মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল
মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল

নিউজিল্যান্ডের অর্ধেক চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারই কেন খেলছেন দেশের বাইরে

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড দলের যে চেহারা দেখে সবাই অভ্যস্ত, এবারের বাংলাদেশ সফরে ঠিক সেই দলটা আসেনি। অনেকটা দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই এসেছে তারা। তাই বলে এই দলটাকে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলও বলার উপায় নেই। ১১ এপ্রিল শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা সফরের ‘এ’ দলে থাকা মাত্র তিনজন ক্রিকেটার আছেন বাংলাদেশে আসা নিউজিল্যান্ডের দলটিতে।

তার মানে নিয়মিত জাতীয় দলে নেই, আবার ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের চেয়ে একটু অভিজ্ঞ, এমন ক্রিকেটারদের নিয়েই গড়া হয়েছে বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে দলটি। মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার মতো ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতেই জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের বিভিন্নভাবে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড।

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দলের কোচ রব ওয়াল্টারও বলেন একই কথা, ‘এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের ৫৪ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলছেন, সেটা আইপিএল, পিএসএল, এখানে বা শ্রীলঙ্কায় যেখানে–ই হোক না কেন। সংখ্যাটা আমাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের প্রায় অর্ধেক। আমাদের জন্য এটি একটি বিশাল ইতিবাচক দিক। আমরা বিশালসংখ্যক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি এবং চেষ্টা করছি যাতে কেবল একটি ছোট গ্রুপ নয়, বরং আমাদের পুরো সিস্টেমটি শক্তিশালী হয়।’

সদ্য সমাপ্ত ‘এ’ দলের শ্রীলঙ্কা সফরেও একই পথে হেঁটেছিল নিউজিল্যান্ড। জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটার হলেও বাংলাদেশে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের সবাইকে পাঠানো হয়নি শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের সফরে। বাংলাদেশে আসা ক্রিকেটারদের মধ্যে মাত্র তিনজনই ছিলেন সেই দলে—টিম রবিনসন, আদিত্য আশোক ও মোহাম্মদ আব্বাস।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ওয়াল্টারের মুখে আবারও সেই কথা, ‘আমরা যদি আমাদের পুরো দলটা শ্রীলঙ্কায় পাঠাতাম, তারপর তাদের আবার এখানে নিয়ে আসতাম, তাহলে আমরা অন্য ১২ জন খেলোয়াড়কে শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের স্কিলে উন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতাম। আমরা এটা না করারই চেষ্টা করি। প্রতিটি সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চাই।’

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের কিউরেটর টমি হেমিংয়ের (ডানে) সঙ্গে নিউজিল্যান্ড কোচ রব ওয়াল্টার (বাঁয়ে)

নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছে এ বছরের জানুয়ারিতে, ভারতের বিপক্ষে। সিরিজের শেষ ম্যাচের একাদশের দুজন উইল ইয়াং ও জেডেন লেনেক্স আছেন এবারের স্কোয়াডে। নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির সব ক্রিকেটারই এখন ব্যস্ত আইপিএল ও পিএসএলে।


এর কারণটাও পরিষ্কার। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের এই সময়ে নিজেদের খেলোয়াড়দের ভিত যত বেশি সম্ভব শক্ত করতে চায় তারা। ক্রিকেটারদের তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ছাড়পত্র দিতে কার্পন্য নেই তাদের।

নিউজিল্যান্ড কোচ বলেন, ‘আমরা জানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন চ্যালেঞ্জিং। অনেক খেলোয়াড়কেই বিভিন্ন লিগে খেলানোর জন্য টানাটানি করা হচ্ছে। দিনশেষে আমাদের সেটি সামলাতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা যার বিপক্ষেই খেলি না কেন, আমাদের যেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে।’