
রান রেট বাড়ানোর জন্য বড় ব্যবধানে জিততে হবে, না জিতলেও হারের ব্যবধান কম রাখতে হবে—যেকোনো টুর্নামেন্টে এ ধরনের হিসাব–নিকাশ শুরু হয় সাধারণত এক–দুই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর। আর গ্রুপ যদি হয় পাঁচ দলের আর প্রতিটি দলের চারটি করে ম্যাচ থাকে, তবে তো প্রথম ম্যাচ হয়ে ওঠে নির্ভার থেকে অনেকটা ‘গা–গরম’ করে নেওয়ার। কিন্তু আজ কলম্বোয় পাকিস্তানকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে ‘কী না হলে কী হবে’ ভাবনা মাথায় নিয়ে।
‘এ’ গ্রুপে অন্য সব দলের ম্যাচ চারটি হলেও ভারত–ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানের জন্য সেটা তিন। পরের পর্বে ওঠার অঙ্ক তাই আজ নেদারল্যান্ডস ম্যাচ থেকেই কষতে হচ্ছে সালমান আগাদের। কলম্বোয় পাকিস্তান–নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায়। এর চার ঘণ্টা পর আরেক আয়োজক দেশ ভারতে শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ–স্কটল্যান্ড ম্যাচ। কলকাতার ম্যাচটি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুম্বাইয়ে স্বাগতিক ভারত নামবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
প্রথম দিনের তিন ম্যাচেরই বড় মিল—সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ কোনো না কোনো আইসিসি সহযোগী সদস্যদেশ। কিন্তু এর মধ্যেও পাকিস্তান–নেদারল্যান্ডসের ম্যাচের বিশেষত্ব আলাদা। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তান সরকার টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি না খেলার অর্থ পাকিস্তানের শুধু দুটি পয়েন্ট জেতার সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যাওয়া নয়, রান রেটেও বড়সড় ধাক্কা খাওয়া। আর তাই পাকিস্তানকে সুপার এইটের জন্য পয়েন্ট আর স্বাস্থ্যকর রান রেট জোগাড়ের কাজটা করতে হবে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়ার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ থেকেই।
দেশের মাটিতে কিছুটা খর্বশক্তির অস্ট্রেলিয়া দলকে ৩–০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে এলেও সালমানদের জন্য কাজটা সহজ হবে না। একটা কারণ আবহাওয়া। কলম্বোয় পৌঁছানোর পর বৃষ্টির কারণে ওয়ার্মআপ ম্যাচই খেলতে পারেনি পাকিস্তান। সরাসরি নামতে হচ্ছে মূল প্রতিযোগিতায়। আবার আজকের ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের সময়ও বৃষ্টির আভাস আছে। আর বৃষ্টি–বাধা কাটিয়ে ম্যাচ মাঠে গড়ালেও পাকিস্তানের ২ পয়েন্ট তোলার পথটা চ্যালেঞ্জিং।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর বিপক্ষে সহযোগী দেশগুলোর জয়ের ঘটনা আছে মোট ১৫টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪টিই নেদারল্যান্ডসের। যার একটির শিকার হয়ে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্ত থেকে ছিটকে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান অবশ্য নেদারল্যান্ডসের বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য এবং কার্যত দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থাকার চাপকে খুব বেশি আমলে না নেওয়ার কথাই বলেছেন। গতকালের ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কথা ছিল এ রকম, ‘আইসিসি টুর্নামেন্টে প্রায় সব ম্যাচই জেতা লাগে। আমরা সেই মনোভাব নিয়েই এসেছি। আর এখানে আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। কারণ, এ ধরনের দলগুলোর বিপক্ষে খুব একটা খেলা হয় না, তাদের দুর্বলতা জানি না, শক্তির জায়গাও জানি না। এমনকি খেলোয়াড়দের সম্পর্কেও ভালো ধারণা নেই।’
ভারত–ম্যাচ বয়কটের কারণে পাকিস্তান পয়েন্ট ও রান রেটের চাপে থাকবে কি না—প্রশ্ন উঠেছিল নেদারল্যান্ডস দলের সংবাদ সম্মেলনেও। দলটির ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড অবশ্য বিতর্কিত বিষয় এড়িয়েই যেতে চেয়েছেন, ‘বয়কট নিয়ে আমার তেমন কিছু বলার নেই। এটা আমাদের হাতে নেই। আমরা শুধু ম্যাচে মনোযোগ দিয়ে জেতার চেষ্টাই করতে পারি।’
তবে ও’ডাউড–সালমানরা এড়িয়ে যেতে চাইলেও ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের পরোক্ষ প্রভাব আজকের ম্যাচে তো বটেই, ১০ ফেব্রুয়ারির পাকিস্তান–যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচেও থাকার কথা। ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপসহ সর্বশেষ তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টে প্রথম রাউন্ড পার হতে পারেনি পাকিস্তান। সেসবে নিজেদের মাঠের দুর্বলতা ছিল, আবহাওয়ারও ভূমিকা ছিল কিছুটা। এবারও না পারলে তাতে যোগ হবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভূমিকাও। গত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি ৫৪টি ম্যাচ খেলা আর গত ৯ মাসে ৩৪টি টি–টুয়েন্টির ২৪টিতেই জেতা সালমানের দলের সামনে আজকের লক্ষ্যটা নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ছাড়িয়েও অনেক বড়। সব মিলিয়ে শুরুতেই শেষের সমীকরণ মেলানোর এক ম্যাচই খেলতে নামছে পাকিস্তান!