
বাংলাদেশে আসার আগে যেকোনো সফরকারী দলকে একটি বিষয়ের মুখোমুখি হওয়ার মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হয়—মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে খেলা। যেটা কেউই প্রত্যাশা করে না, সেটা পেস ও বাউন্স। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারতের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সিলেবাসের বাইরের বিষয়টি ছিল ইবাদত হোসেনের গতিময় বোলিং।
মিরপুর স্টেডিয়ামে সাকিব আল হাসান বাঁহাতি স্পিন দিয়ে রাজত্ব করবেন, এটাই প্রত্যাশিত। ৪৪টি ওয়ানডে ইনিংসে ৭৩ উইকেট নেওয়া সাকিবই তো মিরপুরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার। বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ৫৩ উইকেট নিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় আছেন ৩ নম্বরে। দুইয়ে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজার উইকেট ৫৫টি। মাশরাফি ও মোস্তাফিজ—দুই পেসারই মিরপুরের উইকেটে আঁটসাঁট লাইন-লেংথে অফ কাটার করে পেয়েছেন সাফল্য।
অতিরিক্ত গতি মিরপুর স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে কার্যকর হতে পারে, এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই। ২০১৪ সালে তাসকিন আহমেদ তাঁর ওয়ানডে অভিষেকে গতি দিয়ে ভারতকে ভড়কে দিয়েছিলেন। সেদিন মিরপুরের উইকেট ছিল সবুজ। কাল ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের উইকেটে পঞ্চম ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়ে এসেছেন তাঁর অফ স্পিন বোলিং নিয়ে। আর প্রথম ওভার থেকেই মিরাজ পাচ্ছিলেন গ্রিপ ও টার্ন। সাকিব নিয়েছেন ৫ উইকেট।
বাংলাদেশে মিরপুর স্টেডিয়াম যদি স্পিন–স্বর্গ হয়, ভারতে সেটা চেন্নাই। কাল সেই শহরে বসেই বাংলাদেশ-ভারতের প্রথম ওয়ানডে দেখছিলেন দিনেশ কার্তিক। পাশাপাশি ক্রিকবাজের ক্রিকেট বিশ্লেষণী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। সাকিবের স্পেল তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত কিছু মনে হয়নি। কিন্তু ইবাদতের গতিময় বোলিংয়ে নেওয়া ৪ উইকেট অবাক করেছে তাঁকে, ‘বাংলাদেশে গেলে আপনি মন্থর উইকেট প্রত্যাশা করবেন। যেটা প্রত্যাশা করবেন না, সেটা পেস ও বাউন্স। আজ উইকেটে সেটাই ছিল। সাকিব তো উইকেট নিয়েছেই। ইবাদতের ৪ উইকেটটাই ভারতের বড় ক্ষতি করে দিয়েছে।’
ইবাদতের গতি ও বাউন্সে মুগ্ধ মনে হচ্ছিল এই ভারতীয় ক্রিকেটারকে, ‘সে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনের পায়ে আসতে দেয়নি। আপনি শর্ট বল তখনই ভালো খেলবেন, যখন শর্ট বলে আপনি সহজাত প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। শর্ট বলের জন্য অপেক্ষা করে ভালো খেলতে পারবেন না। এ ধরনের গতিময় বোলিং খেলার ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানকে সব সময় ফুল লেংথের জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয়। আর কেউ যদি শর্ট বল করে বসে, তখন মস্তিষ্ক বিদ্যুৎগতিতে সহজাত প্রতিক্রিয়া দেখায়। ভারতীয়দের সেটা করতেই দেয়নি ইবাদত।’
ইবাদত অবশ্য নিজের বোলিং পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সাফল্য বড় করে দেখছেন। আজ বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলছিলেন, ‘এমন একটা জয় আমাদের দরকার ছিল। আমরা ওয়ানডেতে খুব ভালো দল। তবু ভারতের বিপক্ষে এই জয়টা আমরা খুব ভালোভাবে উদ্যাপন করেছি।’
গতকালের ঐতিহাসিক জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন সাকিবদের সামনে সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে। পুরো দলের ভাবনা এখন ৭ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে। ইবাদতও সে কথাই বললেন, ‘হয়তো এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছি, এর মানে এই নয় যে সিরিজ জিতে গেছি। কাল আমাদের একটা অনুশীলন সেশন আছে। পরের দিন ম্যাচ। সবাই এখন আত্মবিশ্বাসী। পরের ম্যাচটাও সবাই মিলে ভালো খেলার চেষ্টা করব।’