প্রথমবার বিপিএলে নাম লেখানো নোয়াখালী এক্সপ্রেসের শেষ ম্যাচ আজ। আগেই লিগ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে দলটির।
নোয়াখালীর প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স এরই মধ্যে প্লে–অফে জায়গা করেছে। আজ জিততে পারলে প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলার আশা থাকতে তাদের।
টসে জিতেছেন রংপুর অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি আগে বোলিং বেছে নিয়েছেন।
নোয়াখালীর হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমেছেন হাসান ইসাখিল ও রহমতউল্লাহ। রংপুরের হয়ে বল হাতে নিয়েছেন ফাহিম আশরাফ।
নোয়াখালী: ৪ ওভারে ১৫/০।
ফাহিম আশরাফের প্রথম ওভারে ১, আকিফ জাভেদের দ্বিতীয় ওভারে দুই আর আলিস আল ইসলামের চতুর্থ ওভারে ১ রান করতে পেরেছে নোয়াখালী। মাঝে শুধু নাহিদ রানার করা তৃতীয় ওভারটিতে উঠেছে ১১ রান।
সব মিলিয়ে প্রথম চার ওভারে মাত্র ১৫ রান তুলতে পেরেছে নোয়াখালী। ইসাখিল ১৯ বলে ১২, রহমত ৫ বলে ১।
নোয়াখালী: ৬ ওভারে ৩৩/১।
পাওয়ার প্লেতে ওভারপ্রতি ৬ রানও তুলতে পারেনি নোয়াখালী। তবে এ সময়ে উইকেটও পড়েছে একটিই। এবারের আসরে প্রথমবার খেলতে নামা রহমত ১০ বলে ৯ রান করে নাহিদ রানার বলে মিড অফে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন।
নতুন ব্যাটসম্যান জাকের আলী। সঙ্গে ইসাখিল।
নোয়াখালী: ১০ ওভারে ৪৭/২।
রান তোলায় গতি প্রায় নেই–ই। ইনিংসের অর্ধেক ওভার খেলে ২ উইকেটে ৪৭ করতে পেরেছে নোয়াখালী। ইসাখিল ৩৮ বলে ৩০ আর হায়দার আলী ৫ বলে ২ রানে ব্যাট করছেন।
১৫ ওভার শেষে নোয়াখালীর রান ২ উইকেটে ৯৮। হাসান ইসাখালির পর হাত খুলেছেন হায়দার আলীও। সর্বশেষ ২ ওভারে দলটি তুলেছে ২৪ রান।
বিশতম ওভারে আকিফ জাভেদের প্রথম দুই বলে ছক্কা আর তৃতীয় বলে ডাবলস নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন হাসান ইসাখিল। ৭০ বলে ১০ ছক্কা আর ৪ চারে করা সেঞ্চুরিটি তাঁর টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম।
বিপিএল ইতিহাসে কোনো আফগান ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটি, এবারের আসরে সব খেলোয়াড়ের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রথমটি নাজমুল হোসেনের।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৭৩/২ (ইসাখিল ১০৭*, হায়দার ৪২*; আলিস ১/২২, নাহিদ ১/৪০)।
১৫ ওভার শেষে নোয়াখালীর রান ছিল ২ উইকেটে ৯৮। সেখান থেকে পরের পাঁচ ওভারে দলটি করেছে ৭৫ রান। যার মধ্যে ২৮ রানই আকিফ জাভেদের করা শেষ ওভার থেকে এসেছে।
শেষ দিকে নোয়াখালীর এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মূল নায়ক হাসান ইসাখিল। আফগানিস্তানের এই ব্যাটসম্যান ইনিংস ওপেন করতে নেমে মাঠ ছেড়েছেন ৭২ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থেকে। সাবেক আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীর এই ছেলে ফিফটি করতে খেলেছিলেন ৫০ বল, তবে পরের পঞ্চাশ করেছেন মাত্র ২০ বলে।
অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইসাখিলকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন হায়দার আলী। পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
২ ওভারে ৩, ৬ ওভারে ৩৩ আর ১০ ওভারে ৪৭ রান থাকা নোয়াখালী শেষ দশ ওভারে করেছে ১২৬ রান।
রংপুর রাইডার্স: ৬ ওভারে ৫৫/০। লক্ষ্য: ১৭৪।
রান তাড়ায় চমৎকার শুরু পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। প্রায় একাই দলকে টানছেন তাওহিদ হৃদয়। প্রথম ছয় ওভারে ৫৫ রান করেছে রংপুর, এর মধ্যে ২৬ বলে ৪৭ রানই হৃদয়ের। অন্য প্রান্তে ডেভিড ম্যালান খেলেছেন মাত্র ১০ বল, করেছেন ৭ রান।
রংপুর রাইডার্স: ৮.১ ওভারে ৭৮/১। লক্ষ্য: ১৭৪।
নবম ওভারের প্রথম বলে রংপুরের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারল নোয়াখালী। জহির খানের বলে কাভারে ইসাখিলের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হয়েছেন ডেভিড ম্যালান। ৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ম্যালানের অবদান ১৭ বলে ১৫ রান।
নতুন ব্যাটসম্যান লিটন দাস।
রংপুর রাইডার্স: ১১ ওভারে ১০২/১। লক্ষ্য: ১৭৪।
