জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে নিজেদের পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে বাংলাদেশ
জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে নিজেদের পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চাই আরও কিছু

ফাইনালে ওঠার হিসাবটা কী?
শারজায় আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে নিশ্চিতভাবেই ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নটা। প্রথম হিসাবটা সোজাসাপটা—ম্যাচটা আগে জিততে হবে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলতে শুধু জয়ই যথেষ্ট হবে না বাংলাদেশের জন্য। অলিখিত সেমিফাইনালের চেয়েও কঠিন হয়ে ওঠা মেলাতে হবে অন্য হিসাবও।

প্রথমে ব্যাটিং করলে বাংলাদেশ আজ যত রানই করুক, ম্যাচটা জিততে তো হবেই, জয়ের ব্যবধান হতে হবে কমপক্ষে ৪১ রানের। পরে ব্যাট করলে হিসাবটা হবে আরও জটিল। ধরুন, আফগানিস্তান যদি ৩০০ রান করে, বাংলাদেশকে তখন জিততে হবে ৪২.২ ওভারের মধ্যে। এভাবে প্রতিপক্ষের রানের হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশকে কত ওভারে জিততে হবে, সেই সমীকরণটাও বদলে যাবে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় জয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান

এসব অঙ্ক মেলানোর আগে প্রথমে যে ম্যাচ জেতার কাজ, সেটাই বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ, যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৯৯ রানে হেরে গেছে, তাদের তেমন পাত্তাই দেয়নি আফগানিস্তান। পরশু এই দুই দলের ম্যাচে ব্যাটিং–বোলিং কোথাওই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।
আফগানদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসও খুব সুখকর নয়। সর্বশেষ দুটি সিরিজেই তাদের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ, গত বছর যার শেষটিতে হতে হয়েছে ধবলধোলাইও। ওদিকে সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডের চারটিতেই জিতেছে আফগানিস্তান। আর বাংলাদেশের অবস্থা পুরোপুরি উল্টো—পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই তারা হেরেছে।

মাঠের ক্রিকেটেও বাংলাদেশের জন্য বর্তমান বাস্তবতাটা কঠিন। ওয়ানডের ব্যাটিংটা বাংলাদেশের জন্য অনেক দিন ধরেই দুশ্চিন্তার। কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায় রান তাড়া করতে নামলে। গত তিন বছরে ১৫ বার দুই শর বেশি রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ সফল হয়েছে মাত্র চারবার। এখনকার ক্রিকেটে যেখানে তিন শ রানই তাড়া হয় নিয়মিত, সেখানে কি না বাংলাদেশ দুই শ রানই তাড়া করতে পারছে না!

বলা বাহুল্য, এই সংকটের মূলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে গত তিন বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের চেয়ে মিডল অর্ডারে কম গড়ে রান করেছে শুধু জিম্বাবুয়ে আর আয়ারল্যান্ড। মিডল অর্ডারের এই দুঃসময়ে মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন রশিদ খান।

যদি স্কিলের সমস্যা থাকত তাহলে কিন্তু আমরা ঘরের মাঠেও ভুগতাম। আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, যদি একই মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বাইরেও খেলতে পারি, দল হিসেবে খুব ভালো করব।
তানজিদ হাসান


রশিদের স্পিনের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বরাবর অস্বস্তিতেই থাকেন। ১৯ গড়ে তিনি ৩৫ উইকেট পেয়েছেন শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষেই। তার ওপর অভিজ্ঞ এই লেগ স্পিনার দারুণ ফর্মেও আছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের সর্বশেষ ম্যাচে ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে এগোতে দেননি তো তিনিই।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এই সংকটকে অবশ্য মানসিক বলেই মনে করেন ওপেনার তানজিদ হাসান।


বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এই সংকটকে অবশ্য মানসিক বলেই মনে করেন ওপেনার তানজিদ হাসান। গতকাল দলের পক্ষে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি বলব এটা মানসিক ব্যাপার। ৩০০-৩৫০ রানের কথা চিন্তা না করে যদি আমরা এটা ছোট ছোট লক্ষ্য বানিয়ে খেলি, তাহলে আমার মনে হয় সহজ হবে। এভাবেই আমাদের মানসিকভাবে নিজেদের ঠিক করতে হবে।’

এ বছর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ টানা চার সিরিজে জিতলেও দেশের বাইরের পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে আগে থেকেই। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর দেশের বাইরে বাংলাদেশ যে ১৭টি ওয়ানডে খেলেছে, হেরেছে তার ১৩টিতেই। অথচ এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা–জিম্বাবুয়ে–নামিবিয়ার মতো বিরুদ্ধ কন্ডিশনেই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হবে।


তানজিদ অবশ্য তাঁদের সামর্থ্যে কোনো ঘাটতি দেখছেন না। এ নিয়ে বলতে গিয়ে আবারও মানসিকতার প্রসঙ্গই আনলেন সামনে, ‘যদি স্কিলের সমস্যা থাকত তাহলে কিন্তু আমরা ঘরের মাঠেও ভুগতাম। আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, যদি একই মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বাইরেও খেলতে পারি, দল হিসেবে খুব ভালো করব।’


সেটা আজ থেকে করতে পারলেই ভালো। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় এবং জয়ের ব্যবধানের সমীকরণ মিলিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠাটাই এখন মুখ্য। তুলনামূলক কাছাকাছি বা খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তানকে নিয়ে সিরিজের ফাইনালেও যদি খেলতে না পারে, বিশ্বকাপের আগে সেটি যে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেবে!