচ্ছেন বাংলাদেশের বোলাররা।
ডারউইনের উইকেটের ধরন নিয়ে হ্যাজলউডের মত, ‘উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। রান তোলার গতি কমিয়ে ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করাটাই এখন উইকেট নেওয়ার সেরা উপায়। এ ছাড়া নতুন বলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে, গতকাল বিকেলে আমরা যা ভালোভাবে করেছিলাম।’
পরে তিনি কৃতিত্ব দেন বাংলাদেশের বোলারদের, ‘বাংলাদেশ নতুন বলে শুরুতেই দুটি দ্রুত উইকেট তুলে নিয়েছে। বলের শক্ত ভাব কমে গেলে খুব একটা সুবিধা দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রান আটকে সাফল্য পেয়েছে, যা এই উইকেটে সামনে এগোনোর সঠিক পথ।’
অস্ট্রেলিয়ার এখন চাওয়া আগামীকাল সারা দিন ব্যাটিং করা। ৪৩ রানে ক্যামেরন গ্রিন এবং ১৯ রানে অপরাজিত আছেন অ্যালেক্স ক্যারি। তাঁরা দুজন অপরাজিত থাকতেই লিড চান হ্যাজউলউড।
অস্ট্রেলিয়ার জয় নিয়ে এই আশাবাদী পেসার বলেন, ‘এই মাঠে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা বেশি না থাকায় উইকেট কেমন আচরণ করবে, বলা কঠিন, তবে কিছু বল অসমান বাউন্স করছে। আমরা যদি আগামীকাল সারা দিন দীর্ঘ ব্যাটিং করতে পারি, তবে শেষ দিনে ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জয় পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো আমাদের মাথায় আছে এবং সে লক্ষ্যেই আমরা খেলছি।’