
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সময়টা খারাপ যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে এসে এখন পর্যন্ত জয় পায়নি দলটি, হেরেছে নিজেদের খেলা ৬ ম্যাচেই। তবে দলের চেয়েও সময় বেশি খারাপ যাচ্ছে দলটির কোচ খালেদ মাহমুদের। সাবেক বিপিএল চ্যাম্পিয়ন এই কোচ রীতিমতো হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস বিপিএলে নতুন হলেও কোচ হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় খালেদ বেশ পুরোনো। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও সহকারী কোচের বিপিএলে হারের হতাশাও তাই লম্বাই। এবারের ৬টি সহ বিপিএলে খালেদ মাহমুদ সর্বশেষ ২৯ ম্যাচের মধ্যে ২৬টিতেই হেরেছেন।
খালেদ মাহমুদের এই খারাপ সময় শুরু হয়েছে ২০২৪ বিপিএল থেকে। সে বছর তিনি দুর্দান্ত ঢাকার প্রধান কোচ ছিলেন। কিন্তু দলটা শুধু নামেই দুর্দান্ত ছিল। বিপিএল ইতিহাসের সফলতম দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও এরপর হেরেছে টানা ১১ ম্যাচ। সেবার পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে বিপিএল শেষ করেছিল দুর্দান্ত ঢাকা।
খালেদ মাহমুদ এরপর কোচ হন ঢাকার আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা ক্যাপিটালসের। এ দফায়ও টুর্নামেন্টের প্রথম ৬ ম্যাচেই হারে ঢাকা। পরের চার ম্যাচে ৩ জয় ও এক হারের পর টুর্নামেন্ট শেষ করে টানা দুই হারে। আবার অবস্থান পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই!
এবার নতুন দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসে নতুন শুরুর আশাই হয়তো করেছিলেন মাহমুদ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নিয়ে নেতিবাচক খবরে আসেন তিনি। সেদিন অনুশীলনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বল না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি জানান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোচের দায়িত্বেও আর থাকতে চান না তিনি। এমনকি সিএনজিতে চড়ে মাঠও ছেড়ে যান। তবে কয়েক ঘণ্টা পর এই পুরো ঘটনাটিই ‘মুহূর্তের উত্তেজনায়’ ঘটেছে জানিয়ে আবার দলে যোগ দেন।
দলের ভালো পারফরম্যান্স এসব বিতর্ক ভুলিয়ে দিতে পারত। উল্টো দলটি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি বাদে ওই অর্থে কোনো ম্যাচেই লড়াই করতে পারেনি নোয়াখালী। সেই ম্যাচে মেহেদী হাসান রানা হ্যাটট্রিক করে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিলেটের কাছে তারা হেরে যায় শেষ বলে, ১ উইকেটে।
দলটির দুর্দশার বড় উদাহরণ হতে পারে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালসে বিদেশি ছিলেন মাত্র দুজন। একজন মির্জা বেগ, অন্যজন রহমানউল্লাহ গুরবাজের ভাই মাসুদ গুরবাজ। একটা ভাঙাচোরা দল নিয়েই সেদিন খেলেছিল চট্টগ্রাম। এরপরও দলটির কাছে নোয়াখালী হারে ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচটি বাদে বাকি ম্যাচগুলোর গল্পও খুব একটা আলাদা নয়!
২০১২ সালে বিপিএলের উদ্বোধনী আসর থেকেই কোচিংয়ে যুক্ত খালেদ মাহমুদ। প্রথম আসরে ছিলেন চিটাগং কিংসের প্রধান কোচ। ছয় দলের সেই টুর্নামেন্টে পঞ্চম হয়েছিল চিটাগং। ২০১৩ সালে বরিশাল বার্নার্সের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন। সাত দলের সেই আসরে দলটি হয়েছিল ষষ্ঠ।
তবে দেশের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটিতে মাহমুদের খুশির গল্পও আছে। সেটা রাজধানীরই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান কোচ হিসেবে। ২০১৬ বিপিএলে খালেদ মাহমুদের কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। কিন্তু ৯ বছর আগের সেই আসরের পর তিনি আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, উল্টো তাঁর দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী।