ঘরের মাঠে সিটিও হারে!

শিষ্যদের খেলায় খুশি হতে পারেননি সিটি কোচ গার্দিওলা। ছবি: টুইটার
শিষ্যদের খেলায় খুশি হতে পারেননি সিটি কোচ গার্দিওলা। ছবি: টুইটার
>
  • বাসেলের বিপক্ষে ফিরতি লেগ ২-১ গোলে হেরেছে সিটি।
  • দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সিটি।
  • ফিরতি লেগে সর্বোচ্চ পাস খেলার রেকর্ড গড়েছেন গার্দিওলার শিষ্যরা।
  • সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে।
  • খেলার ইতিহাস গড়ল ১৭ বছর বয়সী ফিল ফডেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়েছিল প্রথম লেগেই। বাসেলের মাঠে তারা প্রথম লেগ জিতেছিল ৪-০ গোলে। এরপর আর ফিরতি লেগের লড়াই বলে কিছু থাকে?

সুইস ক্লাবটি কিন্তু কাল রাতে সিটিকে বুঝিয়ে দিয়েছে, ডুবে যাওয়ার সময়েও তারা খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচতে ভালোবাসে। যদিও বাঁচাটা আর হয়ে ওঠেনি, কিন্তু সিটিকে তো হারানো গেছে! কাল রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষায় থাকা দলটিকে বাসেল হারিয়েছে ২-১ গোলে। ঘরের মাঠে এই হার সিটির জন্য তো প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্বাদই।

ঘরের মাঠে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত ছিল পেপ গার্দিওলার দল। বাসেলের মুখোমুখি হয়ে তাদের সেই অপরাজিত যাত্রা মুখ থুবড়ে পড়ল। এর আগে ইতিহাদে সিটি সর্বশেষ হারের মুখ দেখেছে ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর; চেলসির বিপক্ষে। এর পাশাপাশি ঘরের মাঠে টানা ১৩ ম্যাচের জয়যাত্রাও থামল পেপ গার্দিওলার দলের।

অবশ্য শেষ ষোলোর ফিরতি লেগ বলেই হয়তো বাসেলের জন্য জয়টা নিশ্চিত ছিল! অবাক হচ্ছেন? পরিসংখ্যানই যে বলছে চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে সিটি কখনো জিততে পারেনি! তাই বলে সুইস লিগ চ্যাম্পিয়নরা কিন্তু ‘সিটিজেন’দের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ঠেকাতে পারেনি। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের জয়ে ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সিটি।

তবে শেষ ষোলো ফিরতি লেগ জিততে না পারা ‘জুজু’টা কিন্তু ‘সিটিজেন’রা এ ম্যাচে কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছিল। দুর্দান্ত এক দলগত আক্রমণের ফসল হিসেবে ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় গোল তুলে নেন সিটির ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এ বছর প্রথমবারের মতো সিটির প্রথম একাদশে নামলেন তিনি। ১৮ নভেম্বরের পর এটি জেসুসের প্রথম গোল।

কিন্তু জেসুসের এই গোলের আনন্দ টিকে ছিল মাত্র ৯ মিনিট। নরওয়ে ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ এলানৌসি ১৭ মিনিটে দারুণ এক ভলিতে সমতাসূচক গোল করেন। বিরতির পর তাঁর পাস থেকে জয়সূচক গোলটি মাইকেল ল্যানের।

প্রথম লেগেই চার গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা কি এ ম্যাচ কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছিলেন? হতে পারে, কারণ নিয়মিত একাদশ খেলাননি স্প্যানিশ এ কোচ। সেই সুবাদে সিটির প্রথম একাদশে নেমে ইতিহাস গড়েন ‘স্টকপোর্ট ইনিয়েস্তা’ খ্যাত ফিল ফডেন। সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট পর্বে খেলার ইতিহাস গড়ল ১৭ বছর ২৮৩ দিন বয়সী এ মিডফিল্ডার। সর্বশেষ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিল ফডেন।

ফিরতি লেগ হারলেও সিটি কিন্তু পাসিং ফুটবলটা ভালোই খেলেছে। বাসেলের বিপক্ষে ৯৭৮টি পাস খেলেছে সিটি, ২০০৩-০৪ সাল থেকে পাসের হিসাব রাখা শুরুর পর যা সর্বোচ্চ। ঠিক এর তিন দিন আগেই চেলসির বিপক্ষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ পাসের (৯০২) রেকর্ড গড়েছিলেন গার্দিওলার শিষ্যরা।