গোল না করেও ম্যাচসেরা রোনালদো

তাঁর গোলটাই পেয়ে গেছেন মানজুকিচ! রোনালদোর আলিঙ্গন। ছবি: এএফপি
তাঁর গোলটাই পেয়ে গেছেন মানজুকিচ! রোনালদোর আলিঙ্গন। ছবি: এএফপি

সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসার পর। প্রথম গোলের দেখা পেতে ১০ ম্যাচ লেগেছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। স্প্যানিশ লিগে নাম লেখানোর পর অবশ্য অপেক্ষা এত দীর্ঘ হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই গোল পেয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। মাত্রই তো জুভেন্টাসের জার্সিতে দুটি ম্যাচ খেললেন। গোল না পাওয়ায় এখনই এত অধৈর্য হওয়ার কী আছে!

সমস্যা হলো রোনালদো-ভক্তদের চেয়ে বেশি অধৈর্য হয়ে পড়েছেন যেন রোনালদো নিজেই। জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে প্রথম গোলের দেখা পেতে তাঁর মরিয়া ভাবটা চোখেমুখে ফুটে উঠছে। কাল তো খোলা গোলমুখে ট্যাপ ইন করলে গোল হয়—এমন পরিস্থিতিতে গোল করতে পারেননি। অনিচ্ছাকৃত ব্যাক হিলে বল গিয়ে পৌঁছায় মারিও মানজুকিচের কাছে। ক্রোয়াট স্ট্রাইকার ভুল করেননি। সাইড ভলিতে ২-০ করেন। তাতেই জুভেন্টাস জিতে যায় টানা দুই ম্যাচে। আগের গোলটি পিয়ানিচের। লাৎসিও অবশ্য জুভেন্টাসের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল বেশ।

এই মৌসুমে জুভেন্টাস ৫ গোল করে ফেলেছে, তার একটিতেও রোনালদোর নাম নেই। সতীর্থরা গোল করছে আর রোনালদো তাতে কেবল দর্শক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, নিকট অতীতে এতবার এই ছবি দেখতে হয়নি। কাল তো মানজুকিচের গোলের পরও নিজে কিছুক্ষণ হতাশায় দুহাত ঝাড়লেন। সতীর্থের গোলের চেয়ে নিজের গোল মিসের হতাশা এর আগেও বেশ কয়েকবার লুকোতে পারেননি। এই অহংই রোনালদোকে রোনালদো বানিয়েছে।

পরে অবশ্য ঠিকই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন গোল উদ্‌যাপনে। এবার গোল না পেলেও ম্যাচসেরা হয়েছেন ঠিকই। প্রথম ম্যাচের চেয়ে কালকের খেলায় আরও উন্নতি, সতীর্থদের সঙ্গে আরও বেশি বোঝাপড়ার ছাপ ছিল স্পষ্ট। দুই ম্যাচেই অবশ্য তাঁকে গোলবঞ্চিত রেখেছে দুই গোলরক্ষক। কালও রোনালদোর দারুণ একটা শট ফিস্ট করে ঠেকিয়েছেন লাৎসিও গোলরক্ষক স্ট্রাকোশা।

গোল পেতে কতটা মরিয়া রোনালদো! ছবি: এএফপি

কাল ৫টি শট নিয়েছেন, প্রথম ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯টি। ১৪ শটেও গোল এল না। কালকের তিনটি শটই ছিল গোলে। মানজুকিচের গোলের আগমুহূর্তটাই হতে পারত রোনালদোর। তিনি জায়গামতোই ছিলেন। কিন্তু বক্সের ডান প্রান্ত থেকে বাড়িয়ে দেওয়া বল গোলরক্ষকের হাতে লেগে হঠাৎ দিক বদলে যায়। এ কারণে রোনালদো ঠিকমতো শটটা নিতে পারেননি।

গোলই রোনালদোর জ্বালানি। ফলে রোনালদোকে গোল পেতেই হবে। মাতুইদি তা ভালো করেই জানেন। রোনালদোর জুভেন্টাস সতীর্থ বলছেন, শিগগিরই ভূরি ভূরি গোল করতে শুরু করবেন রোনালদো। শুধু রোনালদোর খেলাটা আত্মস্থ করতে হবে সতীর্থদের, ‘আমরা ওকে গোল পেতে সাহায্য করব। কারণ, গোল ওর ডিএনএতে মিশে আছে। আমরা জানি, ও গোল পেলে আমরা অনেক বেশি জিতব। ওর খেলা থেকে আমাদের শিখতে হবে। আর জুভেন্টাসও অন্য ধরনের ফুটবল খেলে। ওর জন্য আর আমাদের জন্যও ওর খেলাটা আমাদের বুঝতে হবে। ও এমন এক খেলোয়াড়, যে দ্রুত ওপরে উঠে যায়। খুবই গতিশীল, আমাদের তাই পরস্পরকে বুঝতে হবে ভালো করে। এখানে আমরা উন্নতি করব। আর আমি জানি, ও ভূরি ভূরি গোল করবে।’

জুভেন্টাসে নাম লেখানোর পর বাড়তি ছুটি পেয়েছিলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের ক্লান্তি যেন মুছে নিতে পারেন। ফলে প্রাক-মৌসুমে দলের সঙ্গী হতে পারেননি। সিরি আ-তে অভিষেক হওয়ার আগে কেবল একটাই প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন জুভেন্টাস বি দলের বিপক্ষে। নতুন দল, নতুন সতীর্থ, নতুন লিগ...মানিয়ে নিতে সময় তো লাগবেই। কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি তাই দুই ম্যাচেই রোনালদোকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলালেন। রোনালদোর জন্য সেরা ছক খুঁজে পেতে গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় পাওলো দিবালাকে পর্যন্ত বসিয়ে রাখলেন।

রোনালদোকে আরও বেশি সময় দিতে চান অ্যালেগ্রি, ‘মাত্র দুই সপ্তাহ হলো ও এখানে এসেছে। ও বুদ্ধিমান, ভালো করেই জানে স্পেনের ফুটবল থেকে ইতালির ফুটবল ভিন্নতর। আজ তো ও রক্ষণেও অনেক ভালো খেলেছে। সবাই ওর প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করছে, তা জানি। আমাদের সঙ্গে যেভাবে ও মানিয়ে নিচ্ছে, তাতে আমি খুশি। আর মানুষ হিসেবেও সে বেশ বিনয়ী।’