স্পিনে ভয় দেখাচ্ছে পাকিস্তান, স্পিনে ভয় দেখাচ্ছে ইংল্যান্ডও

দুই দল আগেই ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছে, ম্যাচে কী হবে তাদের মূল অস্ত্র। সেই ‘অস্ত্র’ আবার একই রকম। স্পিন!
পাল্লেকেলেতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। সুপার এইটে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটিকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ বললেই চলছে না, বলতে হচ্ছে মহাগুরুত্বপূর্ণ। কেন? কারণ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ তাই জিততেই হবে।
সে তুলনায় ইংল্যান্ড মাঠে নামছে অনেকটাই নির্ভার হয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় যে শুধু ২ পয়েন্টই এনে দেয়নি, নেট রান রেটকেও বানিয়ে দিয়েছে হৃষ্টপুষ্ট। সেই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। যে স্পিন–শক্তিতে পাকিস্তান বরাবরই বলীয়ান।

শাদাব খান আজ হতে পারেন পাকিস্তানের মূল ভরসা

পাকিস্তান দলে স্পিনাররা সংখ্যায় বেশি। উইকেট শিকারেও এগিয়ে। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচে পাকিস্তানের বোলাররা যে ৩৫ উইকেট নিয়েছেন, তার ২৬টিই পাঁচ স্পিনার আবরার আহমেদ, শাদাব খান, সাইম আইয়ুব, উসমান তারিক ও মোহাম্মদ নেওয়াজের। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তাঁদের লেলিয়ে দেওয়ার কথা বলে ইংল্যান্ডকে সতর্কবাণী শুনিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান (২২০) করা ফারহান গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কা–ইংল্যান্ড ম্যাচে আমরা দেখেছি যে বল গ্রিপ করেছে এবং ইংল্যান্ড স্পিনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে।’ এরপর ফারহান মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘শ্রীলঙ্কার এক বা দুজন স্পিনার আছে; কিন্তু আমাদের স্পিনার পাঁচজন। আমরা ইংল্যান্ডকে কঠিন সময় উপহার দেব।’
পাকিস্তানি স্পিনাররা কঠিন সময় উপহার দিলে তা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদেরই দেবেন। তা ইংল্যান্ডের স্পিনাররা কি বসে থাকবেন নাকি! আদিল রশিদ ও লিয়াম ডসনের মতো নিয়মিত স্পিনাররা তো আছেনই, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁদের ছাপিয়ে গেছেন স্পিন–অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস। ফারহানের মতো ডসনও তাই প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ‘আমাদের ভিন্ন ভিন্ন ধরনের স্পিনার আছে। জ্যাকসি খুব ভালো ওভার-স্পিন করে, খুব ভালো বাউন্সও পায়। আর দিলির (আদিল রশিদ) তো অনেক বৈচিত্র্য।’

অনিয়মিত স্পিনার উইল জ্যাকসও হতে পারেন ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস

বৈচিত্র্যের কথা বললে দুই দলের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে আলাদা হয়তো পাকিস্তানের উসমান তারিক। বিশেষ করে বল ডেলিভারি দেওয়ার আগে তাঁর থেমে যাওয়া ব্যাটসম্যানদের বেশ ভোগাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে ডেথ ওভারে (১৬ থেকে ২০) হয়ে উঠেছেন সবচেয়ে ভয়ংকর স্পিনার। এখন পর্যন্ত যে ৮টি উইকেট পেয়েছেন, এর ৭টিই এই সময়ে। তা–ও আবার মাত্র ৬.২৭ ইকোনমি রেটে!
স্পিন নিয়ে যতই কথা হোক, বোলিং তো পেসাররাও করবেন। যেখানে ইংল্যান্ড অনেকটাই এগিয়ে। পাকিস্তানের মূল পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি বাজে ফর্মের কারণে দল থেকেই বাদ পড়ে গেছেন। যেখানে দারুণ ছন্দে আছেন ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার জফরা আর্চার। স্যাম কারেনও ডেথ বোলিংয়ে তাঁর কার্যকারিতার প্রমাণ রেখেছেন। ইংলিশ পেসারদের সাফল্যের প্রমাণ পরিসংখ্যানেও। পাকিস্তানের বোলিংয়ে যেমন স্পিনারদের জয়জয়কার, সেখানে এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের নেওয়া ৪২ উইকেটের বেশির ভাগই পেসারদের। স্পিনারদের মোট শিকার–সংখ্যা ১৯। এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের চারটি জয়ে এই পেস–স্পিন যুগলবন্দীরই বেশি ভূমিকা। নইলে বিখ্যাত সব ইংলিশ বিগ হিটারদের কেউই তো এখনো সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি।
সেই ধারা থেকে আজ অবশ্যই বেরিয়ে আসতে চাইবে ইংল্যান্ড। আর পাকিস্তান চাইবে একটা ইতিহাস নতুন করে লিখতে। সেটি কী? টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়। এর আগে এ দুই দলের তিন ম্যাচেই জিতেছে ইংল্যান্ড।