আজ জিতলেই সিরিজ বাংলাদেশের
আজ জিতলেই সিরিজ বাংলাদেশের

আজ দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টি

সিরিজ জিততে কী করতে হবে, জানে বাংলাদেশ

টি–টুয়েন্টিতে গত এক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে অন্য এক বাংলাদেশ দলকে। এ সংস্করণে জিততে হলে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা ছাড়া উপায় নেই। সেই মন্ত্র জপেই এখন এই ক্রিকেটটা খেলে বাংলাদেশ দল, যেটির ধারাবাহিকতা দেখা গেছে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি–টুয়েন্টিতেও। নিউজিল্যান্ডের ১৮২ রান তাড়া করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ২ ওভার বাকি থাকতেই।

চট্টগ্রামেই আজকের দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিটা তাতে বাংলাদেশ দলের জন্য হয়ে গেছে সিরিজ জয়ের উপলক্ষ, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সিরিজে ফেরার ম্যাচ। প্রথম টি–টুয়েন্টিটা ওভাবে জেতার পর এতে কোনো সংশয়ই নেই যে আজ দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিতেও একই রকম সাহসী মেজাজে খেলতে চাইবে লিটন দাসের দল। কোচিং স্টাফের এক সদস্যের কথায়ও কাল মিলল সেই আভাস। ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক, টিম ম্যানেজমেন্ট এই সিরিজে দলকে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার বার্তাই দিয়ে রেখেছে।

এমন ম্যাচের আগে কালকের বৃষ্টিস্নাত দিনটা বাংলাদেশ দল কাটিয়েছে হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে। সিরিজকেন্দ্রিক যা একটু দৃশ্যমান ব্যস্ততা, তা ছিল কেবল মেহেদী হাসানের। পরশুর জয়ে ব্যাটসম্যানদের যত অবদানই থাকুক না কেন, হোটেলে বসে করা বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় এই অফ স্পিনার মনে করিয়ে দিয়েছেন, পাওয়ারপ্লেতে কিউইরা ৬৬ রান তুলে ফেলার পর স্পিনাররাই তাদের আটকে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ১৮৩ রানের লক্ষ্যটা নয়তো বড় হতে পারত আরও।

চট্টগ্রামে আকাশ গতকাল সারা দিনই ছিল মেঘে ঢাকা

নিউজিল্যান্ড দল অবশ্য পুরোপুরি বিশ্রামে ছিল না কাল। মেঘে ঢাকা আকাশ আর বজ্র বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দলের কয়েকজন চলে গিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের ইনডোরে অনুশীলন করতে। চট্টগ্রামে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে আজও। অবশ্য সে শঙ্কা ছিল প্রথম ম্যাচেও।

অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সিরিজ জয়ের রেকর্ড আগেই করেছেন লিটন দাস। তাঁর সামনে এখন সুযোগ অন্যদের সঙ্গে ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার। শুধু তো ম্যাচ কিংবা সিরিজ নয়, লিটনের নেতৃত্বে টি–টুয়েন্টির এ দলটা বদলে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিতে শুরু করেছে। আগের ম্যাচটা বাংলাদেশ যেভাবে জিতেছে, সেটি এখন তাদের আরও বেশি অনুপ্রেরণা জোগাবে নিশ্চিত। সে ম্যাচে ঘরের মাঠে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ, দেশে–বিদেশে মিলিয়ে এটি তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

তবে এমন ম্যাচেও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা তেমন ছিল না, তাদের ব্যাটিং বরং বিপদেই ফেলে দিয়েছিল দলকে। বাংলাদেশ তবু অবিশ্বাস্য এক জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সৌজন্যে।

বড় রান তাড়ার ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা মানে বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ ছিটকে যাওয়া—এটাই মনে হতো আগে। কিন্তু গত বছর থেকে টি–টুয়েন্টিতে নতুন এক যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। এই সংস্করণে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিং, ছক্কার সংখ্যা, বোলারদের উইকেট নেওয়া বোলিং, জয়—সব রেকর্ডই তারা নতুন করে লিখেছে ২০২৫ সালে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে যেন সেই নবযাত্রারই নতুন এক অধ্যায় লিখেছে লিটনের দল।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের ইনডোরে গতকাল অনুশীলন করেছেন নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন ক্রিকেটার

৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়ার পরও তাওহিদ হৃদয়–পারভেজ হোসেন–শামীম হোসেনদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে এসেছে রোমাঞ্চকর জয়। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষেও এ জয়টাকে বিশেষ কিছুই বলতে হচ্ছে। একটা পরিসংখ্যান বললে আরও স্পষ্ট হবে ছবিটা। চার নম্বরে তাওহিদ হৃদয় করেছেন ২৭ বলে ৫১, পাঁচ নম্বরে পারভেজ হোসেন ১৪ বলে ২৮ আর ছয় নম্বরে আর শামীম হোসেন ১৩ বলে করেন ৩১ রান। রান তাড়া করতে নেমে এর আগে কখনোই বাংলাদেশের ৪ থেকে ৬ নম্বরে নামা তিন ব্যাটসম্যান মিলে দুই শর বেশি স্ট্রাইক রেটে এক শর বেশি রান করতে পারেননি। ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে ওভারপ্রতি ১০–এর বেশি রান তাড়া করার ঘটনাও যে খুব বেশি নেই, তা–ও বলে দেওয়া যায় দ্বিধাহীনভাবে।

স্বাভাবিকভাবেই আজ দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের একাদশে বদল আসার সম্ভাবনা কম। এমনিতেও অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপকে আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। সিরিজ জেতার আগে তাই ঝুঁকি নিতে চাওয়ার কথা নয় টিম ম্যানেজমেন্টের।

আজও এমন ঝলমলে পারফরম্যান্স চায় বাংলাদেশ

তা ছাড়া ম্যাচটা তো শুধু সিরিজ জেতার উপলক্ষ নয়, বছরখানেক ধরে টি–টুয়েন্টির বাংলাদেশ যে উন্নতির ধারায় আছে, সেটি ধরে রাখারও দায়িত্বও আছে দলের। প্রথম টি–টুয়েন্টির আক্রমণাত্মক ক্রিকেট সে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে আরও। টি–টুয়েন্টিতে বদলের ধারার শুরুতে আরও নবীন থাকা তানজিদ–পারভেজরাও এখন বেশ পরিণত। শামীম–হৃদয়রাও নিয়মিতই ভরসা হয়ে উঠছেন দলের জন্য। আর বোলিংয়ে তো এখন সব সংস্করণেই ছন্দে থাকে বাংলাদেশ।

প্রত্যাশার পারদ তাই ওপরে উঠছে—ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে আজই হয়ে যাক সিরিজ জয়ের উৎসব।