ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড দাবি করেছেন, তাঁর দেশের বর্তমান টেস্ট দলে মদ পানের সমস্যা নেই। তবে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ (৪-১) হারে যেসব নেতিবাচক শিরোনামের জন্ম হয়েছে, সেসব এড়াতে খেলোয়াড়েরা আরও সতর্ক হতে পারতেন বলেও মনে করেন ব্রড।
অ্যাশেজে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট (৪০ ম্যাচে ১৫৩ উইকেট) নেওয়া ৩৯ বছর বয়সী ব্রড ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ‘বাজবল’ যুগের শুরুর দিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও ছিলেন। ২০২৩ সালে অবসরের পর গণমাধ্যমে সক্রিয় হন ব্রড। অস্ট্রেলিয়ায় কিছুদিন আগে শেষ হওয়া অ্যাশেজেও গণমাধ্যমে সংশ্লিষ্টতার কারণে বেন স্টোকসের দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে তাঁর।
সিডনিতে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টে ইংল্যান্ডের হারের পর একটি নৈশ ক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনায় নাম জড়ানোয় ক্ষমা চান হ্যারি ব্রুক। এ ঘটনায় ইংল্যান্ড টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক ব্রুককে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সিরিজের মধ্যে বিরতিতে নুসায় ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন ক্রিকেটারকে মদ পান করতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ওপেনার বেন ডাকেটও। রাত কাটানোর পর রাস্তায় দিশাহারা ভঙ্গিতে হাঁটতে গিয়ে ডাকেটের কথা জড়িয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এ ঘটনাগুলোর পর জানা গেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা সফর শুরুর পর সাদা বলের দলের জন্য আবারও রাত ১২টার কারফিউ চালু করতে পারে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ‘দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ব্রড সতর্ক করেছেন, এমন সিদ্ধান্ত উল্টো ফলও বয়ে আনতে পারে।
ব্রড বলেন, ‘দলের কয়েকজন খেলোয়াড় কিছু ভুল করেছে; আর সেটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে। আমার মনে হয় এমন পরিস্থিতি থেকে কাউকে বের হয়ে আনাটা সতীর্থদের দায়িত্ব, ঠিক তখনই দলের সংস্কৃতি দৃঢ় হয়।’ এরপর তিনি বলেন, ‘বেন ডাকেটকে তো একা ফেলে আসা হয়নি, তার হোটেল কোথায় কোনো ধারণাই ছিল না। হ্যারি ব্রুকও কখনো বাউন্সারের (নিরাপত্তাকর্মী) সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে জড়ায়নি। কারণ, এমন পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ারই অনুমোদন নেই। তাই আমার মনে হয়, এসব বিষয় বাজকে (ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম) হতাশ করবে।’
ব্রড এরপর কারফিউয়ের বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘আমার (রাত) ১২টার কারফিউ অপছন্দ ছিল। মনে হয়নি এটার দরকার আছে। কারণ, চারপাশে এমন মানুষ (সতীর্থ) আছে যারা সঠিক সময়ে ঘরে পৌঁছে দেবে।’
অ্যাশেজে মাঠের বাইরে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আচরণে পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ব্রডের যুক্তি, দীর্ঘ সময় বাড়ি থেকে দূরে থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে ফুটবল বা অন্য কোনো খেলার খেলোয়াড়দের ফারাক আছে।
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ উইকেটশিকারি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হিসেবে কিছুটা ছাড় থাকা প্রয়োজন। আমি বলছি না যে, মদ পান করো বা যেটায় একটু ফুরফুরে লাগে, সেটিই করো। কিন্তু মনটা একটু বিশ্রাম না পেলে পাগল পাগল লাগতে পারে।’
ব্রড দাবি করেন, ‘ক্রিকেটাররা বছরের ছয় মাস হোটেলে থাকে। (কিন্তু) মদ পানের কোনো সংস্কৃতি নেই। আমি এটাই বলব। কারণ, আমি খেলোয়াড়দের ভালোভাবে চিনি। শুধু নিশ্চিত করতে হবে এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়েরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন।’
ইংল্যান্ডের হয়ে ১৬৭ টেস্টে ৬০৪ উইকেট নিয়েছেন ব্রড। টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তিনি পাঁচে। আর পেসারদের মধ্যে টেস্ট ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।