এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সহকারী কোচ নিক পোথাস ইংল্যান্ডের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। শুরুটা তাঁর হয়েই গেছে। এবার দেশের মাটিতে জাতীয় দলের অনুশীলনে কাজ শুরু করেছেন তিনি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গত কয়েক দিন জাতীয় দলের অনুশীলনটা দেখছেন তিনিই। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এই মুহূর্তে ছুটিতে আছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার ইংল্যান্ড থেকেই ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি কেমন দেখছেন, সেটি জানা গেল আজ। দায়িত্ব নেওয়ার পর মিরপুরে আজই প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন তিনি।
বিসিবির সঙ্গে পোথাসের চুক্তি দুই বছরের। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তটা নিতে তাঁর জন্য খুব একটা কঠিন ছিল না বলেই জানিয়েছেন তিনি, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন ছিল না। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে গত ১২-১৮ মাস ধরে দেখছি। দলের মধ্যে যে সামর্থ্য আছে সেটি এক কথায় অসাধারণ। গত ৬-৮ মাস ওরা যেভাবে খেলছে, আমার মনে হয় ওরা অনেক দূর যাবে। আর সেটা আমার জন্য খুবই রোমাঞ্চকর।’
সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের সঙ্গে চলমান সিরিজের কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি। লাল বলের ক্রিকেটে দুর্বলতাটা আরও একবার প্রকট হয়ে উঠেছে তাতে। প্রসঙ্গটা উঠতেই পোথাস প্রথমে একটু রসিকতা করে নিলেন, ‘আমার কাছে জাদুর কাঠি আছে। সেটি দিয়েই বাংলাদেশ দলকে বদলে দিতে চাই....মজা করে বললাম কথাটা।’
পোথাস পরে যেটা বলেছেন, সেটাই আসলে বাস্তবতা, ‘নতুন একটা সংস্কৃতিতে এসে হুট করে সব বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। আমি সেটি পারবও না। আগে ছেলেদের দেখতে হবে। ওরা কীভাবে খেলে, সেটা দেখতে হবে। আপনাদের কথা অনুযায়ী, টেস্ট দলের খেলোয়াড়েরা অতটা ভালো করছে না যতটা করা উচিত। কিন্তু ভালো সময় আসবে।’
পোথাস সে ব্যাপারে এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, ভালো সময় না আসার কোনো কারণই দেখছেন না তিনি, ‘দলটার যে সামর্থ্য, ওদের ভালো না করার কোনো কারণ নেই। এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। কিছু দল এখন ভালো অবস্থায় আছে। কিছু দল প্রত্যাশিত জায়গায় নেই। আশা করি আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো জায়গায় যেতে পারব।’
অন্য সব দলের মতো এখন বাংলাদেশের চোখও বিশ্বকাপে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের কি করা উচিত, সে প্রসঙ্গে পোথাসের উত্তর, ‘সব দেশই এখন বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে। আমরাও ব্যতিক্রম নই। বাংলাদেশ দলের এখনকার ক্রিকেটাররা অনেক ভালো কিছু করতে চায়। আমরা বিশ্বকাপে নিজেদের গর্বিত করতে চাই। আপনি জানেন না বিশ্বকাপে আপনি কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। আমরা তাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের জিনিস নিয়ে চিন্তা করতে চাই না। আমাদের নিজেদের ঘর নিয়েই চিন্তা করা উচিত।’