মিরাজের করা রান আউট মানতে পারছিলেন না সালমান আগা
মিরাজের করা রান আউট মানতে পারছিলেন না সালমান আগা

সালমান বললেন ‘এভাবে রান আউট করতাম না’, মিরাজের ভুল দেখেন না মুশতাক

সংবাদ সম্মেলন কক্ষের চেয়ারে বসতে বসতেই সালমান আগার মুখে কৌতূহলের হাসি, তাঁর সামনে বসে থাকা সাংবাদিকদেরও তাই। শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে খুনসুটি করলেন পাকিস্তানের মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম জিলানিও, ‘জানি, আজ তোমাদের অনেক প্রশ্ন…।’

কৌতূহলটা কী নিয়ে, তা অবশ্য জানা–ই। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেটা পাকিস্তান জিতেছে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে—কিন্তু তা হয়ে গেছে গৌণ। সব প্রশ্নই হলো সালমানের রানআউট নিয়ে। একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসতে থাকায় এক পর্যায়ে মিডিয়া ম্যানেজার সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বাধ্যই হলেন বলতে, ‘এবার তাহলে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়া যাক!’

তাতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সালমান। মিরাজ তাঁকে কাল যেভাবে রানআউট করেছেন, একই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান থাকলে কী করতেন—এমন প্রশ্ন ছিল সালমানের কাছে। তাঁর উত্তরটা শুনুন, ‘কখনোই না। আমরা অতীতে কখনো এমন করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।’

সালমান আগার ক্ষোভটা অবশ্য মাঠেই বোঝা গিয়েছিল। ঘটনাটা ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার জুটিতে রান তখন এক শ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ জুটি ভাঙতে পারছে না, সবকিছু চলছে ঢিমেতালে। এর মধ্যেই মিরাজের ওই বলটা সোজাসুজি খেলেছিলেন রিজওয়ান।

পা দিয়ে তা থামিয়ে দেন মিরাজ। তাঁকে তখন আড়াল করার চেষ্টা করেন নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান সালমান। একই সময়ে সালমান–মিরাজ দুজনই বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই তা আগে তুলে নেন, এরপর আন্ডার আর্ম থ্রোতে ভেঙে দেন স্টাম্প।

তখনো পপিং ক্রিজ থেকে অনেকটা বাইরে দাঁড়িয়ে সালমান, তবে তাঁর দাবি রান নেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু যা হওয়ার, পরে হয়েছে তা–ই। তৃতীয় আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনা একবার রিপ্লে দেখেই আউট দিয়েছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে। ক্ষুব্ধ হয়ে তখনই গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারেন সালমান।

ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় নিয়ম মেনেই আউট করেছেন, তা বুঝিয়েও সালমানকে ঠান্ডা করতে পারেননি মিরাজ।

ক্ষুব্ধ সালমান হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন

ঘটনাটি নিয়ে ধারাভাষ্যকক্ষেও শুরু হয় আলোচনা। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রমিজ রাজা বারবারই তুলেছেন ‘স্পিরিট অব ক্রিকেটের’ প্রসঙ্গ।

আরও একবার সামনে এসেছে ‘ক্রিকেটীয় চেতনা’ নাকি আইন, কোনটা আগে চিরন্তন—এই প্রশ্ন। সালমানের কাছে উত্তরটা এমন, ‘আমি এমন একজন, যে সব সময় আইন অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু যখন এটা স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিটের বিষয় হয়, তখন এটাকেই ওপরে রাখতে হবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক। সে যা করেছে, যদি মনে করে ঠিক, তাহলে তা–ই। কিন্তু যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান, আমি হয়তো ভিন্ন কিছু করতাম, স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাকেই বেছে নিতাম।’

বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিটা অবশ্য ভিন্ন। পাকিস্তানেরই সাবেক ক্রিকেটার মুশতাক আহমেদ এখন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তিনিই। মিরাজ ভুল কিছু করেননি বলেই মনে করেন মুশতাক, ‘মিরাজ ভেবেছে তাঁকে রানআউট করবে। সে নিশ্চিত ছিল না সালমান কী করছে। সত্যি বলতে আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।’

আউট হওয়ার পর সালমানের প্রতিক্রিয়াতেও অবশ্য ভুল কিছু দেখেন না মুশতাক। তার আগে সালমানও বলে গেছেন—তর্কে জড়ানো, গ্লাভস আর হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারা সবকিছুই হয়েছে ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’। এ নিয়ে মিরাজদের সঙ্গে তাঁর কোনো অভিমানও নেই। সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছাড়ার আগে তিনি আশ্বস্তও করে গেছেন, ‘আমার এখনো কথা হয়নি (মিরাজের সঙ্গে), কিন্তু হবে। চিন্তা করবেন না। সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।’