পগবা মানেই যেন বিতর্ক।
পগবা মানেই যেন বিতর্ক।

পগবা চলে গেলেই ভালো ইউনাইটেডের

ইউরোপা লিগের ড্র হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে। এ প্রতিযোগিতার শেষ ৩২–এ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে স্পেনের রিয়াল সোসিয়েদাদকে। অথচ আজ হয়তো এর এক ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠিত হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ড্রতেই নাম থাকত ইউনাইটেডের। গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পেলেই ইউরোপ–সেরাদের লড়াইয়ে থাকতে পারত ইউনাইটেড।

লাইপজিগের সঙ্গে মহাগুরুত্বপূর্ণ সে ম্যাচের আগেই দলের মানসিক অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের আগের দিনই পল পগবার এজেন্ট দাবি করলেন, ইউনাইটেডে দিন ফুরিয়ে এসেছে এই মিডফিল্ডারের। মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচের আগে বলা এই কথাতেই ইউনাইটেড হেরেছে, এ দাবি দলটির সমর্থকেরাও করবেন না। কিন্তু একটা ক্লাবের মনঃসংযোগ নষ্ট করতে এমন কথাই যথেষ্ট।

ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই পগবা–নাটকের নানা পর্ব দেখছে সবাই। কখনো পগবা, কখনো তাঁর এজেন্ট মিনো রাইওলা একের পর বিতর্কিত মন্তব্য করে ক্লাবকে বিতর্কের মুখে ফেলেছেন। এসব দেখে বিরক্ত হয়ে গেছেন ক্লাবের সাবেক ফুটবলার পল ইন্স। তাঁর ধারণা, পগবাকে ছেড়ে দিলেই ভালো করবে ইউনাইটেড।

সুলশারের জন্য পগবা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছেন।

নিজের সব খেলোয়াড় নিয়েই কথা বলেছেন রাইওলা। তবে গত সপ্তাহে তাঁর সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বেশি সাড়া পড়েছে পগবার অংশ নিয়েই। কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন ২০২২ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও পগবার ইউনাইটেড পর্ব শেষ। ম্যাচের আগে এ নিয়ে বিরক্তির কথাও জানিয়েছেন কোচ উলে গুনার সুলশার। বলেছেন মাঠের বাইরের বিষয়ে নজর দিতে চান না।

এদিকে পগবা আবার ইনস্টাগ্রামে সমালোচকদের শাসিয়েছেন, ভেতরের খবর না জেনে কথা না বলতে। অর্থাৎ আলোচনার কেন্দ্রে যেকোনোভাবেই হোক থাকছেন ফরাসি মিডফিল্ডার। ইন্সের এসব আর ভালো লাগছে না, ‘পল পগবাকে ছেড়ে দিলেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়। যখন ওরা ডনি ফন ডি বিককে আনল, ভেবেছিলাম তাহলে পগবাকে ছেড়ে দিচ্ছে, কিন্তু তা আর হচ্ছে না। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তো নামানোই হলো না। ঘটনাটা আমার জন্য লজ্জাজনক।’

পগবাকে সামলানোর মতো খেলোয়াড় ইউনাইটেডে নেই।

সাবেক মিডফিল্ডারের ধারণা, আগামী মৌসুম পর্যন্তও ক্লাবে থাকবেন না পগবা। স্টেডিয়াম অ্যাস্ট্রোকে বলেছেন, ‘আগামী গ্রীষ্মে তাকে ক্লাবে দেখব বলে মনে হয় না। ওর যেতেই হবে, সে–ও যেতে চায়। এখন বিদায় বলাটাই দুই পক্ষের জন্য ভালো।’

দুদিন পরপর পগবা–সংক্রান্ত নানা খবর সংবাদমাধ্যমে চলে আসে। ইন্সের ধারণা, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতো কোচ থাকলে পগবার এমন আচরণ কখনোই সহ্য করা হতো না। বরং সতীর্থরাই পগবার আচরণ ঠিক করে ফেলতেন, ‘জোসে মরিনিওর সময় বারবার নানা সমস্যার কথা খবরে এসেছে। স্যার ফার্গুসনের সময়ে এটা সম্ভব হতো না, কখনো না। প্রথম দিন থেকে এসব হয়েছে। কখনো সমর্থকদের সঙ্গে একাত্ম হয়নি। পারফরম্যান্স ধারাবাহিক না এবং সমর্থকদের বলে বেড়ায়, সে চলে যেতে চায়। তাই সমর্থকেরাও তার ওপর ভরসা করে না। প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে পগবা বা তার এজেন্টের ব্যাপারে কিছু না কিছু খবর আসে। এতে ক্লাব বা সমর্থকদের মনে বিরক্তি জন্মায়, ড্রেসিংরুমে ঝামেলার জন্ম দেয়। আমাদের সময় রয় কিন, এরিক কান্টোনা, মার্ক হিউজদের সময় এসব ঘটতে পারত না। আমরাই খেলোয়াড়দের সামলাতাম।’