
সুপার এইটে ভারতের সামনে বাঁচা-মরার ম্যাচ দুটি। তার মধ্যে চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আজ প্রথম ম্যাচে তাঁরা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপের সামনে জিম্বাবুয়ে পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি বড় হুমকি। সুপার এইটের সব দলের মধ্যে মুজারাবানির উইকেটসংখ্যাই সর্বোচ্চ (১১)।
তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে ভারতের জন্য বড় হুমকি আসলে অফ স্পিন। কথাটা বিশ্বাস না–ও হতে পারে, কারণ ভারতের ব্যাটিং নিয়ে প্রচলিত চিরায়ত কথাটা হলো, তাঁদের ব্যাটসম্যানরা নাকি ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও স্পিন খেলতে পারেন! কিন্তু টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটা আর হচ্ছে কোথায়? ভারতের ব্যাটসম্যানরা তো জেগে থেকেও অফ স্পিন ভালোভাবে খেলতে পারছেন না।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ভারত পাঁচ ম্যাচ খেলে একটিতে হেরেছে। অফ স্পিনে সূর্যকুমার যাদবদের দুর্বলতা এ পাঁচ ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সেই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছেন ছয়জন অফ স্পিনার।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ১৬ জনের স্কোয়াডে বাঁহাতে ব্যাট করেন ৯ জন। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভারতের একাদশে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন সাতজন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ছয়জন এবং সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের ম্যাচে সাতজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান খেলায় ভারত।
যদি কৌশলগতভাবে ‘ম্যাচ আপ’ বিবেচনায় নেওয়া হয় তাহলে এটা স্বাভাবিক যে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে ডানহাতি অফ স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করানোর একটা প্রবণতা থাকে অধিনায়কদের।
কিন্তু স্পিন খেলতে সিদ্ধহস্ত সূর্যকুমারদের তাতে কি খুব সমস্যা হওয়ার কথা? পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে, সমস্যাটা বেশ বড়ই। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার পেসারদের বিপক্ষে ১৮ ও স্পিনারদের বিপক্ষে ১৯ উইকেট হারিয়েছে ভারত। স্পিনে হারানো উইকেটগুলোর মধ্যে ১২টি উইকেট অফ স্পিনারদের। জিম্বাবুয়ে দলের অ্যানালিস্টরা নিশ্চয়ই এ পরিসংখ্যান জানেন? তাঁদের দলে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা নিয়মিত অফ স্পিন করেন। পাশাপাশি ব্রায়ান বেনেট ও টনি মানইয়োঙ্গাও ‘খণ্ডকালীন’ অফ স্পিনার।
ভারতের এই ১২ উইকেটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪টি নিয়েছেন নামিবিয়ার অফ স্পিনার গেরহার্ড এরাসমাস। অফ স্পিনে সঙ্গে মাঝেমধ্যে গুগলিও করা পাকিস্তানি সাইম আইয়ুব নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে কারা উইকেট নিয়েছেন, ভারতের জন্য তার চেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো উইকেটগুলো কখন, কীভাবে হারাতে হচ্ছে। যেমন ধরুন, এই ১২ উইকেটের মধ্যে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়েছে ভারত। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান আউট হয়েছেন দুবার করে।
অফ স্পিনের এই দুর্বলতা কাটাতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্পিনের বিপক্ষে বড় শট খেলার অনুশীলন করেন সূর্যকুমার ও তিলক বর্মা। ওদিকে রাজাও নিশ্চয়ই প্রস্তুত? ভারতের ব্যাটিংয়ে বাঁহাতির আধিক্য দেখে তাঁর চোখ চকচক করার কথা। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ের ম্যাচে বোলিং ওপেন করেন রাজা। ভারতের বিপক্ষেও হয়তো করবেন, শুধু তাই নয়, পাওয়ার প্লেতে রাজাকে একাধিক ওভার বোলিং করতে দেখা যেতে পারে।
স্মরণ করিয়ে দিতে হয়, ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক ও ঈশান কিন্তু বাঁহাতি। এবার সুপার এইটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে ওপেনিং জুটিতে তাঁদের গড় সবচেয়ে বাজে (৬.৮)। ঈশান পাঁচ ম্যাচে চারবার আউট হয়েছেন অফ স্পিনারের (সাইমকে বিবেচনায় নিয়ে) বোলিংয়ে। অভিষেক দুজন অফ স্পিনারকে উইকেট দিয়েছেন। তবে শুধু ওপেনাররা নয়, মিডল অর্ডারও অফ স্পিনে ভুগছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের মিডল অর্ডার এ পর্যন্ত অফ স্পিনে ১০২টি ডেলিভারি খেলে ওভারপ্রতি গড়ে ৬.২৩ করে রান তুলতে পেরেছে।
চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের কালো মাটির উইকেট এমনিতে স্পিন সহায়ক হলেও এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এ বিশ্বকাপে সেখানে স্পিনারদের স্ট্রাইক রেট (২২.৩) সবচেয়ে বাজে এবং গড় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন (৩০.২৩)। কিন্তু অফ স্পিনারদের বিপক্ষে ভোগান্তিটা এখন ভারতের ব্যাটসম্যানদের মনের মধ্যে ঢুকে গেছে। ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের কথায় তেমন ইঙ্গিতই মিলল, ‘আমরা জানি জিম্বাবুয়ে এই (অফ স্পিন) চেষ্টাই করবে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’