নাহিদ রানা
নাহিদ রানা

নাহিদ রানাকে নিয়ে যা বললেন ওয়েবস্টার

পেস বোলিং কিংবা স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হয়। কিন্তু একই সঙ্গে পেস ও স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের জাতটা বেশ বিরল।

বো ওয়েবস্টার সে বিরল তালিকার ক্রিকেটার। মজার বিষয়, ডান হাতে দুই রকম বোলিং পারলেও দাড়ি কাটায় বেশ আলস্য ওয়েবস্টারের। ডারউইনে আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন হতেই জানা গেল নতুন এক তথ্য।

শ্মশ্রুমণ্ডিত ওয়েবস্টারকে দেখে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই দাড়ির অনুপ্রেরণা কী? অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের উত্তর, ‘আলস্য। বেশ কিছুদিন ধরে বাইরে আছি। সাধারণত আমার মা আমার চুল কাটেন। তিনি হেয়ারড্রেসার। আমি বাড়ি যেতে পারিনি, সম্ভবত এটিই এর কারণ।’

ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার পর ওয়েবস্টার এখন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সঙ্গে টেস্টের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ডারউইনে আগামী পরশু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছিল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। মাত্র ৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন ওয়েবস্টার। বাংলাদেশ নিয়ে তাই খুব একটা ধারণা থাকার কথা নয় তাঁর, তবে একজনের প্রসঙ্গ উঠতেই বোঝা গেল, ওয়েবস্টারের কান পর্যন্তও পৌঁছেছে তাঁর নাম। নাহিদ রানা!

বো ওয়েবস্টার

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন, চোটের কারণে নাহিদ রানার অনুপস্থিতি...এসব বিষয় নিয়ে ওয়েবস্টারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। ওয়েবস্টারের উত্তরে থাকলেন শুধু নাহিদ রানাই, ‘(নাহিদের অনুপস্থিতি) দলের জন্য বড় ধাক্কা। ওয়ানডেতে ১৪৫ (কিমি) এর ওপরে আমরা তাঁকে বল করতে দেখেছি। এমন কাউকে আক্রমণে না পাওয়া... সে সত্যিকারের হুমকি।’

ওয়েবস্টার এরপর বলেন, ‘সেই ওয়ানডে সিরিজে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি যে সে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজের এবং ব্যাটসম্যানদের ওপর দারুণ চাপ সৃষ্টি করে। আক্রমণে এমন কারও অনুপস্থিতিতে কাজটা কঠিন হয়ে ওঠে।’
ওয়েবস্টার যে ওয়ানডে সিরিজটির কথা বলেছেন, সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত জুনে। ঘরের মাঠে সেই সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ৪ উইকেট নেন নাহিদ।

ইংলিসকে আউট করার পর নাহিদ রানা

২৩ বছর পর দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছে বাংলাদেশ। কিন্তু চোটের কারণে সেই সফরে নেই নাহিদ রানা। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরে আছেন বাংলাদেশের চার পেসার—তাসকিন আহমেদ, মুশফিক হাসান, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে এমনিতেই অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান জাতীয় দলের খুব একটা ধারণা নেই। কারণ, সেখানে টেস্টই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২২ বছর পর।

ওয়েবস্টারের কথায় বোঝা গেল, উইকেট ও বাংলাদেশের বাকি বোলারদের নিয়ে তাঁর তেমন একটা ধারণা নেই, ‘কন্ডিশনের মতোই তাদের বোলাররা এবং ওই উইকেটে তারা কেমন করবে, সে বিষয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ টেস্ট খেলে মাত্র একবারই জিতেছে বাংলাদেশ। হেরেছে বাকি ৫ ম্যাচেই। এর মধ্যে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে দুই টেস্টেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে।