ভারতে বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেঁধে দেয়নি আইসিসি, বলছে বিসিবি

প্রশ্নটা বদলে গেছে! আগে প্রশ্ন ছিল—এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে কি না। এখন প্রশ্নটা হয়ে গেছে এ রকম—টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থাকবে কি না!

প্রশ্নটা আসলে বদলে গেছে পরশু রাতে একটি খবরে, যেটি করেছে ক্রিকেটবিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো ও বার্তা সংস্থা এএফপি। খবরটি ছিল এ রকম—বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, সেটা আগামী বুধবারের মধ্যে আইসিসিকে জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। খবরটিতে আরও লেখা হয়েছে, আইসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গেলে সেই জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হবে।

এ খবর নিয়ে কাল প্রায় সারা দিনই ক্রিকেটমহলে ছিল ব্যাপক আলোচনা। সেই আলোচনার মধ্যেই কাল বিকেলে ইএসপিএনক্রিকইনফো ও এএফপির খবরটি নাকচ করে দিয়েছে বিসিবি। আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে করা প্রতিবেদনটি সঠিক নয় বলে দাবি তাদের। একই সঙ্গে বিসিবির ভাষ্য, আইসিসি এ ব্যাপারে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।

বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিসিবির সঙ্গে বৈঠকের পর আইসিসি প্রতিনিধিরা বলেছেন, তাঁরা ফিরে গিয়ে আইসিসিতে সবকিছু জানাবেন। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আমজাদ কাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওনারা সুনির্দিষ্টি তারিখ বা কবে নাগাদ জানাবেন, কিছুই বলেননি। শুধু জানিয়েছেন, পরবর্তী তারিখটি কবে হবে, আমাদের জানিয়ে দেবেন।’

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যালয়

আমজাদ হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না। এক মিনিটের কম সময়ে নিজের বক্তব্য শেষ করে তিনি চলে যান। বিসিবি–সংশ্লিষ্ট কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না। তবে সূত্রের খবর, বিসিবিকে সময় বেঁধে দেওয়ার আসলে কিছু নেই। কারণ, নিরাপত্তা–সংকটের কারণে ভারতে না গিয়ে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আগের মতোই অটল বিসিবি।

শুরুতে অনলাইন বৈঠকে বিসিবিকে ভারতে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করে আইসিসি। পরে শুক্রবার তারা একজন প্রতিনিধিকে ঢাকায় পাঠায়। অনলাইন ও সরাসরি—দুটি বৈঠকেই বিসিবি তাদের একই অবস্থানের কথা জানিয়েছে। গত শনিবারের বৈঠকের পর তাদের কাছ থেকে তাই নতুন করে আর কিছু জানার নেই। এখন আইসিসিই শুধু জানাবে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলোকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না। তা না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদরদপ্তর

বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে এই দোলাচলে এরই মধ্যে বিসিবির কর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। শনিবারের বৈঠকেই গ্রুপ বদলের একটি প্রস্তাবও বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। ‘সি’ গ্রুপ থেকে সরিয়ে বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ডের জায়গায় নেওয়ার সেই প্রস্তাবে আবার আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড রাজি নয়। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যোগাযোগ করেও ইতিবাচক সাড়া পাননি।

বাংলাদেশের শেষ আশা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সমর্থন। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সেই সমর্থন বিসিবি পেয়েছেও। পিসিবি নাকি বলেছে, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না করে দিলে তারাও টুর্নামেন্ট বর্জন করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সেই অবস্থানে অনড় থাকবে কি না, সেই নিশ্চয়তা কোথায়! সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই আছে।