দুটি ফিফটিতে ভালো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ
দুটি ফিফটিতে ভালো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ

টানা পাঁচ ম্যাচে জয়, বিশ্বকাপের খুব কাছে নিগাররা

টানা পাঁচ ম্যাচে জয়!

আইসিসি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা যেন অপ্রতিরোধ্য। আজ থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয়ের স্বাদ পেলেন নিগার সুলতানারা। নেপালের মুলপানিতে এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট এখন বাংলাদেশের প্রায় হাতের মুঠোয়।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। নারী টি-টুয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের মেয়েদের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাব দিতে নেমে থাইল্যান্ডের দৌড় থেমেছে ১২৬ রানেই।

বিশ্বকাপের সমীকরণটা এখন বেশ সহজ। আজ দুপুরে নেদারল্যান্ডস যদি যুক্তরাষ্ট্রকে হারায়, তবে আজই বাংলাদেশের মূল পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদি তা না-ও হয়, তাতেও ভয়ের কিছু নেই। সুপার সিক্সের বাকি দুই ম্যাচের একটিতে জিতলে কিংবা একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলেও বিশ্বকাপের টিকিট পাবেন মারুফারা।

সুপার সিক্সের টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সবার ওপরে। ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নিগারদের। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্ট এখানে যোগ হয়েছে। সুপার সিক্সে সুযোগ পাওয়া যে দলগুলো গ্রুপেও প্রতিপক্ষ ছিল, তারা এই রাউন্ডে একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে না। যে কারণে সুপার সিক্সে একটা দল আসলে ম্যাচ খেলবে ৩টি, হিসাব হবে মোট ৫ ম্যাচের পয়েন্ট। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রানরেট (১.১৫০), তাদের চেয়ে ভালো রানরেট শুধু ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া স্কটল্যান্ডের (১.৩৫৬)। সুপার সিক্সের সেরা চারটি দল সুযোগ পাবে এ বছর জুন–জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। ফলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলাও একরকম নিশ্চিতই বলা যায়। বাকি দুই ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পেলে এ নিয়ে আর কোনো সন্দেহই থাকবে না।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ছিল বিশাল এক ধাক্কা খেয়ে। প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে ফিরে যান ওপেনার দিলারা আক্তার। দ্রুত ফেরেন শারমিনও। তবে এরপরই হাল ধরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি। এই দুজনের ৮২ বলে ১১০ রানের জুটিই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৪ ছক্কায় করেছেন ৫৬ রান। নারী টি–টুয়েন্টিতে এক ইনিংসে এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। অন্য প্রান্তে সোবহানা ছিলেন আরও মারমুখী, ৪২ বলে ৫৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ‘ক্যামিও’তে স্কোরবোর্ডটা সমৃদ্ধ হয়।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন সোবহানা মোস্তারি

ব্যাট হাতে দিলারা প্রথম বলে আউট হলেও বল হাতে তার শোধ নিয়েছেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম বলেই থাই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। এরপর থাইল্যান্ড আর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। ১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬১ রান তুললেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানরেট কখনোই তাদের নাগালে ছিল না। শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৭৫ রান, যা অসম্ভবই ছিল তাদের জন্য। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানেই থামে থাইদের ইনিংস। মারুফা ২৫ রানে ৩টি এবং রিতু ও স্বর্ণা নেন ২টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৫/৮ (জুয়াইরিয়া ৫৬, সোবহানা ৫৯, রিতু ১৫, শারমিন ১১; পুত্থাওয়াং ৩/২২, ওনিচা ২/২৯)।

থাইল্যান্ড: ২০ ওভারে ১২৬/৮ (চ্যান্থাম ৪৬, চাইউই ৩০, কোনচারোয়নকাই ২৯; মারুফা ৩/২৫, রিতু ২/২০, স্বর্ণা ২/২১)।

ফল: বাংলাদেশ ৩৯ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: সোবহানা মোস্তারি