অদম্য বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধূমকেতু একাদশ
অদম্য বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধূমকেতু একাদশ

অদম্য বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টির পর এখন লিটনদের সামনে কী

তিন দলের টুর্নামেন্টে চার দিনে চার ম্যাচ। তবু প্রাইজমানিই ছিল আড়াই কোটি টাকা। প্রতিদিন ম্যাচের আগে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব ম্যাচেই কয়েক হাজার করে দর্শক গ্যালারিতে ছিলেন। মাঠের বাইরের এসব ঘটনার সঙ্গে খেলাটাও মন্দ হয়নি।

পরশু ফাইনালেই যেমন চার শর বেশি রান হওয়ার পর ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দুর্বারকে ৭ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দল ধূমকেতু। ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্টের উইকেট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন লিটন দাস, ‘এ রকম উইকেট যদি বিপিএলেও থাকত, খেলোয়াড়েরা আরও ভালো ক্রিকেট খেলত।’

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারের পরামর্শে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেয় বিসিবি। দর্শক টানতে দুটি গ্যালারি উম্মুক্ত করে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের জন্য, হয়েছে গানবাজনা আর আতশবাজির উৎসবও।

কিন্তু তাতে বিশ্বকাপের দুঃখটা কি ভোলা গেল? উত্তর আছে লিটনের কথাতেই, ‘আপনি যখন বাইশ গজে নেমে যাবেন, তখন আসলে বাইরে কী হচ্ছে বা কী করবেন, সেটা নিয়ে চিন্তা করার সময় থাকে না। সব খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টের ভেতর ছিল, এখানকার ক্রিকেটটা উপভোগ করেছে।’

অদম্য বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন নুরুল হাসান

তিন দলের টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইটা মূলত হয়েছে দুর্বার ও ধূমকেতুর মধ্যেই। এই দুই দলের সঙ্গে তেমন লড়াই গড়তে পারেননি হাই পারফরম্যান্স ও অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দুরন্ত। পরপর দুই ম্যাচে হেরে বিদায় নেয় তারা।

দুর্বারকে ফাইনালে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নুরুল হাসান। বিপিএলে ৮ ইনিংসে ৪৯ রান করা এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও। প্রথম পর্বে ধূমকেতুর বিপক্ষে বিপর্যয়ের সময় এক পাশে দাঁড়িয়ে ৪৪ বলে ৭৬ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে দলকে জেতান। শরীফুলের এক ওভারে ৪ ছক্কা মেরে ২ ওভারে ৩৩ রানের সমীকরণও মিলিয়ে দেন। ৩ ম্যাচে ১৫৩.৪০ স্ট্রাইক রেটে ১৫৮ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে।

ফাইনালে অবশ্য ৩৪ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি। অল্প সময়ের মধ্যে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে নুরুল বলেছেন, ‘সবাই মাঠে ম্যাচগুলো উপভোগ করেছে, বিশেষত খেলোয়াড়েরা, আমার কাছে মনে হয় যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা টুর্নামেন্ট পেয়েছে। এ সময় হয়তো যেহেতু বিশ্বকাপ খেলছি না, খেলার বিকল্প খুব বেশি ছিল না।’

জাতীয় দলের অধিনায়ক লিটনেরও বিপিএলটা ভালো কাটেনি। ৩ ম্যাচে এক ফিফটিতে ১২৩ রান করেছেন লিটন। বোলারদের মধ্যে সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেননি কেউ। তিন ম্যাচে ৫ উইকেট করে পেয়েছেন মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন আর হাসান মাহমুদ। তাদের মধ্যে মেহেদী এক ম্যাচেই ৪ আর রিশাদ নিয়েছেন ৩ উইকেট।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ভাবনায় এখন ওয়ানডে

বিপিএল আর অদম্য টি–টুয়েন্টি কাপের পর ক্রিকেটাররা আপাতত এক সপ্তাহের ছুটিতে আছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁদের পরবর্তী ব্যস্ততা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণে। ১৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে সেই প্রস্তুতি।

সপ্তাহখানেক প্রস্তুতির পর চার দলের বিসিএল শুরু হবে বগুড়া ও রাজশাহীতে। লিগ পর্বের খেলাগুলো এই দুই ভেন্যুতে হওয়ার পর ফাইনাল হবে ঢাকায়। বিসিএল শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্ট মাথায় রেখেই বিসিএলের ফাইনাল হবে দিবা–রাত্রির।

পাকিস্তান সিরিজের ওয়ানডে ম্যাচগুলো হওয়ার কথা রয়েছে মার্চের ১২, ১৪ ও ১৬ তারিখ। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তত সেরা ৯–এ থাকতে হবে বাংলাদেশকে। গত এক বছর টি–টুয়েন্টিতে ব্যস্ত সময় কাটানোর পর আপাতত তাই মনোযোগটা এই সংস্করণেই।