কুপার কনোলি ও ম্যাথু কুনেমান
কুপার কনোলি ও ম্যাথু কুনেমান

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে যে কারণে স্পিনে শক্তি বাড়াল অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য গতকাল ১৫ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। ভারত ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন মাথায় রেখেই দলের স্পিন-শক্তি বাড়ানো হয়েছে। লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার পাশাপাশি দলে আছেন দুজন বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমান ও কুপার কনোলি। ‘পার্ট টাইম’ স্পিনার হিসেবে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু শর্টেরও অস্ট্রেলিয়ার স্পিন বিভাগে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।

চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও টিম ডেভিডকেও রাখা হয়ে বিশ্বকাপ দলে। চলতি অ্যাশেজে শুধু অ্যাডিলেড টেস্টে খেলেন কামিন্স। হ্যাজলউড তো চোটের কারণে খেলতেই পারলেন না। ছিটকে পড়েছেন অ্যাশেজ থেকে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ডেভিডের এবারের বিগ ব্যাশ মৌসুমও শেষ হয়ে গেছে আগেভাগে।

প্যাট কামিন্স (বাঁয়ে) ও জশ হ্যাজলউড

দীর্ঘদিন পিঠের চোটে ভুগতে থাকা তারকা পেসার কামিন্স চলতি মাসের শেষ দিকে আরেকবার স্ক্যান করাবেন। তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারবেন কি না।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি বলেন, ‘প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও টিম ডেভিডের ফেরার প্রক্রিয়া ভালোভাবে এগোচ্ছে। বিশ্বকাপে তারা খেলতে পারবেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। এটা প্রাথমিক দল। তাই প্রয়োজন হলে পরিবর্তন আনা হবে।’

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার সব কটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেখানে ৪৩.৫ শতাংশ উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। শ্রীলঙ্কার উইকেটে পেসারদের তুলনায় ওভারপ্রতি গড়ে ১.২৫ করে রান কম দেন স্পিনাররা।

সর্বশেষ দুই আসরে সেমিফাইনালে উঠতে না পারা অস্ট্রেলিয়া তাই এবার স্পিনে শক্তি বাড়িয়েছে। যদিও দুই বাঁহাতি স্পিনার কুনেমান ও কনোলি মিলে ১০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১টি উইকেট শিকার করেছেন। ৬ ম্যাচে ১ উইকেট নিয়েছেন কনোলি। কুনেমান ৪ ম্যাচ খেলে এখনো উইকেটশূন্য।

অস্ট্রেলিয়ার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে একমাত্র উইকেটকিপার জশ ইংলিস

তবে কনোলি এবার বিগ ব্যাশে পার্থ স্কোচার্সের হয়ে এ পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ১৬৬.৬৬ স্ট্রাইকরেটে ১৭০ রান করার পাশাপাশি ৫টি উইকেট নিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে কুনেমান ও কনোলিকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও দুই টেস্টের সিরিজে সফল হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৬ উইকেট নেন কুনেমান।

মিচেল ওয়েন ও বেন দারউইশ বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি। দলে বাঁহাতি পেসার নেই। পেস বিভাগে আছেন কামিন্স, হ্যাজলউড, নাথান এলিস ও হাভিয়ের বার্টলেট। তাঁদের পাশাপাশি পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিস। সবাই ডানহাতির পেসার। তবে কামিন্স বা হ্যাজলউডকে শেষ পর্যন্ত না পাওয়া গেলে বাঁহাতি পেসার দারউইশ সম্ভবত ডাক পেতে পারেন। আগামী মাসের শুরু পর্যন্ত এই প্রাথমিক স্কোয়াডে পরিবর্তন আনা যাবে।

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), হাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

জস ইংলিস ছাড়া দলে আর কোনো উইকেটকিপার নেই। অর্থাৎ ইংলিস চোটে পড়লে জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যাক্সওয়েলকে কিপিং-গ্লাভস পরতে হতে পারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সংস্করণে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সে জন্য আলাদা স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, ওমান, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে।