প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে গেছে ব্রুকের দল। শেষ ওভারে সালমান মির্জার বিপক্ষে দলটির দরকার ছিল ৩ রান। প্রথম বলেই চার মেরেছেন জফরা আর্চার।
পাকিস্তানের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য ইংল্যান্ড তাড়া করেছে ব্রুকের সেঞ্চুরির কল্যাণে। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করা ব্রুক যখন আউট হয়েছেন তখন ইংল্যান্ড জিততে দরকার ১৮ বলে ১০ রান।
এর আগে পাকিস্তান টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফারহানের ফিফটিতে তোলে ১৬৪ রান। পাকিস্তান এই হারে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়নি। তবে তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়।
পাকিস্তান: ১৬৪/৯ ( ফারহান ৬৩, ফখর ২৫; ডসন ৩/২৪, আর্চার ২/৩২)। ইংল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ১৬৬/৮ (ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮; আফ্রিদি ৪/৩০, উসমান ২/৩১)। ফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: হ্যারি ব্রুক
অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি!
৫০ বলে সেঞ্চুরি। ইনিংসে ছিল ১০ চার ও ৪ ছক্কা। ব্রুকের এই সেঞ্চুরিতে সেমিফাইনালের পথে ইংল্যান্ড দল। দলটির সেমিফাইনালে যেতে দরকার ৭ রান, তাও ১৮ বলে।
ব্রুক উইকেট এসেছেন ইনিংসের দ্বিতীয় বলে। প্রথম বলে ফিল সল্ট আউট হওয়ার পর উইকেট এসে ঝড় তোলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ২৮ বলে করেছেন প্রথম ফিফটি, পরের ফিফটি করেছেন ২২ বলে।
সেঞ্চুরির পরের বলেই আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়েছেন ব্রুক। এরপর নেওয়াজ নিজের পরের ওভারে আউট করেছেন জ্যাকস ও ওভারটনকে।
ইংল্যান্ডের ৮ বলে ৪ রান দরকার।
১৬ ওভার শেষ ইংল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১৩৮। ৪ ওভারে দলটির দরকার মাত্র ২৭ রান। আলোচিত উসমান তারিক ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন ২টি।
ব্রুক অপরাজিত ৪৮ বলে ৯০ রানে।
ইংল্যান্ড: ১২ ওভারে ১০৪/৫
ব্রুক ও কারেনের জুটি ভাঙলেন সেই উসমান তারিক। ১৫ বলে ১৬ রান করেছেন কারেন। ব্রকের সঙ্গে তিনি গড়েছিলেন ২৮ বলে ৪৫ রানের জুটি।
এ জুটিতে কারেনের কাজ ছিল ব্রুককে সঙ্গ দেওয়া। ৩৬ বলে ৭৩ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন ব্রুক। ৮ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ৬১ রান।
ইংল্যান্ড: ১০ ওভারে ৮২/৪
ব্রুক যেন অন্য উইকেটে ব্যাটিং করছেন। অন্যরা যেখানে উইকেটে থিতুই হতেই পারছেন না, সেখানে ব্রুক খেলছেন ঝোড়ো ইনিংস।
১০ ওভার শেষে ৩১ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত আছেন ব্রুক। টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ষষ্ঠ ফিফটি। শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ডের লাগবে ৮৩ রান।
ইংল্যান্ড: ৯ ওভারে ৭২/৪
সল্ট, বাটলার ও বেথেলের মতো এক অঙ্কের ঘরেই আউট হলেন টম ব্যান্টন। উসমান তারিকের বলে ২ রানে তিনি আউট হওয়ার পর উইকেটে স্যাম কারেন।
ইংল্যান্ড: ৫ ওভারে ৩৬/৩
পারলেন না বেথেল। ৭ রানে জীবন পাওয়া বেথেল আউট হয়েছেন ৮ রান করে। সেই আফ্রিদির বলে। ইংল্যান্ডের উইকেট পড়েছে ৩টি, সবকটিই পেয়েছেন আফ্রিদি।
সাইমের বলে ফাইন লেগে বেথেলের সহজ ক্যাচ ছাড়লেন উসমান তারিক। ৭ রানে জীবন পেয়েছেন বেথেল। দেখা যাক, কত রান করতে পারেন...