রান তাড়ায় দ্রুতগতিতে ছুটছে রংপুর রাইডার্স। ১০.৪ ওভারেই তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছে দলটি। এর মধ্যে তাওহিদ হৃদয়ের একারই ৭৮। লিটনের রান ৭।
রংপুর রাইডার্স: ১৬ ওভারে ১৪৫/১। লক্ষ্য: ১৭৪।
প্রথম বলে ছক্কা, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ বলে চার—১৬তম ওভারে সৌম্য সরকারকে তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন লিটন দাস। সব মিলিয়ে ওভারটিতে এসেছে ১৮ রান। তাতে রংপুরের জয়ের জন্য ৩০ বলে ৪৭ রানের সমীকরণ ২৪ বলে ২৯–এ নেমে এসেছে।
হৃদয় ৫৫ বলে ৯৭, লিটন ২৪ বলে ২৮ রানে ব্যাট করছেন।
নোয়াখালীর ইনিংসে হাসান ইসাখিল, রংপুরের ইনিংসে তাওহিদ হৃদয়—বিপিএলে এ নিয়ে অষ্টমবার একই ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটলা। এর মধ্যে দুটি ছিল একই দলের হয়ে দুজনের সেঞ্চুরি। ২০১৯ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশো প্রথম এই কীর্তি গড়েন। ওই বছরই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের এভিন লুইস ও রংপুর রাইডার্সের এবি ডি ভিলিয়ার্স একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন।
২০২২ সালে সিলেট সানরাইজার্সের হয়ে লেন্ডল সিমন্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করেন। ওই আসরে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন ফাফ ডু প্লেসি ও আন্দ্রে ফ্লেচার। ২০২৩ সালে খুলনা টাইটানসের আজম খান ও উসমান খান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে সেঞ্চুরি করেন।
বিপিএলের সর্বশেষ আসরেও একই ম্যাচে সেঞ্চুরির দুটি ঘটনা ছিল। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে লিটন দাস ও তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি করেন। চট্টগ্রাম কিংসের উসমান খান ও ঢাকা ক্যাপিটালসের থিসারা পেরেরাও সেঞ্চুরি পান একই ম্যাচে।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ৬ রান। সেঞ্চুরি করা তাওহিদ হৃদয় আগের ওভারে আউট হয়েছেন। ব্যাটিংয়ে খুশদিল শাহ ও লিটন দাস। বোলিংয়ে মেহেদী হাসান রানা।
প্রথম বল: ১ রান। খুশদিল লেগ সাইডে খেলে এক রান নিয়েছেন। স্ট্রাইকে গেলেন লিটন।
দ্বিতীয় বল: ১ রান। লং অফে পাঠিয়ে এক নিলেন লিটন।
তৃতীয় বল: ১ রান। স্ট্রাইকে গেলেন লিটন।
চতুর্থ বল: ২ রান। লিটন উঁচু করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দুই রান নিয়েছেন।
পঞ্চম বল: ওয়াইড। বাউন্সার ছিল। আম্পায়ার হাত ছড়িয়ে ওয়াইড দিয়েছেন।
রংপুর জয়ী।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৭৩/২ (ইসাখিল ১০৭*, হায়দার ৪২*; আলিস ১/২২, নাহিদ ১/৪০)। রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/২ (হৃদয় ১০৯, লিটন ৩৯*; হাসান ১/২৩)। ফল: রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাওহিদ হৃদয়।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ৬ রান। ২ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে রংপুর রাইডার্স। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ১৭৩ রান রংপুর তাড়া করেছে ৮ উইকেট হাতে রেখে।
এবারের লিগে এটি রংপুরের ষষ্ঠ জয়। বিপরীতে ১০ ম্যাচে অষ্টম হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। প্রথমবার বিপিএলে নাম লেখানো দলটির প্রথম মৌসুম এখানেই শেষ। রংপুর আগেই প্লে–অফ নিশ্চিত করে এখন প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলার অপেক্ষায়। যা চূড়ান্ত হবে আজকের চট্টগ্রাম–ঢাকা ম্যাচের পর।
হাসান ইসাখিলের ১০৭* রানের ইনিংসে ভর করে নোয়াখালী করেছিল ২ উইকেটে ১৭৩। তাড়া করতে নেমে রংপুর হৃদয়–ডেভিড ম্যালানের উদ্বোধনী জুটিতে পেয়ে যায় ৮ ওভারে ৭৮ রান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে হৃদয়–লিটন গড়েন ৮৭ রানের জুটি।
২৭ বলে ফিফটি করা হৃদয় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৫৭ বলে। বিপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, এবারের আসরের সব খেলোয়াড় মিলিয়ে তৃতীয়।
জয় থেকে ৯ রান দূরত্বে হৃদয় আউট হলে রংপুরের বাকি কাজটা সারেন লিটন ও খুশদিল।