ইবাদত হোসেন
ইবাদত হোসেন

আবুধাবিতে টেস্ট ম্যাচ, গরমে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল জানালেন ইবাদত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলার অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে বাংলাদেশের। তবে সবই ছিল ওয়ানডে কিংবা টি–টুয়েন্টি ম্যাচ, সেগুলোও দিবারাত্রির। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কৌশলটাও তাই ছিল আলাদা। এবারই প্রথম আরব আমিরাতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

দিনের বেলা পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলার প্রস্তুতিটাও তাই নিতে হচ্ছে অন্যভাবে। গত ১ অক্টোবর দুবাইয়ে যায় বাংলাদেশ দল। প্রথম কয়েক দিন আইসিসি একাডেমি মাঠে অনুশীলনের পর গত দুই দিন তারা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। দুই দিনের ম্যাচ, স্বাভাবিকভাবেই ড্র হয়েছে সেটি।

দুবাইয়ের গরমটা এই কয় দিনে ভালোভাবেই টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল। বিসিবির পাঠানো এক ভিডিওতে পেসার ইবাদত হোসেনের কথায়ও এসেছে সে প্রসঙ্গ। প্রায় ৪৫ ডিগ্রি অনুভূত তাপমাত্রায় কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন, সেটাই জানালেন তিনি, ‘আমি ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। হাইড্রেটেড থাকার জন্য বেশি করে পানি ও বিভিন্ন ধরনের পানীয় পান করি। ডাবের পানি খাই, ফলমূলও বেশি খাই।’

জাতীয় দলের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলও নিয়মিতই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কন্ডিশনে খেলতে যায়। ১০ অক্টোবর যেমন আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচটি ও ওমানের বিপক্ষে দুটি ৫০ ওভারের ম্যাচের সিরিজ খেলতে ওমানে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল।

ভবিষ্যতে যাঁরা এ ধরনের কন্ডিশনে খেলতে আসবেন, তাঁদের জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন ইবাদত, ‘আর্দ্রতা কেমন, গরম কেমন, এগুলো (আগে থেকেই) জানা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আসার পর আমি যেটা করি, প্রথম যেদিন অনুশীলন করি, তখন খালি পায়ে প্রায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটি।’

দুবাইয়ের একাডেমি মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ

কেন এই কাজ করেন, সেটিরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি, ‘মাঠের সঙ্গে যেন একটা সংযোগ তৈরি হয়। এতে মাটির সঙ্গে মানুষের শরীরের যে সংযোগ, সেটা খুব ভালো হয়। শরীর এই আবহাওয়ার সঙ্গে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। এখানে এসে জুতা ছাড়া খালি পায়ে আধা ঘণ্টা–এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটলে শরীর এই আবহাওয়া, এই গরমের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।’

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৯ অক্টোবর একমাত্র টেস্টের আগে আইসিসি একাডেমি মাঠে দুই দিনের একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন সৌম্য সরকার। এ ছাড়া সাদমান ইসলাম করেছেন ৪৬, নাঈম হাসান ৩৬ ও মুমিনুল হক ৩৩। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৪ রান করে বাংলাদেশ। এই ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান, সাদমান করেন ৩২।

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাদের একমাত্র ইনিংসে ৫৩.৫ ওভারে ২২২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। দলের সঙ্গে রিজার্ভ হিসেবে যাওয়া পেসার ইকবাল হোসেন ৪টি ও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট। ৯ ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন ইবাদত।

দুবাইয়ে দীর্ঘ সংস্করণের প্রস্তুতি নিয়ে ইবাদত বলেন, ‘রুমে যতক্ষণ থাকব, ততক্ষণ প্রচুর পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল পান করব। বিশেষ করে নাশতার সময় বেশি করে ফল খাওয়া, ডাবের পানি–তরমুজ এগুলো বেশি করে খাওয়া, পানি বেশি করে খাওয়া...এগুলোই আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’