ইংল্যান্ড: ৩ ওভারে ১৮/২
আফ্রিদির বলে ২ রান করে আউট বাটলার। এবারের বিশ্বকাপে ৫ ইনিংস খেলে মাত্র ৬০ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান।
অন্যদিকে আফ্রিদি হঠাৎ করেই সেরা ছন্দে। দলে ফিরে প্রথম ২ ওভারে নিয়েছেন ২ উইকেট। তাও সল্ট ও বাটলারের উইকেট।
ইংল্যান্ড: ১ ওভারে ৩/১
রান তাড়ায় প্রথম বলেই উইকেট হারাল ইংল্যান্ড। ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যান ফিল সল্টকে খালি হাতে ফেরালেন এই ম্যাচে দলে ফেরা শাহিন আফ্রিদি।
টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া পাকিস্তান ইনিংসের কোনো পর্যায়েই দাপট দেখাতে পারেনি। এরপরও দলটি ১৬৪ রান তুলতে পেরেছে সাহিবজাদা ফারহানের ৬৩ রান, ফখরের ১৬ বলে ২৫, শাদাব খানের ১১ বলে ২৩ রানের কল্যাণে।
পাকিস্তানের রানে ইংল্যান্ডের বাজে ফিল্ডিংয়েরও অবদান আছে। একাই দুটো চার ছেড়েছেন জ্যাকব বেথেল। আরও বেশ কয়েকটি ফিল্ডিং মিস করেছে তারা। ইংল্যান্ডের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ডসন।
পাকিস্তান: ১৬৪/৯ ( ফারহান ৬৩, ফখর ২৫; ডসন ৩/২৪, আর্চার ২/৩২)
পাকিস্তান: ১৭.৪ ওভারে ১৪৬/৭
ফারহানের পর ১৬ বলে ২৫ রান করে ফিরেছেন ফখর। দারুণ খেলছিলেন, তবে রশিদের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। পরের ওভারে লিয়াম ডসনের বলে আউট হয়েছেন উসমান খান ও নেওয়াজ।
পাকিস্তান: ১৪ ওভারে ১০৭/৩
উইল জ্যাকসের বলে ১ রান নিয়ে ফিফটি ছুঁয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। ৩৭ বলে ৫০ ছুঁলেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। তিন বল আগে জ্যাকসকেই বিশাল এক ছক্কা মারেন ফারহান।
পাকিস্তান: ১১ ওভারে ৭৩/৩
প্রথম ৬ বলে রান করেছিলেন ১০। সেই বাবর আউট হলেন ২৪ বলে ২৫ রান করে। জেমি ওভারটনের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্থর ইনিংসে থেমে গেছে পাকিস্তানের রানের গতিও।
পাকিস্তান এখন বেশ চাপে পড়েছে। সেখান থেকে মুক্তি দেওয়ার উইকেটে এসেছেন ফখর জামান। দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য আছে তাঁর।
পাকিস্তান: ১০ ওভারে ৭০/২
আজ বাবর উইকেটে থিতু হয়েছেন। এরইমধ্যে খেলেছেন ২২ বল। ওয়ানডে মেজাজে খেলে তাতে রান করেছেন মাত্র ২৪। ওপেনার ফারহান অপরাজিত ২৭ বলে ৩৩ রানে। সর্বশেষ ৪ ওভারে এই দুজন মিলে রান করেছেন মাত্র ২৪।
পাকিস্তান: ৬ ওভারে ৪৬/২
ইংল্যান্ড পাওয়ার প্লেতে উইকেট পেয়েছে দুটি। সাইমের পর ফিরেছেন সালমানও। তাতে পাকিস্তানের রানের চাকা থেমে থাকেনি। ৬ ওভার শেষে দলটি তুলেছে ৪৬ রান। উইকেটে থাকা সাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজম সাবলীলভাবেই খেলছেন।
বাঁহাতি স্পিনার লিয়াম ডসনের বলে ফিরলেন সালমান। তিনি করেছেন ৫ রান। ৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ২৯, হারিয়েছে ২ উইকেট।
পাকিস্তান: ৩ ওভারে ২৩/১
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলেছিলেন ২৪ রানের ইনিংস। সেটিই আজকে পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ হয়ে থাকল সাইম আইয়ুবের।
আজ জফরা আর্চারের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ৭ রানে ফিরেছেন তিনি।
পাল্লেকেলেতে সুপার এইটের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো বলেই মনে করছেন সালমান। পাকিস্তান দলে ফিরেছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, বাদ পড়েছেন ফাহিম আশরাফ।
ইংল্যান্ড দলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের একাদশ থেকে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সুপার এইটে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের জন্য আজকের ম্যাচটিকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ বললেই চলছে না, বলতে হচ্ছে মহাগুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। এই ম্যাচে হেরে গেলে দলটির সেমিফাইনাল স্বপ্ন অনেকটাই শেষ হয়ে যাবে।
সে তুলনায় ইংল্যান্ড মাঠে নামছে অনেকটাই নির্ভার হয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় যে শুধু ২ পয়েন্টই এনে দেয়নি, নেট রান রেটকেও বানিয়ে দিয়েছে হৃষ্টপুষ্ট।